প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত ছিল দূরদর্শিতাপূর্ণ: বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী

44
Print Friendly, PDF & Email

ঋত্বিক তারিক, ঢাকা:
পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ দমন ও হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় বিষয়ে হাইকোর্টের অন্যতম রায়দানকারী বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী তাঁর দীর্ঘ রায়ে ‘ঘটনার পেছনের ঘটনা’ উদ্‌ঘাটনে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছেন।

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর লেখা যুগান্তকারী এই রায়ের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ রাইফেলসের ২১৮ বছরের বর্ণাঢ্য ইতিহাস, মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর অবদান, সেনা অফিসারদের নেতৃত্বের প্রতি বাহিনীর অসন্তোষ, বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট, ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ঘটনার নৃশংসতা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি বিদ্রোহীদের প্রকাশ্য হুমকি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা, বিদ্রোহের লক্ষ্য, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৮ দিনের নবগঠিত সরকারের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ, বিদ্রোহের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি, ঘটনার পেছনের ঘটনা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নজিরবিহীন মামলাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা নিয়ে তিনি গবেষণামূলক সুদীর্ঘ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছেন।

বহুলালোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর সম্পাদিত রায়টি বিশ্বের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ হিসেবে একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনস্বার্থ বিবেচনা করে বিচারপতি সিদ্দিকীর রায়ের আংশিক পর্যবেক্ষণটি আজ থেকে জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা নিউজবিটোয়েন্টিফোর ডটকম এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ ছাপা হলো প্রথম কিস্তি।

হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর পিলখানা হত্যা মামলার রায় দিয়েছিলেন। ৮ জানুয়ারি, বুধবার ৭৭৪ দিনের মাথায় বিডিআর হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হলো। ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের মধ্যে ১৬ হাজার ৫৫২ পাতার রায় লিখেছেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী। তিনি তাঁর রায়ে ১১ দফা নির্দেশনাও দিয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন সংক্ষিপ্ত সূচনা বক্তব্যের পর জনাকীর্ণ আদালতে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী সারা দিনব্যাপী নজিরবিহীন এই মামলায় সুদীর্ঘ পর্যবেক্ষণ দেন। পরদিন অপর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের পর্যবেক্ষণ শেষে তিনজন বিচারপতি পর্যায়ক্রমে দণ্ড ও সাজার আদেশ ঘোষণা করেন।

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর বাংলায় লেখা ১৬ হাজার ৫৫২ পাতার রায়ে মামলার প্রেক্ষাপট, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও নৃশংসতার সচিত্র পর্যবেক্ষণ, প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক আইনের প্রয়োগ ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের সঙ্গে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার একমত পোষণ করেছেন।

মামলার বিশালতা, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ বিশেষ করে দণ্ড ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহজে বোঝার এবং ‘তোমরা বাংলায় রায় লিখ’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক উক্তিটির বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী রায়টি বাংলায় লিখেছেন।

পিলখানা হত্যা মামলার ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় বুধবার

বিডিআর বিদ্রোহের ভয়াবহতা ও আকস্মিকতায় সদ্য নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসীম ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দৃঢ় মনোবল নিয়ে শক্ত হাতে বিদ্রোহ দমনের যৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত ছিল দূরদর্শিতাপূর্ণ। বাংলাদেশ রাইফেলসের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নের লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিতভাবে তার গৃহীত দৃঢ় পদক্ষেপ ছিল সময়োপযোগী। পাশাপাশি আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশিক্ষিত দক্ষ ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত বিশ্বাস ও অবিচল আস্থা রেখে চরম ধৈর্যের সঙ্গে উদ্ভূত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে সমগ্র দেশবাসীর ভালবাসা ও সুনাম অর্জন করেছে। গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিডিআর বিদ্রোহে সরকার পতন হলে একটি স্বার্থন্বেষী মহলের লাভবান হওয়ার বিষয়টিই স্পষ্টভাবে সর্বাগ্রে চলে আসে। মামলার সংরক্ষিত প্রাসঙ্গিক দলিলাদি পরীক্ষাসহ বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ঘটনার পেছনের ঘটনা খোঁজ করলে এ রূপ একটি নির্মম চিত্র পরিস্ফুটিত হয়। বহুল আলোচিত বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা মামলায় ১৩৯ জনের মৃত্যুদন্ড ও ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। রায়ে মৃত্যুদন্ডসহ মোট ৫৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে বিচারপতি মোঃ শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স ও আপীল শুনানি শুরু হয়ে ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল ৩৭০ কার্যদিবসে শেষ হয়।

রায়ে বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী তার পর্যবেক্ষণে, বিডিআর বিদ্রোহ দমনে সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে সেনা, বিমান এবং নৌবাহিনীরও প্রশংসা করেছে। বিডিআর বিদ্রোহের ভয়াবহতা ও আকস্মিকতায় সদ্য নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসীম ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দৃঢ় মনোবল নিয়ে শক্ত হাতে বিদ্রোহ দমনের যৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত ছিল দূরদর্শিতাপূর্ণ। বাংলাদেশ রাইফেলসের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নের লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কচিতভাবে তার গৃহীত দৃঢ় পদক্ষেপ ছিল সময়োপযোগী। পাশাপাশি আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশিক্ষিত দক্ষ ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত বিশ্বাস ও অবিচল আস্থা রেখে চরম ধৈর্যের সঙ্গে উদ্ভূত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে সমগ্র দেশবাসীর ভালবাসা ও সুনাম অর্জন করেছে।

পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ রাইফেলসের ২১৮ বছরের বর্ণাঢ্য ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি সিদ্দিকী বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ফাস্ট ডিফেন্স ফোর্স হিসেবে অতন্দ্র প্রহরী রূপে বাংলাদেশ রাইফেলসের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস অনস্বীকার্য। মেধা, দক্ষতা ও সুযোগ্য নেতৃত্বে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বারবার প্রমাণিত হয়েছে। মহাকালের গহ্বরে গৌরব গাঁথা ইতিহাস ও পেশাদারিত্বের ঐতিহ্যকে তারা ভুলণ্ঠিত করেছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গড়ে উঠা সুসংগঠিত আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ রাইফেলসের জোয়ানরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীর ৫৭ জন দেশ প্রেমিক মেধাবী অফিসারসহ ৭৪ জন নিরস্ত্র মানুষ নৃশংসভাবে হত্যাসহ নারী, শিশু ও গৃহকর্মীকে অমানবিক অত্যাচার করে দেশের আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করেছে। বিদ্রোহীরা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়াসহ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের উপর প্রত্যক্ষ হুমকির বাহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এই নারকীয়, নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে বাংলাদেশ রাইফেলসের বিদ্রোহী জোয়ানরা এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। এই কলঙ্কের চিহ্ন তাদের বহুকাল বহন করতে হবে। বিডিআরের বিদ্রোহী সদস্যরা ষড়যন্ত্র, নৃশংস হত্যাকান্ড, অমানবিক নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, অস্ত্রাগার ও ম্যাগজিন ভেঙ্গে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুণ্ঠন, গ্রেনেড বিস্ফোরণ, সশস্ত্র মহড়ার মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জনজীবনে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি, সামরিক অফিসারদের লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেয়াসহ নারী-পুরুষের মৃতদেহ গাদাগাদি করে গণকবর দিয়ে লাশ গুম করার মাধ্যমে ২১৮ বছরের অর্জিত সুনাম বিসর্জনসহ বাহিনীর সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে অবমাননা করেছে। যা কাটিয়ে উঠা সহজ সাধ্য নয়।

বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী তার পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, কোরআনে সূরা নিসার ৯৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন ইমানদারকে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম। সে চিরকাল সেখানেই থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য কঠোর শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। হাদিসে এসেছে, উহুদের যুদ্ধ চলাকালে একজন মুসলমান অপর এক মুসলমানকে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে হত্যা করে। আমাদের মহানবী রাসুলে করিম (সা.) ওহির মাধ্যমে এ সম্পর্কে অবহিত হন এবং যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে হত্যাকারীকে কিসাস করার অর্থাৎ অনুরূপ শাস্তি দেয়ার নির্দেশ দেন এবং তার ক্ষমা প্রার্থনাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

বিচারপতি মোঃ শওকত হোসেন, বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহত্তর বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৭ নবেম্বর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় আসামিদের আপীল ও ডেথরেফারেন্সের শুনানি করে রায় দেন। সংক্ষিপ্ত ওই রায় ঘোষণার পর থেকেই হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার কাজ শুরু করেন বিচারপতিরা। এ রায় প্রকাশের মধ্যদিয়ে ছয় বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ নবেম্বর নিম্ন আদালতের দেয়া রায় অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হলো।

২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করেন ঢাকার বিশেষ জজ জহুরুল হক। ওই বছরের ২৪ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে এ মামলার দায়িত্ব পান মোঃ আখতারুজ্জামান। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সাবেক ও বর্তমান সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা, পুলিশের সাবেক ও বর্তমান আইজি, বেসামরিক ব্যক্তিসহ মোট ১ হাজার ৩৪৫ জনকে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৬৫৪ জন আদালতে জবানবন্দী দেন। ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি সকল ডেথ রেফারেন্স ও ফৌজদারি আপীলের শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চটি গঠন করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন। পরদিন ৫ জানুয়ারি বিশেষ বেঞ্চ বসে ১৮ জানুয়ারি শুনানি শুরুর দিন ধার্য করেন। ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে বিচারপতি মোঃ শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স ও আপীল শুনানি শুরু হয়।