আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত’ ১২ কাউন্সিলর প্রার্থী

38
Print Friendly, PDF & Email

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
ক্যাসিনো কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা, বাড়ি ও জমি দখল এমনকি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে; এমন ১২ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে আবারও মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বাদ যায়নি অপকর্মের দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন এমন কাউন্সিলরও। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন দিয়ে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছে দলটি। তবে আওয়ামী লীগ বলছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হবে তাদের সমর্থন বাতিল করা হবে।

৩০ জানুয়ারি হবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে ইতোমধ্যেই দলীয় সমর্থন প্রক্রিয়া শেষ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে এদের মধ্যে ১২ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো সম্পৃক্ততাসহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

গুলিস্তানে ফুটপাথের হকার নিয়ন্ত্রণ ও মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে দক্ষিণ সিটির ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদউদ্দিন রতনের বিরুদ্ধে। যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পরিচিত মুখ রতন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ওয়ার্ড ২০) কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন বলেন, অভিযোগ দিতেই পারেন কিন্তু প্রমাণ দিতে হবে। তদন্ত না করে লিখে দিচ্ছেন তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

এছাড়া উত্তর সিটির ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরানের বিরুদ্ধে ফুটপাথ দখল গাড়ি স্ট্যান্ড, বাড়ি দখল ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। আবার কারো কারো বিরুদ্ধে রয়েছে জমি ও নদী তীর দখলের অভিযোগ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ওয়ার্ড ২৭) কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান বলেন, কিছু কিছু পত্রিকা লিখেছেন সেগুলোকে সত্যি বলে মনে করেনি বলেই হয়তো দল থেকে আবার নমিনেশন দেয়া হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ওয়ার্ড ৫৬) কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময় দেখা যায় যোগ্য প্রার্থীকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্ন নেতিবাচক প্রচারণার আশ্রয় নেয়া হয়।

আবার ঢাকা উত্তর সিটির আব্দুর রউফ নান্নু সরকারি জমি দখল করে নিজের নামে করেছেন নান্নু মার্কেট। শুদ্ধি অভিযানে মাস দুয়েক ছিলেন গা ঢাকা দিয়ে। তিনিও পেয়েছেন দলীয় সমর্থন। এছাড়া উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফার ছেলে মাদক ব্যবসার অভিযোগে আটকও হয়েছিলেন। তিনিও পেয়েছেন কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম জানান, এখনো সুযোগ রযেছে প্রার্থিতা বাতিলের।

তিনি বলেন, মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়, বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে অনেককে বাদ দেয়া হয়েছে। যদি কেউ এমন থেকে থাকে যাচাই-বাছাই চলছে তালিকা থেকে বাদও যেতে পারে।
তবে দলীয় প্রার্থিতা বাছাইয়ে সবোর্চ্চ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।