বিপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে পরিণতিতে সিলেট থান্ডার

12
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস করসপন্ডেন্টঃ
আগের ১১ ম্যাচে ১ জয় পাওয়া সিলেট থান্ডারের জন্য ম্যাচটি ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিকতার। সে ম্যচেও কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের কাছে হেরে বিপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক অবস্থায় পড়লো সিলেট থান্ডার।

১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের শুরুটা হয়ে বীভৎস। ১০ রানের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা (৪) ও ফারদীন হাসান (১)। চার নম্বরে নামা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও টিকতে পারেনি বেশিক্ষণ (১১)। ৩২ রানে তিন উইকেট হারানো কুমিল্লা প্রথম ১০ ওভারে তুলতে পারে মাত্র ৪৩ রান। এরপর আরও একবার দলের ত্রাণকর্তা হয়ে আবির্ভাব ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডেভিড মালানের, সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৪৮ বলের জুটিতে যোগ করেন ৭২ রান।

তাদের এই জুটিতে চড়েই জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে যায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। দলের বিপর্যয় কাটিয়ে ৪৪ বলে ফিফটিতে পৌঁছানো মালান আউট হন অধিনায়কোচিত ৫৮ রানের ইনিংস খেলে। ৪৯ বলে সমান দুটি করে চার-ছক্কায় ইনিংসটি সাজান টুর্নামেন্টে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৪০০ রান পার করা মালান। মালানের বিদায়ের পর দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নেন সৌম্য সরকার।

শেষ ১০ ওভারে ৯৯ রান প্রয়োজন এমন ম্যাচই কুমিল্লা জিতে নেয় ৫ উইকেট ও ৫ বল হাতে রেখেই। ২০ তম ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে নিজে ফিফটিতে পৌঁছানোর পাশাপাশি দলকে জয়সূচক বাউন্ডারি এনে দেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৩০ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন সৌম্য সরকার।

এই জয়ে ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে খুলনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে কুমিল্লা। সিলেটের হয়ে অফ স্পিনার নাইম হাসান নেন তিন উইকেট, একটি করে শিকার এবাদত হোসেন ও জনসন চার্লসের।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিংয়ের করুণ দশার পরিবরতন হয়নি সিলেটে থান্ডারের। দুই ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও আব্দুল মজিদ রানের দেখা পেলেও বলের সাথে পাল্লা দিয়ে তুলতে পারেননি রান। ফ্লেচারের ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ২২ রান , আব্দুল মজিদ ডেভিড ওয়াইজের শিকার হওয়ার আগে করেন বক্তিগত সর্বোচ্চ ৪০ বলে ৪৫ রান।

১৫ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ২৬ রান করে কিছুটা দ্রুতগতিতে রান তোলার চেষ্টা করেন জনসন চার্লস। শেষদিকে ১১ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ২৩ রান তুলে জীবন মেন্ডিসও আউট হন আল আমিন হোসেনের বলে। মাঝে ১৮ রান আসে মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাট থেকে যদিও বল খেলেছেন ২৫ টি। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানের বেশি করতে পারেনি সিলেট।

কুমিল্লার হয়ে দুটি করে উইকেট শিকার আল আমিন হোশেন ও ডেভিড ওয়াইজের, একটি নেন মুজিব উর রহমান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

সিলেট থান্ডার ১৪১/৫ (২০), ফ্লেচার ২২, মজিদ ৪৫, চার্লস ২৬, মিঠুন ১৮, মেন্ডিস ২৩, মিলন ২*, গাজী ২*; মুজিব ৪-০-২৩-১, আল আমিন ৪-০-৩০-২, ওয়াইজ ৪-০-৩১-২।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১৪৪/৫(১৯.১), থারাঙ্গা ৪, ফারদিন ১, মালান ৫৮, অঙ্কন ১১, সৌম্য ৫৫*, ওয়াইজ ১৩, রাব্বি ০*; এবাদত ৪-০২৬-১, নাইম ৪-০-২১-৩, চার্লস ৩.১-০-৩৪-১।

ফলাফলঃ কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ৫ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ ডেভিড মালান (কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স)।