বেনাপোলে দু’বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলা

19
Print Friendly, PDF & Email

যশোর থেকে করসপন্ডেন্ট:
প্রতিবছর ভাব-গাম্ভীর্য পরিবেশে বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে উদযাপিত হয়েছে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে শুরু হয় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। আর একে কেন্দ্র করে হয়ে উঠেছিল দু’বাংলার মিলনমেলায়।

দুই বাংলার ভাষা-ভাষী মানুষ যার যার দেশের সীমান্ত রেখায় একুশ উদযাপনের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়।

সকাল হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা ভাষা-ভাষী মানুষ বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে জড়ো হতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টায় ভারতের ২১ উদযাপন কমিটি ও বেনাপোল ২১ উদযাপন কমিটি নোম্যান্সল্যান্ডে স্থাপিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় বেনাপোল একুশে উদযাপন কমিটির নির্ধারিত গুটিকতক সাংবাদিক ছাড়া নোম্যান্সল্যান্ডে বিজিবির বাধার কারণে প্রবেশ করতে পারেননি।

বিজিবি ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক সেলিম রেজার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, একুশ উদযাপন কমিটির নির্ধারিত সাংবাদিক ছাড়া নোম্যান্স ল্যান্ডে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।

শত শত বছর দুই বাংলার মানুষের মধ্যে রয়েছে নাড়ির টান। ভাষার টানে সকাল থেকে দু’বাংলার মানুষ বেনাপোল নোমান্সল্যান্ডের মোহনায় আনন্দে আবগাহনে মেতে উঠেন।

দুপুরে বেনাপোল সীমান্ত রেখার একুশে উদযাপন মঞ্চে একসাথে মিলিত হন দু’দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও একুশ উদযাপন কমিটি।

প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, এপার-ওপার বাংলার মানুষের মধ্যে রয়েছে নাড়ির টান। বিশ্বকবি রন্দ্রীনাথ ঠাকুরের বাড়িও বাংলাদেশে। দু’বাংলার ভাষা-ভাষী মানুষরা পুরো একটি বছর তাকিয়ে থাকেন মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের জন্য। দিনটিতে অসংখ্য ভাষাপ্রেমি মানুষ বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে জড়ো হয়ে তাদের পরিচিতজনদের সাথে মিলিত হন। আজ যারা এ মঞ্চে আছেন আগামীতে হয়তো তারা থাকবেন না। কিন্তু এ অনুষ্ঠান থাকবে আজীবন ধরে। আশা করি ভবিষ্যতে একদিন এ কাঁটাতারের বেড়া থাকবে না। সেদিন দু’বাংলার মানুষ আবার একসাথে বসবাস করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন স্বপন ভট্টাাচার্য।

মিলনমেলায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশের বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার সরকার, ৪৯ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সঙ্গীত শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায় ও ফতেমা-তুজ-জোহরা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্ম নুরুজ্জামান, সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ওপার বাংলার আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতি প্রিয় মলিক, বনগাঁ পৌরসভার মেয়র শঙ্কর ডাকু, বনগাঁ লোকসভার সংসদ সদস্য মমতা ঠাকুর, উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের সভাপতি রেহেনা খাতুন ও কৃষ্ণ গোপাল ব্যানার্জী, বনগাঁ (দক্ষিণ) বিধানসভা বিধায়ক সুরজিৎ বিশ্বাস ও (উত্তর) বিশ্বজিৎ দাস, প্রাক্তন বিধায়ক ও জেলা আঞ্চলিক পরিবহন দফতরের সদস্য গোপাল শেঠ, পশ্চিমবাংলার কবি ও লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সঙ্গীত শিল্পী অনুপম রায়।

একুশে ফেব্রুয়ারির আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই বাংলার সীমানা মঞ্চে আমন্ত্রিত শিল্পীরা ভাষার গান পরিবেশন করেন।