’সশস্ত্র বাহিনী কোন ট্রেড ইউনিয়ন নয়, দাবী নিয়ে আন্দোলনের সুযোগ নেই’

33
Print Friendly, PDF & Email

ঋত্বিক তারিক, ঢাকা:
ব্যাপক আলোড়ন সুষ্টিকারী পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ দমন ও হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় বিষয়ে হাইকোর্টের বৃহত্তর বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী তাঁর সুদীর্ঘ রায়ে ঐতিহাসিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপট, অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা, তাৎপর্য এবং গুরুত্ব উল্লেখ করে দিয়েছেন নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ।

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর সম্পাদিত ২৭ লক্ষ ৯০ হাজার ৪ শ’ ৬৮ শব্দের যুগান্তকারী এ রায় বিশ্বের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ হিসেবে ইতোমধ্যেই একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

বিচারপতি সিদ্দিকীর বাংলায় লেখা ১৬ হাজার ৫৫২ পাতার রায়ে মামলার প্রেক্ষাপট, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও নৃশংসতার সচিত্র পর্যবেক্ষণ, প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক আইনের প্রয়োগ এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণের সঙ্গে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার একমত পোষণ করেছেন।

জনস্বার্থ বিবেচনা করে বিচারপতি সিদ্দিকী প্রদত্ত রায়ের আংশিক পর্যবেক্ষণ জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা নিউজবিটোয়েন্টিফোর ডটকম এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ ছাপা হলো পঞ্চম কিস্তি।

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী মামলার রায়ের পর্যবেক্ষনে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখে বাংলাদেশ রাইফেলসের সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকান্ডকে একটি নজিরবিহীন ঘটনা উল্লেখ করে বিভিন্ন দেশের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এত অল্প সময়ে এক সঙ্গে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। ১৯৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনী দীর্ঘ ৯ মাস ধরে নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের হত্যা করেছিল এবং চালিয়েছিল নির্মম পাশবিক নির্যাতন। আর ২০০৯ সালের ২৫/২৬ ফেব্রুয়ারী মাত্র ৩০ ঘন্টায় বিডিআরের সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহীরা নিরস্ত্র সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার পরিজনদের উপর লোমহর্ষক হত্যা ও পাশবিক নির্যাতন সংঘটিত করে পাক হানাদার বাহিনীকে হার মানিয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে ৫৫ জন বাঙালী সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিল। আফ্রিকার রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর গৃহযুদ্ধে ১৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার নজির পাওয়া যায়। দক্ষিণ ফিলিপাইনের বিদ্রোহে ৬ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বাধিক সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল ইন্দোনেশিয়ায়, সেখানে চীনাপন্থি কমিউনিষ্টদের সমর্থনে সংঘটিত ৭ দিনের বিদ্রোহে ১০০ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছিল। আর পিলখানার ঘটনা তাকেও হার মানিয়েছে এ কারণে যে, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখে কার্যত মাত্র কয়েক ঘন্টায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা ছিল নৃশংস, অবর্ননীয়, বর্বরোচিত ও নজিরবিহীন।


বিচারপতি সিদ্দিকী দীর্ঘ পর্যবেক্ষনে বাংলাদেশ রাইফেলসের ২১৮ বছরের বর্ণাঢ্য ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় First Defence Force হিসাবে অতন্দ্র প্রহরী রূপে বাংলাদেশ রাইফেলসের গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস অনস্বীকার্য। মেধা, দক্ষতা ও সুযোগ্য নেতৃত্বে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বারবার প্রমাণিত হয়েছে। মাহাকালের গহ্ববরে গৌরবগাঁথা সে ইতিহাস ও পেশাদারীত্বের ঐতিহ্যকে তারা ভুলুণ্ঠিত করেছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গড়ে ওঠা সুসংগঠিত আধাসামারিক বাহিনী হিসেবে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ রাইফেলসের জোয়ানরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশ্রস্ত্র বাহিনীর ৫৭ জন দেশ প্রেমিক মেধাবী অফিসারসহ ৭৪ জন নিরস্ত্র মানুষ নৃশংসভাবে হত্যাসহ নারী, শিশু এবং গৃহকর্মীকে অমানবিক অত্যাচার করে দেশের আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করেছে। বিদ্রোহীরা রাষ্ট্রর স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়াসহ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের উপর প্রত্যক্ষ হুমকির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এই নারকীয়, নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে বাংলাদেশ রাইফেলসের বিদ্রোহী জোয়ানরা এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। এই কলঙ্কের চিহ্ন তাদের বহুকাল বহন করতে হবে। বিডিআরের বিদ্রোহী সদস্যরা ষড়যন্ত্র, নৃশংস হত্যাকান্ড, অমানবিক নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, অস্ত্রাগার ও ম্যাগজিন ভেঙ্গে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুণ্ঠন, গ্রেনেড বিষ্ফোরন, সশস্ত্র মহড়ার মাধ্যমে সন্ত্রাস এবং জনজীবনে মারাত্মক ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি, সামরিক অফিসারদের লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেয়াসহ নারী পুরুষের মৃত দেহ উলঙ্গ/অর্ধালুঙ্গ অবস্থায় গাদাগাদি করে গনকবর দিয়ে লাশ গুম করার মাধ্যমে ২১৮ বছরের অর্জিত সুনাম বিসর্জনসহ বাহিনীর সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে অবমাননা করেছে, যা কাটিয়ে উঠা সহজ সাধ্য নয়।


বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী পর্যবেক্ষনে উল্লেখ করেছেন, ময়মনসিংহের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল অনিরুদ্দের উপস্থাপিত প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শিত ভয়াবহ দৃশ্য প্রদর্শন করলে উভয় পক্ষের বিজ্ঞ কৌশুলীদের উপস্থিতিতে জনাকৃর্ণ আদালত কক্ষটিতে ছিল পিন পতন নীরবতা। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিভিন্ন গনমাধ্যমে বিদ্রোহীরা ঔদ্ধত্য কণ্ঠে বলে, “সরকার তাদের নিয়ন্ত্রনে, জনগণ তাদের পাশে আছে, তাদের দাবী মানতে হবে, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য বিডিআর থেকে প্রত্যাহার করতে হবে, সেনাবাহিনীর অফিসার দ্বারা তারা নির্যাতিত, বিডিআর ‘সেনাবাহিনী’ থেকে শক্তিশালী। তাদের দাবীর সমর্থনে দেশের সকল বিওপিতে বিদ্রোহ চলবে। সেনাবাহিনী ও তাদের একই অস্ত্র। অপারেশন ডাল ভাতের টাকা দুর্নীতিবাজ সেনা অফিসারগণ আত্মসাৎ করেছে। প্রয়োজনে তাদের কুকুরের মত বিডিআর থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। বিদ্রোহীরা বলে, তারা কোন সেনা অফিসারদের হত্যা করেনি, যদি কোন লাশ পাওয়া যায় তবে ধরে নেব সেনা অফিসাররাই ওদের হত্যা করেছে। ডিজিসহ অবরুদ্ধ সেনা অফিসারগণ তাদের নিয়ন্ত্রনে ভাল আছেন। সেনাবাহিনী পিলখানা আক্রমন করলে তারা পাল্টা জবাব দেবে। প্রয়োজনে ধানমন্ডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় উড়িয়ে দেয়া হবে ইত্যাদি। ভিডিও ফুটেজে ২৫/০২/২০০৯ তারিখ বেলা ৯.৩০ মিনিটে বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে সারাদিনব্যাপী গুলি, মাঝে মাঝে বৃষ্টির মত গুলিবর্ষণ, বিকট শব্দে গ্রেনেডসহ শক্তিশালী বোমা বিষ্ফোরনে প্রকম্পিত হয় আশপাশের এলাকা, সমগ্র পিলখানার আকাশে কালো ধোয়ার কুন্ডলী দৃশ্যমান হয়। বিমান বাহিনীর উড্ডয়নকৃত হেলিকপ্টার থেকে বিদ্রোহ বন্ধের আহবানে লিফলেট বিতরনের সময় বিদ্রোহীদের গুলিবর্ষনের সময় হেলিকপ্টারের তেলের ট্রাংক ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় জরুরী অবতরনের জন্যে ফিরে যাওয়ার দৃশ্য, পিলখানার অভ্যন্তরে উঁচু ভবন ও ৪ নং গেটসহ অন্যান্য সকল গেটে ভারী অস্ত্র স্থাপন, বিদ্রোহীরা রনসাজে সজ্জিত হয়ে পিলখানার ভেতরে মেশিনগান লাগানো পিকআপে করে টহলরত অবস্থায় দেখা যায়। দরবার হলের চেয়ার টেবিল উলট-পালট, জানালা-দরজার কাঁচ ভাঙ্গা, কার্পেট এলোমেলো, মেঝেতে রক্তের দাগ দৃশ্যমান, দরবার হলের সামগ্রিক দৃশ্যে বিদ্ধস্ত অবস্থা পরিস্ফুটিত হয়। এ যেন এক প্রলয়ংকারী টর্নেডো বয়ে গেছে সমগ্র পিলখানাব্যাপী। ডিজির বাংলোর দৃশ্য আরো ভয়াবহ, ডুপ্লেক্স বাসভবনটির সিড়ি বয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য, নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়ালে টানানো ছবি ভাংচুর, বুলেটের নৃশংসতার ছাপ, আলমারী ভেঙ্গে লুটপাটের চিহ্ন, ক্রোকারিজ ভাংচুর, রান্না ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগসহ বিভৎস এক অবর্ণনীয় দৃশ্য। এ দৃশ্যে বিদ্রোহীদের সর্বগ্রাসী জিঘাংসা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ পরিস্কফুটিত হয়েছে। ডিজির বাসভবনে তার স্ত্রী নাজনীন শাকিল শিপু, বেড়াতে আসা অতিথি লেঃ কর্ণেল (অবঃ) দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রৌশুনী ফাতেমা আক্তার লাভলী, গৃহকর্মী কল্পনা বেগম, মালী ফিরোজ মিয়া ও লেঃ কর্ণেল (অবঃ) দেলোয়ার হোসেন বিদ্রোহীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকারই শুধু নয়, তাদের নির্মমভাবে বুলেটের ব্রাশড ফায়ারে সমস্ত শরীর ঝাজরা করে দিয়েছে, যার সত্যতা সুরতহাল ও ময়না তদন্ত রিপোর্ট থেকে প্রমাণ মেলে।


পর্যবেক্ষনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ সকলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে অত্যন্ত ধৈর্য্যরে সাথে শ্বাসরুদ্ধকর ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। ঘটনার অব্যবহিত পরে কামরাঙ্গীর চরে এবং ২৭ ফেব্রুয়ারী গণকবর থেকে নিহত সেনা অফিসারদের লাশ উত্তোলন করা হয়। সেই ভয়াবহ চিত্রের ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ আদালতে প্রদর্শীত হয়েছে। কর্ণেল জাহিদের স্ত্রী, তার স্বামীর অর্ধগলিত দুর্গন্ধযুক্ত লাশ জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে, তাদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। কর্ণেল জাহিদের অবুঝ পুত্র নিলয়ের হৃদয় বিদারক কান্না বর্ণনা করার মত নয়। নিলয় চিৎকার করে বলতে থাকে ৫/৬ দিন তার বাবাকে দেখেনি, কি অপরাধ ছিল তার বাবার, যে বিদ্রোহীরা তার জীবন কেড়ে নিল? আমরা কোথায় যাব? বাবাকে কোথায় পাব? বাবাকে ফিরিয়ে দাও! কে করবে আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার? কর্ণেল জাহিদের পচনধরা ক্ষতবিক্ষত লাশ জড়িয়ে ধরে স্ত্রী/পুত্রের এরূপ আহাজারীতে আদালত কক্ষে অধিকতর নিস্তব্দতা নেমে এসেছিল। আদালত কক্ষে উপস্থিত সকলের হৃদয় স্পর্শ করেছে ভিডিও ফুটেজের ওই সকল মর্মান্তিক দৃশ্য অবলোকনে। কি নৃশংস, নির্মম ঘটনা, কি ভয়াবহতা, এটা কি কেবলমাত্র ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা? না দেশের ১৬ কোটি মানুষের হৃদয়ে বুলেটের আঘাত হানা। জাতি কিভাবে ভুলবে এই বর্বরতা? কি এমন অপরাধ করেছিল সেনাবাহিনীর মেধারী অফিসাররা? কেন, কি উদ্দেশ্যে এই বর্বর হত্যাকান্ড? সশস্ত্র বাহিনী কোন ট্রেড ইউনিয়ন নয়, এখানে দাবী নিয়ে আন্দোলন করার কোন সুযোগ নেই। ২১৮ বছরের ঐতিহ্য ধারণ ও লালন করে সুনামের সাথে গড়ে ওঠা দেশের অতন্দ্র প্রহরী আধা সামরিক বাহিনীর বিভাগীয় কিছু উচ্চাভিলাষী অফিসার এবং একটি স্বার্থান্নেষী মহলের প্ররোচনায় কিছু সৈনিকের নেতৃত্বে বিডিআরের একটি অংশ এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করে সমগ্র বাহিনীকে কলংকিত করেছে। তারা শপথ নিয়েছিল পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হাতে নিয়ে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করবে। সীমান্ত রক্ষায় বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করবে। কিন্তু কেন তারা নিজ দেশের সূর্য সন্তানদের উপর বুলেট চালিয়ে নিঃস্তব্দ করে দিল ৭৪টি তাজা প্রান?? (চলবে)