বঙ্গবন্ধু বিপিএল এবং পেসারদের অন্যরকম গল্প

9
Print Friendly, PDF & Email

হাসান হাবিব, ঢাকাঃ
আগামী অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। যে কারণে এবারের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) বাড়তি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে দল গোছাতে এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে এবারের বিপিএল।

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত পার হয়েছে তিন পর্ব। ঢাকার প্রথম পর্বে বেশি দাপট দেখিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। উইকেট কম কথা বলেছে পেস বোলারদের পক্ষে। ৮ ম্যাচে পেসাররা নিয়েছেন ৫০টি উইকেট। গড়ে ৬টি উইকেট গেছে পেসারদের ঝুলিতে।

চট্টগ্রাম পর্বে খেলা হয়েছে ১২টি ম্যাচ। সেখানে ঢাকার প্রথম পর্বের তুলনায় বেশি দাপট দেখিয়েছেন পেসাররা। ব্যাটসম্যানরা রান করে গেলেও ১২ ম্যাচে পেসাররা শিকার করেন ৮৯টি উইকেট। গড়ে ৭ উইকেট করে নিয়েছেন পেসাররা। 

ঢাকার দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৮টি ম্যাচ। দ্বিতীয় পর্বের উইকেট ছিল অনেকটাই আলাদা। উইকেট থেকে বোলাররা সুবিধা পেয়েছেন, ব্যাটসম্যানরাও তেমন রান তুলতে পারেননি। ৮ ম্যাচে পেসারদের উইকেট সংখ্যা ৬৪টি। গড়ে ৮টি করে উইকেট গিয়েছে পেসারদের খাতায়। 

বিপিএলের আগে মিরপুরের উইকেট থেকে স্পিনাররা বেশি সুবিধা পেতেন। কিন্তু ঢাকা পর্বের বিপিএলের এই ১৬ ম্যাচে পেসারদের মোট উইকেট সংখ্যা ১১৪টি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপ হওয়ায় বিপিএলের উইকেটকেও এমনভাবেই তৈরি করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের উইকেট ব্যাটিং বেশিরভাগ সময় ব্যাটসম্যানদের পক্ষে কথা বললেও বোলারদের পারফরম্যান্স এবার একটু ভিন্ন কথা বলেছে।

এখন পর্যন্ত বিপিএলে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মুস্তাফিজুর রহমানের স্বরূপে ফেরা। বিপিএলের শুরুর মুস্তাফিজ এবং ঢাকা দ্বিতীয় পর্বের মুস্তাফিজের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। ঢাকার প্রথম এবং চট্টগ্রাম পর্বে মাত্র ৫ উইকেট নেয়া এই পেসার রান দিয়েছেন ব্যাগ ভরে। কিন্তু ঢাকার দ্বিতীয় পর্বে উইকেট নেয়ার পাশাপাশি মুস্তাফিজ রানও খরচা করেছেন কম।  

অবশ্য সে জন্য দিনের আলোতে খেলাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন মুস্তাফিজ। জানিয়েছিলেন, দিনের আলোতে খেলা হলে বাড়তি সুবিধা পান তিনি। মুস্তাফিজ বলেছিলেন, ‘দিনে খেলা হলে আমার জন্য খুব ভালো হয়। এ কারণে বল ভালো হয়েছে। চেষ্টা করছি যে কী করলে আরও ভালো হয়। রাতে খেললেও ভালো হবে। আমার বেস্ট অপশনটা হলো কাটার, তাই শুকনো উইকেটে আমার জন্য ভালো হয়।’

তাসকিন আহমেদও আশার আলো দেখিয়েছেন। আসরের শুরুতে নিজের জাত চেনাতে না পেরে বাদ পড়েন একাদশ থেকে। ঢাকার প্রথম পর্বে দুটি ম্যাচ এবং চট্টগ্রাম পর্বের একটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়ে উইকেটশূন্য তিনি। কিন্তু ঢাকার দ্বিতীয় পর্বের একদম শেষ ম্যাচে রংপুরের একাদশে ফিরে আগুন ঝড়ানো বোলিং করেছেন ডানহাতি এই পেসার। ৪ উইকেট তুলে নিয়ে নিজেকে ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি। 

রংপুরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তাসকিন জানিয়েছিলেন, আবারও জাতীয় দলে ফেরার আশা করছেন। তাসকিন বলেন, ‘ইচ্ছা আগের মতো সব ফরম্যাটে বাংলাদেশের হয়ে সুযোগ পাওয়া, দলের একজন মেইন প্লেয়ার হওয়া। যেটা প্রায় ৪-৫ বছর সব ফরম্যাটে খেলেছি। মাঝখানে এক-দেড় বছর জাতীয় দলে আসা যাওয়ার মাঝে ছিলাম। আমার স্বপ্ন থাকবে ফিউচারে আবার যেন বাংলাদেশ টিমের মেইন প্লেয়ার হই।’

মুস্তাফিজ-তাসকিনরা অভিজ্ঞ। খেলছেন ৪-৫ বছর ধরে। অভিজ্ঞরা পারফর্ম করবেন খুব সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু বিপিএলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য বলা যেতে পারে দেশীয় তরুণ পেসারদের পারফরম্যান্স। মকিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান রানা, হাসান মাহমুদ; এই চার তরুণ আলো ছড়াচ্ছেন বিপিএলে। বিশেষ করে মেহেদী হাসান রানা এবং শহিদুল ইসলাম। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ শিকারীদের তালিকায় পাল্লা দিয়ে এগোচ্ছেন তাঁরা।

মকিদুল ইসলামের গতি ইতোমধ্যে মুগ্ধ করেছে সবাইকে। হাসান মাহমুদকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অনেকেই। বিপিএল ছেড়ে যাওয়ার আগে ঢাকা প্লাটুনের পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ বলে গেছেন, হাসানের মতো তরুণদের দেখে রাখতে। ওয়াহাব বলেন, ‘আমি মনে করি এখানে অনেক তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। টুর্নামেন্টের সবগুলো দলেই আমি দেখেছি এমনটা। আমি মনে করি হাসানের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের উচিত হাসানকে আত্মবিশ্বাস দেয়া এবং তাকে নিয়ে কাজ করা। বাংলাদেশের জন্য সে অনেক সম্ভাবনাময়ী একজন ক্রিকেটার।’

বাংলাদেশের তরুণ পেসাররা বিপিএলের মঞ্চে যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন, সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক কাজে লাগবে বলে মনে করেন ঢাকা প্লাটুন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। বিশেষ করে উইকেট বোলারদের পক্ষে কথা না বললে তখন বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পরতে হচ্ছে তরুণদের। 

মাশরাফি বলেন, ‘হান্ড্রেড পারসেন্ট, আপনি যদি চ্যালেঞ্জই না দিতে পারেন। যেমন এর আগে যে রকম উইকেটে খেলতাম, ঢাকায় আরকি। এখানে (চট্টগ্রাম) সব সময় ভালো উইকেট থাকে। ভালো উইকেট মানে ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক। ঢাকায় যে রকম উইকেট পাচ্ছি আমরা, আমার মনে হয় বোলারদের জন্য যে চ্যালেঞ্জটা আছে, এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সময় অনেক কাজে লাগবে।’