১৩ হাজার কল পেয়েও কিছু করেনি দিল্লি পুলিশ

23
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক:
দিল্লিতে মুসলমানদের ওপর চালানো নৃশংস হামলা নিয়ে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে ১৩ হাজারের বেশি ফোন পেয়েও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি দিল্লি পুলিশ।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধীদের চালানো সহিংসতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লি। তাতে এখন পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২০০ এর বেশি মানুষ। এই সময়ে পুলিশের কাছে আসে প্রায় ১৩ হাজার কল। ২৩ তারিখ (রোববার) বিক্ষোভের প্রথম দিন সন্ধ্যাতেই ৭০০ ফোন গিয়েছিল পুলিশের কাছে।

২৪ তারিখে একধাক্কায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫০০। ২৫ ফেব্রুয়ারি ৭ হাজার ৫০০ ফোন পায় পুলিশ। ওই দিন রাত থেকেই আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তারপর দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫০০টি ফোন পেয়েছিল দিল্লি পুলিশ। এসব কলের অনেকগুলোতেই গুলি চলা ও আগুন লাগানোর অভিযোগ ছিল। তবে এই অভিযোগগুলো লেখা থাকলেও অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ কী করেছে তা জানানো হয়নি।

পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জন্যই সহিংসতা এমন চরম আকার ধারণ করে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ফোনে বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

দিল্লির যেসবস্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, সেখানেকার বাসিন্দারা বলেছেন, পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল বলেই হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে পেরেছে। পুলিশ প্রতিরোধ করলে এ ধরনের ঘটনাই ঘটত না।

তাদের অভিযোগ, ফোনে বার বার অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিজেপি কাউন্সিলর প্রমোদ গুপ্ত অভিযোগ করেছেন, পুলিশ তাঁর ফোনই ধরেনি। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না।

দিল্লির ‘রাজধানী পাবলিক স্কুল’-এর মালিক ফয়জল ফারুখ অভিযোগ করেন, সোমবার স্কুলে হামলা চালায় তাণ্ডবকারীরা। বারবার পুলিশকে ফোন দিয়ে শেষ পর্যন্ত আশ্বাস পেলেও স্কুল চত্বরে যায়নি পুলিশ।

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আণ্দোলনের মধ্যে দিল্লির এই সহিংসতাকে ‘পরিকল্পিত ধর্মীয় দাঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের সমালোচনা করছেন বিভিন্ন দেশের মানুষ।