সিটি নির্বাচনে যে আচরণবিধি মানতে হবে প্রার্থীদের

15
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও তফসিল ঘোষণার পর প্রতীক বরাদ্দের আগে ও পরে প্রার্থীদেরকে নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার।

দুই সিটি মিলে মেয়র পদে ১৩ জনের সঙ্গে সহস্রাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি প্রার্থীদের জন্য প্রতীক বরাদ্দ তারপর প্রচার প্রচারণা আর ৩০ জানুয়ারি হবে ভোটগ্রহণ।

নির্বাচনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সব প্রার্থীর সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে আচরণবিধি ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

যে বিধি বিধান মানতে হবে প্রার্থীদেরঃ
বিধি না মানলে প্রার্থী বা তার সমর্থকের সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সেই সঙ্গে প্রার্থিতা বাতিলসহ নিবন্ধিত দলকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করারও বিধান রেখেছে ইসি।

আচরণবিধিতে যা আছে:

  • প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থী বা দল প্রচারণায় সমান অধিকার ভোগ করবে।
    *প্রার্থী বা তার দল, এমনকি তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী এলাকায় কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান প্রদান বা প্রদানে অঙ্গীকার করতে পারবেন না।
  • কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল বা অন্য কোনো ব্যক্তি প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচার করতে পারবে না।
  • নির্বাচনের আগে প্রার্থী সরকারি সার্কিট হাউজ, ডাক বাংলো বা রেস্ট হাউজে অবস্থান করতে পারবেন না। প্রার্থীর পক্ষে বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিপক্ষে প্রচারণারস্থান হিসেবে সরকারি কার্যালয় বা কর্তৃপক্ষকে ব্যবহার করতে পারবেন না।
  • প্রার্থী বা তার দল বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি পথসভা বা ঘরোয়া সভা ছাড়া অন্য কোনো জনসভা বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। পথসভা করতে চাইলে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে।
  • প্রার্থী প্রচারণায় দৈর্ঘ্যে ৬০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে ৪৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে সাদা-কালো পোস্টার ব্যবহার করতে হবে। পোস্টারে প্রার্থী নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে রাজনৈতিক দলের মনোনিত প্রার্থী হলে দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টার বা লিফলেটে ব্যবহার করতে পারবেন। নির্বাচনী এলাকায় কোনো দেয়াল বা যানবাহনে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগাতে পারবেন না।
  • নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না।
  • মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতি থানায় একটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করতে পারবেন না। আর কাউন্সিলর প্রার্থী ৩০ হাজার ভোটারের জন্য একটি ক্যাম্প এবং সর্বোচ্চ তিনটি ক্যাম্প বা অফিস ব্যবহার করতে পারবেন।
  • প্রার্থী বা তার দল বা অন্য কোনো ব্যাক্তি ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহনে করে মিছিল, মশাল মিছিল বা শোডাউন করতে পারবেন না। প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না।
  • নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের যাতায়াতের জন্য প্রার্থী কোনো যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করতে পারবেন না।
    *কোনো প্রার্থীর পক্ষে রংয়ের কালি, চুন বা কেমিকেল দিয়ে দেয়াল বা যানবাহনে লিখন, মুদ্রন, ছাপচিত্র করে নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারবেন না।
  • প্রার্থীর প্রচারণায় গেইট, তোরণ বা ঘের নির্মাণ করা যাবে না। ৩৬ বর্গমিটারের বেশি স্থান নিয়ে ক্যাম্প বা অফিস নির্মাণ করা যাবে না।
  • প্রার্থীর ছবি বা প্রতীক চিহ্ন সম্বলিত শার্ট, জ্যাকেট বা ফতোয়া ব্যবহার করা যাবে না।
  • মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।
  • একটি ওয়ার্ডে পথসভা বা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে একের অধিক মাইক্রোফোন বা বেশি মাত্রার শব্দের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী এলাকায় দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে মাইক মাইক ব্যবহার করা যাবে।
  • সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তা নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। তবে ওই ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হলে তিনি কেবল ভোট প্রদান করতে পারবেন।
    *নির্বাচনের কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্র, যানবাহন বা অন্য কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ ও কর্মকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহার করতে পারবেন না।
  • নির্বাচনের আগে প্রার্থী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকল্প অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচন করতে পাবরেন না।
  • নির্বাচনী প্রচারণায় স্থায়ী বা অস্থায়ী বিলবোর্ড বা অন্য কোনো কাঠামো স্থাপন ও ব্যবহার করতে পারবেন না।
  • প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ১০ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ হবে ৩০ জানুয়ারি।