৭৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ‘ইয়াবা সম্রাট’ আমিন হুদা মারা গেছেন

13
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
দেশের ‘ইয়াবা সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ও মাদক চোরাচালান মামলায় ৭৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আমিন হুদা মারা গেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।

আমিন হুদার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার রাখা হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবার কবির চৌধুরী জানান, আমিন হুদা বেশ কিছুদিন ধরে বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি ছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে তিনি বিএসএমএমইউ’র প্রিজন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শাখাওয়াত নামে আমিন হুদার এক স্বজন জানান, আমিন হুদা বেশ কিছুদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়বেটিস ও মানসিক রোগে ভুগিছেলেন। সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় তার হার্টে রিং পরানো হয়েছিল।

জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর গুলশানের বাড়ি থেকে আমিন হুদা ও তার সহযোগী আহসানুল হক ওরফে হাসানকে আটক করে র‌্যাব। ওই সময় তাদের কাছ থেকে ৩০ বোতল ফেনসিডিল, ৪৬ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গুলশানের আরেকটি বাসা থেকে ১৩৮ বোতল মদ, এক লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা এবং ইয়াবা বড়ি তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা দুটি মামলায় ২০১২ সালের ১৫ জুলাই আমিন হুদা ও আহসানুল হককে মোট ৭৯ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানার আদেশ দেন বিচারিক আদালত।

এ রায়ের বিরুদ্ধে আমিন হুদা একই বছরের ২৯ জুলাই হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্ট ৩১ জুলাই আপিল গ্রহণ করে নথি তলব ও জারিমানার আদেশ স্থগিত করেন।

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আমিন হুদা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেল শুনানি শেষে ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন।

এ জামিন আদেশের বিরুদ্ধে একই বছরের ১০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে ৫ মে তার জামিন বাতিল করেন আপিল বিভাগ। তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশও দেওয়া হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।