‘করোনার চিকিৎসা নেই, তাই সতর্ক থাকুন’

13
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
ভোল পাল্টে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে করোনা। এ যাবত পাওয়া গবেষণা বলছে শুরুতে কোভিড-১৯ এর সেরোটাইপ ‘সি’ দিয়ে ছড়ালেও তার ভয়াবহতা ছিল কম। তবে জানুয়ারির পরে সেরোটাইপ ‘এল’ দেখা দিলে বেড়েছে মৃতের সংখ্যা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘সি’ এর তুলনায় ‘এল’ ছড়াচ্ছে কম। তবে সতর্ক থাকতে হবে সবসময়। করোনা হলেই যে সে মারা যাবে এমন নয়। বেশির ভাগ ভালো হয়ে যায়। ৮০ ভাগ ঘরে থাকলেই ভালো হয়ে যায়। হয়তো তারা ‘সি’ দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। আর যারা ‘এল’ দ্বারা তারা হয়তো সিরিয়াস। তবে যাদের অন্যান্য রোগ থাকে এবং এটি দিয়ে আক্রান্ত হয় তাদের ঝুঁকিটা বেশি। ওই ধরনের রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তার মধ্যে কিছু মানুষের আইসিইউ লাগে, কিছু মানুষের নিউমোনিয়া হচ্ছে, এটা হলে দুটি ফুসফুস কাজ করে না। মারা যাচ্ছে আসলে এভাবেই।

এদিকে, বুধবার (০৪ মার্চ) সরকারি নির্দেশনার পর নজরদারি আরও জোরদার করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। একে একে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের দেশের সংখ্যা। এরইমধ্যে বিশ্বজুড়ে আশিটির বেশি দেশ ভুগছে এ কোভিড ১৯ এ। সময় গড়াচ্ছে, বাড়ছে শঙ্কা।

যদিও চিকিৎসক অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, করোনা মানেই আতঙ্ক নয়। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত গবেষণা বলছে কোভিড ১৯ এর সেরোটাইপ দুটি। এস আর এল। এস তুলনামূলক কম ভয়াবহতা নিয়ে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ সেরোটাইপ দিয়ে আক্রান্ত হলে ঘরে বসেই চিকিৎসা সম্ভব। তবে সহজেই এর লক্ষণ বোঝা না যাওয়ায় তা ছড়ায় দ্রুত। অন্যদিকে অল্পসময়েই কাবু করে সেরোটাইপ এল। বিশেষ করে যাদের হার্ট, কিডনি কিংবা অন্য জটিলতা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এ সেরোটাইপ মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যেহেতু সেরোটাইপ এল এ আক্রান্তের সংখ্যা বেশি তাই আতঙ্কিত না হয়ে বরং সচেতনতাই জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, যেহেতু এটার কোনো চিকিৎসা নেই টিকা নেই সুতরাং এটা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়াটাই জরুরি। যাতে প্রথমত এদেশে করোনাটাই ঢুকতেই না পারে তার ব্যবস্থা নেয়া।

এরইমধ্যে আরও সতর্ক অবস্থানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। চীন ফেরত যাত্রীদের জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ অ্যারাইভেল ব্যবস্থা, এছাড়া আগমন ও বহিরাগমন যাত্রীদের জন্য করা হয়েছে আলাদা ওয়াকওয়ে।

করোনা সন্দেহে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শতাধিক ব্যক্তির নমুনা আইইডিসিআর পরীক্ষা করলেও এখনো কারো শরীরে মেলেনি কোভিড ১৯ ভাইরাস।