সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ হবে পদ্মা সেতু প্রকল্পে

9
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
করোনাভাইরাসের প্রভাবে পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগ নির্মাণের কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

বুধবার কেরানীগঞ্জের জাজিরা এলাকায় প্রকল্প কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের (সিআরইসি) পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক ওয়ান কুন।

তিনি বলেন, কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন চীনে সম্পূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ রেখেছে। পাশাপাশি কিছু কর্মকর্তার অ্যাপিডেমিক সেন্টার ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। কাজের সুবিধার্থে রেল প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এখন ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে আমদানি এবং সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য লজিস্টিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে করোনাভাইরাসের প্রভাব প্রশমনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে সিআরইসি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, বাংলাদেশের সব প্রকার পোর্টে (জল, স্থল, আকাশ) থার্মাল স্ক্যানারের মনিটর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ, এ দেশের নিরাপত্তার জন্য এটা খুবই দরকার। শুধু চীন নয়, যেকোনো স্থান থেকে করোনাভাইরাসের আগমন ঘটতে পারে।

করোনাভাইরাসে বাংলাদেশ ঝুঁকির মুখে রয়েছে, জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের হুমকির মধ্যে রয়েছে। কারণ, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের প্রচুর মানুষ এ দেশে যাতায়াত করে।

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, করোনভাইরাসে আক্রান্তদের কোনো সাধারণ হাসপাতালে রাখা ঠিক হবে না। যাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, তাদের বিশেষ স্থানে রাখতে হবে। চীন ও বাংলাদেশ হাতে হাত ধরে এগিয়ে চললে এ ভাইরাস মোকাবিলা করা কঠিন হবে না। তিনটি মূল কথা আমি বলতে চাই—প্রথমত, চীন করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, চীনের প্রকল্প চালু ও বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। তৃতীয়ত, আমি বাংলাদেশ সরকার ও মানুষকে বলতে চাই, চীন এ সংকট জয় করবে। আজ-কাল নয়, এখনই।

তিনি বলেন, যেকোনো প্রকার বড় সমাবেশ পরিহার করতে হবে। যদি ধর্মীয় রীতি পালন করতে হয় তাহলে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা দরকার।

রেলওয়ের পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। করোনাভাইরাসের জন্য কাজের গতি কমে গেছে। ১৬৯ কিলোমিটার লম্বা রেল লাইনসহ আরো ২০০ কিলোমিটার শাখা লাইন, ১৪টা নতুন স্টেশন তৈরি করা হবে। রেল প্রকল্পে ২৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান, চীনা দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কাউন্সিলর লিউ ঝেনহুয়া, সিআরইসির পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের (পিবিআরএলপি) পরিচালক লিউ জিয়ানহুয়া প্রমুখ।