জন্মদিনে স্মরণীয় যিনি

14
Print Friendly, PDF & Email

হাসান হাবিব, ঢাকাঃ
আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রথম বিদেশি মহাতারকা। এই রমন লাম্বাই প্রথম আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটকে রঙিন করেছিলেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে শুরু করে মৃত্যর আগ মুহুর্তে ১৯৯৮ মৌসুম পর্যন্ত ঢাকার ক্রিকেট খেলেছিলেন।

১৯৯৮ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু ক্রিকেট স্টেডিয়ামে (বর্তমান জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম) আবাহনীর হয়ে শর্টে ফিল্ডিং করছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষ চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ব্যাট করছিলেন বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপি। সেই ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক আকরাম খাঁনের বদলি হিসেবে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করা উইকেটরক্ষক খালেদ মাসুদ তাকে হেলমেট পড়তে বলায় তিনি বলেছিলেন, ‘আরে ইয়ার, জাস্ট ওয়ান বল’। আর এই এক বলই তার জন্য কাল হয়ে গেল। বাঁহাতি স্পিনার সাইফুল্লাহ খানের বলটিকে অপি সজোরে পুল করলে সেটি গিয়ে তাঁর কানের বাঁ পাশে লেগে হাওয়ায় ভেসে যায়। যেটি পরে লুফে নেন পাইলট।

জয়ের পথে থাকা আবাহনীর খেলোয়াড়দের উদযাপনের মধ্যেই আরেকদিকে তিনি মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে যান। পরে পাইলট ব্যাপারটা খেয়াল করলে দলীয় ডাক্তার ডাঃ জাওয়াদের কাঁধে ভর করে তাকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। ড্রেসিংরুমে গিয়ে বমি করেন। পরে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পথেই জ্ঞান হারিয়ে কোমায় চলে যান তিনি। আর ফিরতে পারেননি। দুইদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মাত্র ৩৮ বয়সেই ২৩ শে ফেব্রুয়ারিতে মারা যান তিনি।

এই তিনি আর কেউ নয়। হ্যাঁ, তিনি আমাদের রমন লাম্বা। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রথম বিদেশি মহাতারকা। এই রমন লাম্বাই প্রথম আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটকে রঙিন করেছিলেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে শুরু করে মৃত্যর আগ মুহুর্তে ১৯৯৮ মৌসুম পর্যন্ত ঢাকার ক্রিকেট খেলেছিলেন। ঢাকার ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়েছিল আবাহনীর হয়ে যেখানে হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরাও, শেষটাও আবাহনীর হয়ে। মাঝে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও জিমসিসি ক্লাবের হয়েও খেলেছিলেন।

ভারতের হয়ে রমন লাম্বার অভিষেক হয় ঘরের মাঠিতে ১৯৮৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। খেলেছিলেন ৫৩ বলে ৬৬ রানের এক দারুন ইনিংস। সবমিলিয়ে ভারতের হয়ে খেলেছিলেন ৪টি টেস্ট ও ৩২ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। রান করেছিলেন যথাক্রমে ১০২ ও ৭৮৩। এই ৪ টেস্টের একটিতে অর্ধশতকও আছে। একদিনের ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১০২ রানের। যেটি তিনি করেছিলেন নিজের অভিষেক সিরিজেই, অজিদের বিপক্ষে। এছাড়া ছয়টি অর্ধশতকও আছে তাঁর।

১৯৮৯ সালের পর তাঁর জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও ঘরোয়া লীগ খেলে গেছেন বেশ দাপটের সাথেই। ১২১ ম্যাচে প্রায় ৫৪ গড়ে (৫৩.৮৪) ৮৭৭৬ রান সেটিরই প্রমাণ দেয়। ৩১ শতকের পাশাপাশি ২৭ হাঁকানো রমন লাম্বার সর্বোচ্চ ইনিংস ৩২০ রানের।

১৯৬০ সালের আজকের দিনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন রমন লাম্বা। শুভ জন্মদিন আমাদের ক্রিকেটের প্রথম মহাতারকা রমন লাম্বা। ওপারে ভালো থাকুন রানা, হিউজদের সাথে।