মুজিববর্ষে গৃহহীনদের জন্য ঘর করে দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

15
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
মুজিববর্ষে একটি মানুষও যেন গৃহহীন না থাকে- এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শনিবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি। তবে আমি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি একটাই দাবি জানাব। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনেকেই সচ্ছল। তারা চাইলেই গৃহহীনদের জন্য একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা নিজ নিজ এলাকায় যাবেন। খোঁজ নেবেন- কার কার ঘর নেই। সেই তালিকা আমার কাছে পাঠাবেন। আমি ঘর করে দেয়ার ব্যবস্থা নেব। সরকারিভাবে অথবা ট্রাস্টের মাধ্যমে, যেভাবেই হোক আমি ব্যবস্থা করব। মুজিববর্ষে আপনাদের কাছে আমার এই একটাই অনুরোধ।

একথা বলেই তিনি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, চার জাতীয় নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার জন্য আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। সারাবিশ্বের স্বীকৃতি পেয়েছি। সারাজীবন তিনি সংগ্রাম করেছেন। পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্র হওয়ার পরই আমাদের মাতৃভাষার ওপর আঘাত এলো। তারা আমাদের ওপর উর্দু চাপিয়ে দিলো। তখনই বঙ্গবন্ধু সিদ্ধান্ত নিলেন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রেরণা জুগিয়েছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার রক্তক্ষয়ী ৯ মাসে সবসময়ই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ চলতো। মুক্তিযোদ্ধারা এই ভাষণ শুনতেন, তারা যুদ্ধের অনুপ্রেরণা নিতেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ভাষণে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সকলকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশে একটি গেরিলা যুদ্ধে হবে। সেখানে কার কী দায়িত্ব সেকথাও তিনি বলে দিয়েছিলেন। তখন ৩২ নম্বর থেকে যে নির্দেশ আসতে সেই অনুযায়ী দেশ চলত। এমনকী ইয়াহিয়া খান যখন ঢাকায় আসেন তখন বাঙালি বাবুর্চিরা কাজ করবে না বলে জানিয়ে দিল। তখন ৩২ নম্বরে ফোন আসে আপনারা যখন পর্যন্ত না বলবেন ততক্ষণ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট খাবার পাচ্ছেন না।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভবিষ্যদ্বাণী করার অদ্ভুত শক্তি ছিল। ’৭০-এর নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, আমরা নির্বাচনে জয়লাভ করবো। কিন্তু তারা ক্ষমতা দেবে না। পরে আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করব। ৭ মার্চের ভাষণে তিনি সব ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। বক্তৃতা শেষে তিনি একথাও বলেছিলেন তার ওপর আস্থা আছে কি না। জনগণও জানিয়েছিল আস্থা আছে। মানুষ তাদের কথা রেখেছিল। তিনি যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন জনগণ তা আক্ষরিকভাবে পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণই বিশ্বের একমাত্র ভাষণ যার আবেদন এখনও রয়েছে। এখনও এই ভাষণ শুনে মানুষ অনুপ্রাণিত হয়।