মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি: বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী

86
Print Friendly, PDF & Email

ঋত্বিক তারিক, ঢাকা:

ব্যাপক আলোড়ন সুষ্টিকারী পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ দমন ও হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় বিষয়ে হাইকোর্টের বৃহত্তর বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী তাঁর সুদীর্ঘ রায়ে ঐতিহাসিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপট, বাহিনীর অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা, তাৎপর্য এবং গুরুত্ব উল্লেখ করে দিয়েছেন নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ।

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর সম্পাদিত ২৭ লক্ষ ৯০ হাজার ৪ শ’ ৬৮ শব্দের যুগান্তকারী এ রায় বিশ্বের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ হিসেবে ইতোমধ্যেই একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

বিচারপতি সিদ্দিকীর বাংলায় লেখা ১৬ হাজার ৫৫২ পাতার রায়ে মামলার প্রেক্ষাপট, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও নৃশংসতার সচিত্র পর্যবেক্ষণ, প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক আইনের প্রয়োগ এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণের সাথে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার একমত পোষণ করেছেন।

জনস্বার্থ বিবেচনা করে বিচারপতি সিদ্দিকী প্রদত্ত রায়ের আংশিক পর্যবেক্ষণ জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা নিউজবিটোয়েন্টিফোর ডটকম এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ ছাপা হলো চতুর্থ কিস্তি।

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী মামলার রায়ের পর্যবেক্ষনে বলেছেন, ঐতিহাসিক কারণেই উল্লেখ করা যায় যে, ১৭৫৭ সালে বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ-দৌলা এদেশীয় বিশ্বাস ঘাতকদের ষড়যন্ত্রে তৎকালীন ভারতবর্ষের মুর্শিদাবাদ জেলায় পলাশীর আম্রকাননে সম্রাজ্যবাদ ইংরেজদের কাছে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হওয়ার মধ্যদিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। সুদীর্ঘ ২১৪ বছর পর পলাশীর আম্রকানন থেকে মাত্র ২৩ মাইল দূরে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (মুজিবনগর) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলার মুকুটহীন সম্রাট, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মনছুর আলী ও কামরুজ্জামানসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মন্ত্রীপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে বাংলার অস্তমিত সূর্য পুনরায় উদিত হয়।

উল্লেখ্য, এসপি মাহবুবের নেতৃত্বে ইপিআর এর ১২ জন জোয়ানসহ আনছার সদস্যরা নবগঠিত সরকারকে প্রথম গার্ড অব অনার প্রদান করে বাংলাদেশের উদ্ভুদয়ের ইতিহাসে তারা স্থান করে নিয়েছে।

প্রবাসী সরকার জেনারেল এমএজি ওসমানীকে রনাঙ্গনের প্রধান (সেনাপ্রধান) নিযুক্ত করে আইনানুগভাবে শুরু হয় বাংলাদেশের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। কুষ্টিয়া জেলার শত্রুমুক্ত করার যুদ্ধে সফল নেতৃত্বদানের জন্যে ইপিআরের মেজর আবু ওসমান চৌধুরীকে রনাঙ্গনের ৮ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়। সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলসের জোয়ানরা অসামান্য অবদান রেখেছে। অনুরুপভাবে ইপিআর বাহিনীর নেতৃত্বে খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্মুখ প্রতিরোধ পাকবাহিনী পরাজিত ও পিছু হঠতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে চুড়ান্ত বিজয় অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ৮ ই জানুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারী স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলসের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) নামকরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশ রাইফেলসের খাঁকি পোশাক পরিবর্তন করে তিন রঙের সংমিশ্রনে ছাপা কাপড়ের ইউনিফর্ম প্রবর্তন করা ছাড়াও আধুনিক সমরাস্ত্রে বাহিনীকে সুসজ্জিত করেন।

মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে সামান্য সংখ্যক প্রাচীন অস্ত্র নিয়ে তৎকালীন ইপিআর বাহিনী এক অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে। আধাসামরিক বাহিনী হয়ে ইপিআরের বীর সৈনিকবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধে অসাধারন বীরত্ব ও সুমহান আত্মত্যাগের ইতিহাস রচনা করে জাতিকে গৌরবান্নিত করেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ইপিআরের সাড়ে ১২ হাজার বাঙালী সৈনিক সরাসরি অংশগ্রহণ করে, অপরিসীম বীরত্বের জন্যে শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া এ বাহিনীর ৮ জন বীর উত্তম, ৩২ জন বীর বিক্রম ও ৭৮ জন বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে ইষ্টপাকিস্তান রাইফেলসের ৮১৭ জন বাঙালী সৈনিক (বীর মুক্তিযোদ্ধা) শহীদ হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ইপিআর বাহিনীর বাঙ্গালী সৈনিকদের অপরিসীম সাহস, দৃঢ় মনোবল, দেশপ্রেম ও চরম আত্মত্যাগ বাঙ্গালি জাতি তথা সারাবিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। দেশমাতৃকার সেবায় পরিবর্তিত বিজিবির সৈনিকরা ভবিষ্যতেও থাকবে নিবেদিত প্রাণ, সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী, জাতি এটাই প্রত্যাশা করে। দেশ রক্ষায় এই বাহিনীর গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস আছে, তাদের মেধা, দক্ষতা আর সুযোগ্য নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়েছে, বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্নিঝড়, সাইক্লোন, আইলা, সিডর, নার্গিস ও নানাবিধ দুর্ঘটনাসহ স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকায় আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে তাদের সাফল্য প্রশংশিত হয়েছে।

২১৮ বছরের অধিককালের ঐতিবাহী আধাসামরিক বাহিনী হিসাবে বিডিআরের নেতৃত্ব শুরু থেকেই সেনাবাহিনীর হাতে ছিল। ফলে সাধারণ জোয়ান ও সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ক্রমান্বয়ে সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে বিডিআর সদস্যদের মধ্যে সেনা অফিসারদের কর্তৃত্ব মেনে না নেয়ার এক প্রচ্ছন্ন মানসিকতা নীরবে সক্রিয় ছিল। উপরন্তু এই ঐদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতায় পুষ্ট হয়ে বাংলাদেশ রাইফেলসের বিভাগীয় কতিপয় উচ্চাভিলাষী সদস্য ও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনা ও উস্কানিতে সাধারণ ও নবাগত সৈনিকগণ প্ররোচিত ও বিভ্রান্ত হয়ে একটি উদ্দেশ্যে বিদ্রোহ স্বতস্পূর্তভাবে অংশগ্রহন করে তারা হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ ও পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে।

বিচারপতি সিদ্দিকী পর্যবেক্ষনে বলেছে, ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাঁর সরকারী বাসভবন যমুনায় বৈঠকে বসে ডিজিসহ উচ্চ পদস্থ্য সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাসহ নানাবিধ অপরাধ কর্মের কথা সম্পর্ণভাবে গোপন করে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে। বিদ্রোহীরা একদিকে দাবী আদায়সহ সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার জন্যে সরকারের প্রধান নির্বাহীকে চাপ সৃষ্টি করে, অন্যদিতে পিলখানার অভ্যন্তরে তাদের সহযোগীদের দরবার হলসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নিহত সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষতবিক্ষত ও বিকৃত রক্তাক্ত লাশ পিকআপ ও ট্রাকে তুলে বিডিআর হাসপাতালে মরচুয়ারী ও পাশ্ববর্তী এলাকায় একত্রিত করে। বিদ্রোহীরা নিহত সেনা অফিসারদের রক্ত পানি দিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজে নিয়োজিত হয়। বিদ্রোহ শুরু হওয়ার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানন এমপি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ মির্জা আজম এমপি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাৎক্ষনিকভাকে বিদ্রোহের কারণ জানার জন্যে ধানমন্ডির ২ নং রাস্তা দিয়ে সাদা পতাকা ও হ্যান্ডমাইক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় পিলখানার ৪ নং গেটে অবস্থিত সশ্রস্ত্র বিগ্রোহীরা তাদের লক্ষ করে গুলি ছোড়ার এ্যাকশনে দেখা যায়। সরকারী প্রতিনিধিদ্বয় নিজেদের জীবনের ঝুকি নিয়ে মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে মাইকে কথা বলতে বলতে ৪ নং গেটের সন্নিকটে উপস্থিত হয়ে তাদের দাবী দাওয়াসহ তারা কেন বিদ্রোহ করেছে তা জানতে চাইলে বিদ্রোহীরা ঔদ্ধত্য কণ্ঠে বলতে থাকে তারা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সাথে কথা বলবে না। বিদ্রোহীরা ঔদ্ধত্যের সাথে বলে, প্রধানমন্ত্রীকে পিলখানায় পাঠান, নইলে তারা বিদ্রোহ চালিয়ে যাবে ইত্যাদি। জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম মাইক যোগে তাদের মোবাইল ফোনের নম্বর দেয়ায় বিদ্রোহীরা তাদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে এবং এক পর্যায়ে ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে বিদ্রোহীদের ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর হেয়ার রোডের সরকারী বাসভবন যমুনায় যেতে সম্মত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নুর তাপসসহ নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহীদের ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন যমুনায় যায় এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে যমুনার গেটে ডিএডি তৌহিদের প্রেস ব্রিফিংয়ের দৃশ অবলোকন করা যায়। ডিএডি তৌহিদ প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিদ্রোহীদের পক্ষে আলোচনাকালে তাদের দাবী সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করে এবং প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করে বলে, ‘সরকার আমাদের দাবী মেনে নিয়েছে’ তিনি বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পনের আহবান জানায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ নিয়ে তারা পিলখানায় ফিরে অস্ত্রসমর্পনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকে। ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল অস্ত্র সমর্পন প্রক্রিয়া শুরুর অযুহাতে আরো অধিক সংখ্যক নেতৃস্থানীয় বিদ্রোহীদের সাথে নিয়ে মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে পিলখানার ১ নং গেটের সন্নিকটে হোটেল আম্বালায় দফায় দফায় আলোচনার নামে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। তাছাড়া বিদ্রোহীরা নিরাপত্তার নামে পিলখানার চারদিকে ভারী অস্ত্র স্থাপনসহ সশস্ত্র অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে। একই সাথে তারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সামগ্র পিলখানা এলাকায় সশস্ত্র অবস্থায় টহল অব্যাহত রাখে। ভারী অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন গেটসহ উঁচু দালানের ছাদে অবস্থান নেয় এবং সমগ্র পিলখানা এলাকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসে। বিচারপতি সিদ্দিকী রায়ের পর্যবেক্ষনে, বিডিআরের বিদ্রোহ দমনে সমযোপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনে প্রধানমন্ত্রী, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। পর্যবেক্ষনে বলা হয়েছে, বিডিআর বিদ্রোহের ভয়াবহতা ও আকস্মিকতায় সদ্য নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসীম ধৈর্য্য, বিচক্ষনতা ও সাহসীকতার সাথে দৃঢ় মনোবল নিয়ে শক্ত হাতে বিদ্রোহ দমনের যৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত ছিল দুরদর্শীতাপূর্ণ। বাংলাদেশ রাইফেলসের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নের লক্ষে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্টনায়কচিতভাবে তাঁর গৃহীত দৃঢ় পদক্ষেপ ছিল সমযোপযোগী। পাশাপাশি আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত বিশ্বাস ও অবিচল আস্থা রেখে চরম ধৈর্য্যরে সাথে উদ্ভুদ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমে পেশাদারীত্বের পরিচয় দিয়ে সমগ্র দেশবাসীর ভালবাসা ও সুনাম অর্জন করেছে। (চলবে)