আজ ৩রা মার্চ কুমারখালীর স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন দিবস

41
Print Friendly, PDF & Email

লায়ন রেফুল করিম, কুমারখালী:
আমরা তোমাদের ভূলবো না
শ্রদ্ধায় স্মরণ করি
বাংলার বীর সন্তানদের।
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ সকাল ৭টায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গনমোড়ে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক রেজাউল করিম হান্নান।

সে সময় উপস্হিত ছিলেন, প্রাক্তন সংসদ সদস্য শহীদ গোলাম কিবরিয়া, মরহুম আব্দুল আজিজ খান, আব্দুল মজিদ, আ স ম ওয়াহেদ পান্না, নন্দ গোপাল বিশ্বাস, মসলেম, ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, নারী নেত্রী রওশন আরা বেগম নীলা, বজলুল করিম টগর, ফজলুল করিম নান্নু, কুমারখালী এম এন হাই স্কুল, কুমারখালীর জে এন হাই স্কুল, কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ কুমারখালীর জনসমাগ সামনে শহীদ গোলাম কিবরিয়া নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে পতাকা প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন রেজাউল করিম হান্নান।

এ সম্পর্কে রেজাউল করিম হান্নান জানিয়েছেন “বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রলীগের নেতারা আমাকে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সমন্বয়ককারী ছিল আ স ম ওয়াহেদ পান্না, মন্জু সাত্তার, পরিমল, গনি, নন্দ গোপাল বিশ্বাস, বারী খান প্রমুখ। ২ মার্চ যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে আ স ম আব্দুর রব একটি বাঁশের আগায় স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত পতাকা উত্তোলন করলেন। তখন আমরা আর চুপ করে থাকতে পারিনি। ওই রাতেই মসলেম দর্জি দিয়ে লাল সবুজের পতাকা তৈরি করি আর তার মধ্যে হলুদ কাপড় কেটে বাংলাদেশের মানচিত্র সেলাই করে লাগিয়ে দেই। পরের দিন ৩ মার্চ সকালে প্রাক্তন সংসদ সদস্য শহীদ গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং কুমারখালীবাসীর সামনে আমি স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করি। স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত পতাকা উত্তোলনের জন্য ওইদিন কুমারখালীর গ্রামে গ্রামেও প্রায় চারশত পতাকা বিতরন করা হয়েছিল। নুরে আলম সিদ্দিকী দুজন বৃটিশ সাংবাদিককে নিয়ে কুমারখালীতে এসে আমাকে বাহবাও দিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন, একটি দেশে আর একটি দেশের স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন যেমন দুঃসাহসিক তেমনি গর্বের। আমরা স্বাধীনতার জন্য অনেক ত্যাগ কষ্ট করেছি। দিনের পর দিন না খেয়ে থেকেছি তবুও স্বাধীন আমরা করেছি, দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা বাঙ্গালীর গর্বিত সন্তান। জয় বাংলা”।