কুষ্টিয়ার প্রথম শহীদ মিনার কুমারখালীতে নির্মিত!

454
১৯৬৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী কু্ষ্টিয়ার প্রথম এ শহীদ মিনার নির্মান করা হয় কুমারখালী উপজেলায়।
Print Friendly, PDF & Email

লায়ন রেফুল করিম, কুমারখালী:
১৯৬৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী এবং বঙ্গাব্দ ১৩৭৫, কু্ষ্টিয়ার প্রথম শহীদ মিনার নির্মান করেছিলেন কুমারখালীর প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল করিম হান্নান। তিনি নিজেই সে স্মৃতির শহীদ মিনারের নকশাকারকও ছিলেন। কুমারখালীর জে এন হাইস্কুলের মাঠে ভেটুল তলায় শহীদ মিনারটি কিছু স্বাধীনচেতা মানুষের সহযোগিতায় সে সময় নির্মান করেছিলেন তিনি।

চাঞ্চল্যকর এ তথ্যটি প্রায় পাঁচ দশক পর ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নিজের এফবি পোষ্টে প্রকাশ করে সামনে এনেছিলেন সাংস্কৃতিক ও সংগঠক রেফুল করিম নামের ইউজার। তিনি লিখেছেন, সে সময় রেজাউল করিম হান্নানের সাথে ছিলেন, নন্দ গোপাল বিশ্বাস, অসম ওয়াহেদ পান্না, মসলেম, বজলুল করিম টগর, ফজলুল করিম নান্নু, ছাত্রলীগের কিছু নেতা এবং তৎকালীন নারী নেত্রী রওশন আরা নীলা। সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর মরহুম গোলাম কিবরিয়া, মুন্সী রসিদার রহমান বিশ্বাস ও কুমারখালী বাজারের কিছু ব্যবসায়ী।

১৯৬৮ সালের ২১ শে ফ্রেরুয়ারি শহীদ মিনারটি মরহুম গোলাম কিবরিয়া ফুলদিয়ে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে ওই শহীদ মিনারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মহান মু্ক্তিযুদ্ধকালে পাক হানাদার বাহিনী শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে। এ সম্পর্কে শহীদ মিনারের নকশা ও নির্মানকারী বীর মু্ক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম হান্নানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ১৯৬৮ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারীর মাত্র তিনদিন আগে হঠাৎ করেই শহীদ মিনারটি নির্মাণ কারার চিন্তা মাথায় আসে। সেই রাতেই অতি গোপনে আমি, নন্দ, মসলেম, পান্না, ছোট ভাই টগর, নান্নু, নীলাসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য আমার বাবার নিকট থেকে কিছু টাকা আর বাজারের কিছু ব্যবসায়ী কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করি। কুমারখালীর জে এন স্কুলের মাঠে পড়ে থাকা ইট দিয়ে রাতারাতি স্কুলেরই ভেটুল তলায় কু্ষ্টিয়ার প্রথম শহীদ মিনারটি তৈরি করে ছিলাম।

উদ্যোক্তা ও মু্ক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম হান্নান বলে চলেন, শহীদ মিনারটি তৈরি করতে এলঙ্গীপাড়ার বাহাউদ্দিন রাজমিস্ত্রি সে সময় দুই টাকা হাজিরায় কাজও করেছিলেন। তখন সিমেন্ট চার টাকা বস্তা ছিল। ১৯৭১ সালে মু্ক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী কুমারখালীর প্রথম শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয়। দেশ স্বাধীনের পর তিনি ওখানে ফের শহীদ মিনার নির্মান করা হয়। রেজাউল করিম হান্নান আরো জানান, তিনি কুমারখালীতে তিনটি শহিদ মিনার ও একটি মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ নির্মান করেছেন। একটি শহীদ মিনার ‘৭১ সালে পাকিস্থানী বাহিনী ভেঙ্গে ফেলেছে। আর দুইটির একটি কুমারখালীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আর একটি শহীদ মিনার কুমারখালীর গনকবরের পাশে অবস্থিত।

তিনি আরো বলেন, যা কিছু করেছি দেশকে ভালোবেসেই করেছি, দেশের কাছ থেকে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য নয় বরং সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্যই করেছি, এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্যও নয়। দেশের জন্য কাজ করতে চাইলে এমপি বা মন্ত্রী না হলেও করা যায়। আমরা তাই করেছি। আজকাল একুশে ফেব্রুয়ারী বলেন আর বিজয় দিবস বলেন সব কিছুর ভেতর শুধু পোশাকি, দেখানোর প্রতিযোগিটা অনেক বেশীই করে। প্রকৃত দেশপ্রেমিক, শ্রদ্ধাবোধ খুব একটা মানুষের মধ্যে দেখতে পাইনা। নতুন নেতৃত্বেদের ভেতর দেশের থেকে ব্যক্তি স্বার্থই বেশি দেখি। একুশে ফেব্রুয়ারীতে আমাদের সময় বাড়ি থেকে খালিপায়ে হেঁটে যেতাম প্রভাত ফেরীর গান করতে করতে। আর এখন প্রায়ই দেখি অনেকেই জুতা পড়ে শহিদ মিনারে উঠে পড়ে।

অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে কষ্ট আর দুঃখজনক সে সময় যাঁরা শহীদ মিনারটি তৈরি করতে বাঁধা দিয়েছিলো, স্বাধীনতার চরম বিরোধীতা করেছিলো তারাই আজকাল সকলের আগেই ফুলদেয় শহীদ মিনারে! এটাই আমাদের লজ্জা আমাদের বেঁচে থেকে এগুলোও চোখেই দেখতে হচ্ছে”!