পিলখানা হত্যা মামলার বাংলা রায়ের কপি স্থায়ী সংরক্ষণে জাতীয় আরকাইভসে সুপ্রীমকোর্টের হস্তান্তর

53
Print Friendly, PDF & Email

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণাসেবার জন্য বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষা বাংলায় লেখা ১৬,৫৫২ পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক রায়ের অনুলিপি এবার জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরে হস্তান্তর করেছে দেশের সর্বোচ আদালত সুপ্রীম কোর্ট।

গবেষনামুলক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক তাপমাত্রায় পরিচর্যার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৩টি ভলিউমে রায়ের কপি হস্তান্তর করে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃপক্ষ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন এই অধিদপ্তরে তা ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি হিসাবে সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং পরিচর্যা ও গবেষণাসেবা প্রদান করে দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।

হাইকোর্টের বৃহত্তর বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষা বাংলায় লেখা ১৬,৫৫২ পৃষ্ঠার রায়ের ৩৩ খন্ডের ভলিউম আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রীম কোর্টের কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন রেজিস্টার জেনারেল মো: আলী আকবর। অনুলিপি গ্রহণ করেন জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: আলী আকবর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সুপ্রীম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ও হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্টার মো: রুহুল আমিন প্রমুখ।

এ সময় জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: আলী আকবর ভলিউমগুলো গ্রহণ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত: এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যা মামলার (নম্বর ৫৮/২০১৩) ডেথ রেফারেন্স ও আপীলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষা বাংলায় লেখা ১৬,৫৫২ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. জীনাত ইমতিয়াজ আলী এবং পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী নিকট হস্তান্তর করা হয়।

বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষা বাংলায় লেখা রায়ের পর্যবেক্ষণের অনুলিপি হস্তান্তরকালে সুপ্রীম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৮ শব্দে বাংলায় লিখিত সর্ববৃহৎ ও যুগান্তকারী রায় এটি। গবেষকদের সাহায্য করতে তাৎপর্যপূর্ণ এ রায়ে প্রচুর গবেষণামূলক তথ্য রয়েছে। যা জাতির সঠিক ইতিহাস জানতে চমৎকার সহায়ক হবে। তিনি জানান, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া মাতৃভাষা বাংলায় লেখা পিলখানা হত্যা মামলার রায়ের কপি জাতীয় আরকাইভসে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল বরাবর একটি চিঠি দেন। সে আলোকে সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে আজ বাংলায় লেখা রায়ের পর্যবেক্ষণের অনুলিপি হস্তান্তর করা হল।

রায়ের ভলিউমগুলি হাতে পেয়ে তার প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: আলী আকবর বলেন, জাতীয় আরকাইভস অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ৯(২)(ডি) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস দেশের সরকারি, আধাসরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সমুহের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণসম্পন্ন দলিলপত্র, রেকর্ড/নথিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি, প্রকাশনা, ছবি, ম্যাপ, পোষ্টার ইত্যাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং পরিচর্যা ও গবেষণাসেবা প্রদান করে। জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া মাননীয় বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষা বাংলায় লেখা ১৬,৫৫২ পৃষ্ঠার রায়ের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করে গবেষণা ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য রায়ের অনুলিপি জাতীয় আরকাইভসে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের এ উদ্যাগ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, বিচারপতি মো: শওকত হোসেন এবং বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদারের হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নবেম্বর উন্মুক্ত আদালতে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। তারও দুই বছর পর গত ৮ জানুয়ারি সকালে তিন বিচারপতির সই করা পূর্ণাঙ্গ রায়টি সংশ্লিষ্ট শাখা প্রকাশ করে। বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর বাংলায় লেখা ১৬ হাজার ৫৫২ পাতার রায়ে মামলার প্রেক্ষাপট, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও নৃশংসতার সচিত্র পর্যবেক্ষণ, প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক আইনের প্রয়োগ এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণের সঙ্গে বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার একমত পোষণ করেছেন।

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট (www.supremecourt.gov.bd)-তে তিন বিচারপতির দেওয়া ২৯,০৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ও প্রকাশিত হয়েছে।