আতিকের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনে সাংসদ সাহারা!

7
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ায় বিধি-নিষেধ রয়েছে। এই বিধি-নিষেধকে উপেক্ষা করেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করেছেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন।

রবিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর উত্তরার চার নম্বর সেক্টরে এই অফিসের উদ্বোধন করেন ঢাকা-১৮ এর এই সংসদ সদস্য।

আবার আগামী ১০ জানুয়ারির আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা না করার কথা থাকলেও নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করেন আতিকুল ইসলাম।

একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করতে পারেন কি না জানতে চাইলে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, সেখানে কি ব্যানার ছিল? সেটি কি আসলেই নির্বাচনী অফিস কি না? আপনারা প্রমাণপত্র নিয়ে আমার অফিসে আসেন। সত্য হলে আমি ব্যবস্থা নেব।

আর মোবাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে আবুল কাসেম বলেন, আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন ১০ জানুয়ারি থেকে। তারা তো ক্যাম্প করছে, প্রচার তো চালাচ্ছে না। যদিও আমি এর সত্য-মিথ্যা জানি না। তবে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে পারবে না।

আতিকুল ইসলামের একান্ত সচিব সাইফুদ্দিন ইমন অফিস উদ্বোধনে সাহারা খাতুনের উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তরা শাখার নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন।

প্রসঙ্গত, শনিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা উত্তর সিটির আতিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছিল সাংবাদিকদের কাছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘৫ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার সকাল ১০টা ৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশনের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলামের উত্তরা শাখার (বাংলাদেশ ক্লাব: বাড়ি নম্বর ১৩, রোড-৯, সেক্টর ৪, উত্তরা, ঢাকা) নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করা হবে।’

এর আগে গত ২ জানুয়ারি বিকেলে বনানীর ডি ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের ৯৭ নম্বর বাড়িতে আতিকুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধন করা হয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ওই অফিস উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

একটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোটের দিন ও ভোট পরবর্তী ফলাফল পর্যন্ত অফিস দুটির মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। এখান থেকেই অফিসিয়াল সকল প্রকার তথ্য দেওয়া হবে। অফিস দুটি সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের যে কোনো তথ্য এই অফিসগুলো থেকে পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালার ২২ নম্বর ধারা ১ নম্বর উপধারা অনুযায়ী, ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায়-প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারবেন না।’