নিজ শহর কেরমানে শেষশয্যায় শায়িত হলেন সোলাইমানি

12
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক:
নিজ শহর কেরমানে দাফন করা হলো মার্কিন বাহিনীর হামলায় নিহত ইরানি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে। তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন লাখ লাখ মানুষ। ইরান সরকার জানিয়েছে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নেয়।

এদিকে, ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার করার কোন পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার।

চারদিকে হাহাকার। প্রিয় নেতা হারানোর বেদনায় স্তব্ধ গোটা ইরান। কেউ কাঁদছেন, আবার কেউবা শোকে পাথর। এমন শ্বাসরুদ্ধকর বেদনাকে সঙ্গী করে, জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে শেষ বিদায় জানতে কেরমানে হাজির হন লাখো ইরানি। মঙ্গলবার দুপুরে জানাজার পর, শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁকে সেখানে দাফন করা হয়।

এর আগে সোমবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ইমামতিতে অনুষ্ঠিত জানাজায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নেয় বলে জানিয়েছে ইরানি প্রশাসন।

অভিজাত কুদস বাহিনীর প্রধান এবং দেশের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল সোলাইমানির মৃত্যুতে ইরানজুড়ে যখন শোকের মাতম, তখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার পর বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র বিদ্বেষী মনোভাব আরো বেড়েছে। সঠিক সময়ে ওয়াশিংটন উপযুক্ত জবাব পাবে বলে আবারো হুঁশিয়ার করেন তিনি।

এদিকে, ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন সেনাবাহিনীর অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উইলিয়ামের একটি চিঠি নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ইরাকি সেনাবহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে লেখা ওই চিঠিটি সোমবার প্রকাশ হয়। মার্কিন সেনাদের পুনর্মোতায়েন করা হবে বলে তিনি তার চিঠিতে উল্লেখ করেন। তবে পুনর্মোতায়েন বলতে মার্কিন জেনারেল কি বোঝাতে চেয়েছেন, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ইরাকের ভেতরই ভিন্নস্থানে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেয়া হবে, আবার কেউ বলছেন দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলতে চেয়েছেন ওই মার্কিন সেনা কর্মকর্তা।

চিঠি নিয়ে এমন বিভ্রান্তির মধ্যেই, সেনা প্রত্যাহারের কোন পরিকল্পনা পেন্টাগনের নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার। সোমবার ওয়াশিংটনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরাকি পার্লামেন্ট প্রস্তাব পাস করলেও মার্কিন সেনারা সেখানে অবস্থান করবে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার বলেন, ‘মার্কিন সেনা কর্মকর্তার চিঠির বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। তবে আমরা জানার চেষ্টা করছি, তিনি কি বলতে চেয়েছেন। তিনি কোন শব্দ ব্যবহারে ভুলও করে থাকতে পারেন। তবে ইরাক থেকে চলে আসার মতো কোন পরিস্থিতি এখনও হয়নি।’

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর সামরিক জোট ন্যাটো জানিয়েছে, জেনারেল সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর সৃষ্ট সঙ্কটে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে তারা। যদিও জার্মানিসহ জোটের বেশ কয়েকটি দেশ জেনারেল সোলাইমানি হত্যার বিরোধিতা করে আসছে।

ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ বলেন, ‘আমরা একমত, ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্রধারী হতে দেওয়া যাবে না। দেশটি সব সময়ই সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিয়ে আসছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’

এদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের একটি বৈঠকে অংশ নিতে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল।