তামিমের ব্যাটিং নিয়ে যা বললেন ম্যাকেঞ্জি

15
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রেকর্ড গড়া জয়ে বাংলাদেশ ছন্দে ফিরলেও একটি আলোচনা বিব্রত করছে কোচদের। টানা ব্যর্থতার পাশাপাশি ধীর গতির ব্যাটিংয়ের কারণে তামিম ইকবালের ব্যাটিংয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেই যাচ্ছে।

দীর্ঘ এক সফরের পর জাতীয় দলে জায়গা মেলে। কেবল পরিণতদেরই বড় এই প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে দেওয়া হয়। এখানকার ক্রিকেটারদের নিয়ে কোচদের বিশেষভাবে কাজ করার সুযোগ থাকে না। কারণ লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট একটা ছাঁচে ঢুকে পড়েন ক্রিকেটাররা। কোচদের কাজ থাকে সেটাকেই ঘষেমেজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য আরও বেশি করে উপযোগী করে তোলা।

এই কাজ করার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে বেশ কয়েকজন কোচ আছেন। এদের মধ্যে অনতম প্রধান কোচ রাসেল ডসিঙ্গো, ব্যাটিং পরামর্শক নিল ম্যাকেঞ্জি, বোলিং কোচ ওটিস গিবসন। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করলেও সিনিয়র ক্রিকেটারদের বেলায় সেই সুযোগ থাকে না, ম্যাকেঞ্জির বক্তব্যে সেটা স্পষ্ট।

তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মঙ্গলবার সিলেটে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে রেকর্ড গড়া জয় তুলে নেওয়া বাংলাদেশের লক্ষ্য এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলা। দল দারুণ ছন্দে ফিরলেও একটি আলোচনা বিব্রত করছে বাংলাদেশের কোচদের। টানা ব্যর্থতার পাশাপাশি ধীর গতির ব্যাটিংয়ের কারণে তামিম ইকবালের ব্যাটিংয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেই যাচ্ছে।

দ্বিতীয় ম্যাচের আগেরদিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ১০ মিনিটের মতো কথা বলা নিল ম্যাকেঞ্জিকে বেশিরভাগ প্রশ্ন শুনতে হয়েছে তামিমের ব্যাটিং ভূমিকা প্রসঙ্গে। এক পর্যযায়ে প্রোটিয়া এই কোচ জানান, এমন সিনিয়র ক্রিকেটারকে শেখানোর কিছু নেই। এ ছাড়া বাংলাদেশ দলে তাদের ভূমিকা স্কুল মাস্টারের মতো নয়।

নিল ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘সে (তামিম ইকবাল) ম্যাচের পরিকল্পনা জানে। আমরা এখানে স্কুল মাস্টার নই। আমরা কাউকে বলি না কী শিখতে হবে বা কী করতে হবে। আমরা আমাদের মতামত, ভাবনা এবং কৌশলগত পরামর্শ দিই। কীভাবে এটা ম্যাচে কাজে লাগাবে, এই কাজটি খেলোয়াড়দের।’

ভুল করলে তামিমই সেটা সবার আগে বুঝতে পারেন জানিয়ে ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘আমরা তরুণ কোনো ক্রিকেটার সম্পর্কে বলছি না। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার সম্পর্কে বলছি। বিশ্বাস করুন, আমাদের সবার আগে সে বুঝতে পারে, সে ভুল করেছে। তামিম তার ওপর অনেক বেশি চাপ নিয়ে নেয়। সে তার উইকেটের মূল্য জানে। এ কারণেই সে সফল। সে যদি আর দুই-একটি বেশি বাউন্ডারি পায়, তখন আপনারাই তার পক্ষে কথা বলবেন।’

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকেই খারাপ সময় পার করছেন তামিম। বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া বাঁহাতি এই ওপেনার। নিজেকে ফিরে পেতে লম্বা বিরতি নিয়েও সেভাবে সফল হতে পারেননি তিনি। পাকিস্তান সফরে টি-টোয়েন্টিতে রান পেলেও তার স্ট্রাইক রেট ছিল দৃষ্টিকটু।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে রানের দেখা পাননি তামিম। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ৩৩৪ রানের ইনিংস খেলে যাওয়া বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩৭ রান করেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও বড় ইনিংস খেলা হয়নি তার। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৪৩ বলে ২৪ রান করার পর অভিজ্ঞ এই ওপেনারের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।