শীতকালীন অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার, ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

12
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বসছে একাদশ জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। এটি চলতি সংসদের ষষ্ঠ ও বছরের প্রথম অধিবেশন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৪টায় অধিবেশন শুরু হবে।

সংবিধান অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। প্রথা অনুযায়ী ওই ভাষণে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। কোনও সংসদ সদস্য মারা গেলে শোক প্রস্তাব শেষে অধিবেশন মুলতবির রেওয়াজ রয়েছে। গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকারের মৃত্যুতে এই অধিবেশনে শোক প্রস্তাব আনার পর কিছুক্ষণ মুলতবি থাকবে অধিবেশন। তারপর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সরকারের এক বছরের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ও আগামী দিনের কর্ম-পরিকল্পনা নিয়ে দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন।

অধিবেশন কত দিন চলবে তা সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। অধিবেশন শুরুর একঘণ্টা আগে সংসদ ভবনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সংসদ সচিবালয়। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংসদ সচিবালয়ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির দফতর ও অধিবেশন কক্ষ সাজানোর পাশাপাশি সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট প্লাজা দিয়ে সংসদ ভবনে প্রবেশ করবেন আবদুল হামিদ। এ কারণে প্রেসিডেন্ট প্লাজা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হেটে যাওয়ার পথে বিছানো হয়েছে লাল কার্পেট।

জানা গেছে, অধিবেশনের প্রথম দিনে গাইবান্ধা-৩ এর সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকারের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর অধিবেশন মুলতবির রেওয়াজ থাকলেও বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিধান থাকায় অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি দিয়ে আবারও শুরু হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।

পরে ওই ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করবেন। এজন্য এই অধিবেশনের মেয়াদ দীর্ঘ হয়ে থাকে।

সাতটি বিলের মধ্যে এ অধিবেশনে তিনটি সরকারি বিল নিয়ে আলোচনা ও পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এগুলো কাস্টমস বিল- ২০১৯, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিল- ২০১৯, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) বিল-২০১৯, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন বিল- ২০১৯, বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল বিল- ২০১৯, বাংলাদেশ বাতিঘর বিল- ২০২০ এবং স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইনান্সশিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান বিল- ২০২০।

গত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়। চলতি সংসদের দ্বিতীয় বছরের প্রথম অধিবেশন ফেব্রুয়ারি মধ্যে শেষ হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে। যে অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের স্পিকারসহ সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন।