বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রথমবারের মতো থ্রিডি হলোগ্রামে

16
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
শনিবার (৭ মার্চ) ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে জয় বাংলা কনসার্টে হলোগ্রাফিক প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ।

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ২৩টি উক্তি নিয়ে থ্রিডি হলোগ্রাম তৈরি করেছে।

সবার মধ্যে স্বাধীনতার চেতনাকে উজ্জীবিত করা এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা এ হলোগ্রামের উদ্দেশ্য।

১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) তার বজ্র নিনাদ কন্ঠে এক কালোত্তীর্ণ ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সাড়ে ৭ কোটি মুক্তিকামী বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে।

জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইতিমধ্যেই বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

মুজিববর্ষে আরো একবার ফিরে এলো তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে উদ্ভাসিত জয় বাংলা কনসার্ট। বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করতে শনিবার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে বার্ষিক জয়বাংলা কনসার্ট শুরু হয়।

এই কনসার্টে মঞ্চ মাতায় দেশের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ১১ ব্যান্ডদল। সন্ধ্যায় সেখানে বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের সঙ্গে ছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। আরো উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস।

বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ‘ইনট্রয়েট’,‘আর আক্জটা রক ব্যান্ড’ ‘এডভার্ব’,‘সিন’ ও ‘কনক্লুসন’ এই ৫টি ব্যান্ড’র সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শনিবার দুপুর দেড়টায় এ কসসার্ট শুরু হয়।

এরপর, দর্শকদের মনমাতাতে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল এফ মাইনর, মিনার রহমান, এ্যাভয়েড রাফা, শূন্য, ভাইকিং, লালন ও আরবোভাইরাস’র সংগীত পরিবেশন করে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ইতিহাস সময়টাই যেন নেমে এসেছিল ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে। মনে হচ্ছিল যেন একদম জীবন্ত, হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে, ধরা যাবে বঙ্গবন্ধুকে। হাজারো তরুণ-তরুণীর সামনে জয় বাংলা কনসার্টে বঙ্গবন্ধু হাজির হয়েছিলেন চোখের সামনে, ভার্চ্যুয়ালি, হলোগ্রাফিক প্রযুক্তিতে।

পুরো পরিবেশনাটি আরো আবেগময় হয়ে উঠেছিল শুরুতে হলোগ্রাফিক রূপে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার উপস্থিতি।

তাদের মুখে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ৩২ নম্বর সড়কের বাড়ির পরিস্থিতি, মা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের দূরদর্শী পরামর্শের স্মৃতিচারণ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে কবিতার শেষ ক’টি লাইনের আবৃত্তি পুরো পরিবেশকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।

প্রকল্পটির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এন.ডি.ই সল্যুশন লিমিটেড হলোগ্রাফিক প্রযুক্তির কারিগরি দিক বাস্তবায়ন করেছে।

এন.ডি.ই সল্যুশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ এস.এ হোসেইন গণমাধ্যমকে বলেন, হলোগ্রাফি হচ্ছে এমন এক ধরনের ফটোগ্রাফিক প্রযুক্তি; যা কোনো বস্তুর ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ প্রযুক্তিতে তৈরি করা ত্রিমাত্রিক ছবি ‘হলোগ্রাম’ নামে পরিচিত।’

তিনি বলেন, এটি আবারো লাইভ প্রদর্শন করা হবে ‘আগামী ১৯ মার্চ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিতব্য শিশুমেলায়’ এবং ‘তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কংগ্রেস ২০২০’-এ, যা বাংলাদেশে ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া এ হলোগ্রাম ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে দর্শনার্থীদের জন্য স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হবে।

এবারের আয়োজনের বড় চমক ছিল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে হলোগ্রাফিক রিপ্রেজেন্টেশন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ২৩টি বাক্য বাছাই করে নির্মিত হয় এই প্রজেকশন।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি নসরুল হামিদ বিপু গণমাধ্যমকে বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য যেন তরুণরা বুঝতে পারে, এজন্যই এ আয়োজন।

সে দিনটি কেমন ছিল, সেটি হয়তো পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়, তবে এমন লোক সমাগমের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে আমরা সেই অনুভূতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

বঙ্গবন্ধুকে জানতে না পারলে বাংলাদেশকে জানা সম্ভব নয়। তাই মহান নেতাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে এমন আয়োজন নিয়মিত উপহার দেয়া হবে।