করোনায় মৃত অন্তত ৩৩০০, আক্রান্ত ৯৮ হাজার

16
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক:
কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার। বরং সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস। দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গোটা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন প্রায় ৯৮ হাজার। খবর ‘নিউইয়র্ক টাইমস’।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির শুক্রবারের (৬ মার্চ) খবরে বলা হয়েছে, উৎপত্তিস্থল চীনে নতুন করে তিন শতাধিক লোক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সারাবিশ্বে নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও প্রায় তিন হাজার জন। আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি এই ভাইরাসের কারণে মৃতের সংখ্যাও বেড়েছে।

এদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে বিশ্বের অন্তত ৮৬টি দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ঝুঁকিতে আছে আরও অনেক দেশ। এ অবস্থায় বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

অপরদিকে, করোনা আতঙ্কে বিশ্বের ১০টিরও অধিক রাষ্ট্রের লাখ লাখ শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি চীনজুড়ে স্কুল বন্ধ রাখায় দেশটির প্রায় দুই কোটি শিশু গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যেও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে এখন চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছে ইতালি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭৬৯ জন। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৮৫৮ জনে পৌঁছেছে। আর মারা গেছেন ১৪৮ জন।

ইতালির ২২টি অঞ্চলে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা প্রতিরোধে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশটির সকল স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় অতিরিক্ত ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। কারও শরীরে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।