২০১৯ এ দেশে ঘটে যাওয়া আলোচিত অপরাধ নামা

20
Print Friendly, PDF & Email

নিউজবিটোয়েন্টিফোর অনলাইন রিপোর্টঃ
শুরুর দিন থেকে শেষের দিনটি পর্যন্ত নানা ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে চলমান মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে আরও একটি বছর। ঘটন-অঘটনকে সঙ্গী করে বিদায় নিচ্ছে ২০১৯। বছর জুড়ে নানা ঘটনার মিছিলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলো অপরাধ।

বরগুনার রিফাত শরিফকে কুপিয়ে হত্যা, ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন, গুজবে কান দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা, ক্যাসিনো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান, আবরার হত্যাসহ নানা ঘটনায় আলোচিত ছিলো ২০১৯।

ফেনির নুসরাত হত্যা: বছরের আলোচিত ঘটনা ছিলো ফেনির সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তাঁর মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। এই ঘটনায় জেলে যেতে হয়েছে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে নিতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার পক্ষ থেকে নুসরাতের পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করার পাশাপাশি বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয়।

এরপরেও মামলা তুলে না নেওয়ায় কারাগার থেকে নির্দেশদেন নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজাঁনোর। কিন্তু সব ফাঁস হয়ে যায়। ঘটনার দিন শনিবার (৬ এপ্রিল) সকালে মাদ্রাসায় পরীক্ষা দিতে আসলে নুসরাতকে পরীক্ষার হলের ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা এবং মুখ বেধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে  হত্যার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু চিৎকার করায় ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনি সদর হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এর ৪ দিন পর চিকিৎসারত অবস্থায় ঢামেকে মারা যান নুসরাত।

পরে একে একে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ১৬ জনকে। গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে রয়েছে মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী, অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার ভাগ্নী, নুসরাতের সহপাঠি, মাদ্রাসা কমিটির সভাপতিসহ ঘটনার প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে জরিতরা। আর এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জরিত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ১৬ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এখন শুধু সেই রায় বাস্তবায়নের অপেক্ষা।

রিফাত শরিফ হত্যা: বছরের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকান্ডগুলোর মধ্যে ছিলো বরগুনার রিফাত শরিফ হত্যাকান্ড।
সেদিন বুধবার (২৬ জুন) সকালে স্ত্রী মিন্নিকে কলেজে দিতে এসেছিলেন রিফাত। কিন্তু পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা বরগুনার সরকারি কলেজ গেটের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে প্রথমে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। এরপর তাকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতাল এবং পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে নেয়ার পর সেখানেই মারা যায় রিফাত।

এরপরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায় রিফাত শরিফকে কপিয়ে হত্যাচেষ্টার সেই ভিডিও। দেশব্যাপি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়, প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডের  বিষয়টি। এরপর দাবি ওঠে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জরিতদের বিচারের আওতায় আনার। একে একে প্রকাশিত হতে থাকে হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য এবং জরিতদের নাম। এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে আসে রিফাত শরিফের এক সময়ের বন্ধু এবং স্ত্রী মিন্নির সাবেক প্রেমিক নয়ন বন্ডের নাম।

এর এক সপ্তাহ পরে সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড (২৫) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
একে একে গ্রেফতার করা হয় স্ত্রী মিন্নিসহ বন্ড বাহিনীর ২৪ সদস্যকে। বর্তমানে প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার চার্জশীট দাখিলের দিন ধার্য্য করেছেন আদালত।

সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জহান রাফির জবানবন্দির ভিডিওচিত্র ধারণ করা। আর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। সোনাগাজী থানায় শ্লীতাহানীর মামলা দায়েরের পর নুসরাতের পরিবারকে চাপ প্রয়োগ এবং মামলা তদন্তের নির্দেশ দিতে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আর এসব অভিযোগে প্রথমে প্রত্যাহার, পরে বহিষ্কার এবং সর্বশেষ রাজধানীর শাহবাগ থানায় আত্মসমার্পন করে গ্রেফতার হন ওসি মোয়াজ্জেম। এর আগে নুসরাতের জবানবন্দি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তথ্য ও প্রযুক্তি নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আর সেই মামলায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কারাগারে সাঁজা খাটছেন দায়িত্ব অবহেলার চূড়ান্ত পরিচয় দেওয়া এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।

ভয়ংকর কিশোর গ্যাং: উদ্ভট স্টাইলে চুলের কাট। পরনে জিন্স প্যান্ট-টি-শার্ট। দলে দলে পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে বিচরন। আড্ডার নামে ইভটিজিং, পথচারীদের নানাভাবে কটূক্তি, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে বাধে না তাদের। মুখে উচ্চস্বরে বলিউডি গান। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ক্ষেত্রে বয়সের কোনও বিবেচনাও নেই। মায়ের বয়সী নারীকেও অশ্লীল ইঙ্গিত করে তারা। সিগারেট দিয়ে শুরু। তারপর মাদকে ঝুঁকে পড়া। তারপর নেশার টাকা জোগাড় করতে কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ে চুরি ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে।

এ চিত্র ঢাকার উঠতি কিশোরদের গ্যাং কালচারের। এমন কিশোরদের নিয়ে সক্রিয় রাজধানীতে সক্রিয় শতাধিক গ্রুপ। একেকটি গ্রুপকে গ্যাং বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব দল গড়ে উঠছে বিভিন্ন নামে খোলা ফেইসবুক গ্রুপকে কেন্দ্র করে। স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছে, সংগঠিত হচ্ছে। হত্যা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ধরতে মাঠে নামে র‌্যাব। একে একে দমন করা হয় রাজধানীর গুলশান, বনানী, মিরপুর, রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জরিতদের। প্রায় আড়াইশ জনকে আটক করে পাঠানো হয় কিশোর সংশোধনাগারে। আইন শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা আর নিজেদের অপরাধের ভয়াল ছোবল নিয়ে বছর জুড়ে আলোচানায় ছিলো কিশোর গ্যাং।

ফেসবুকে গুজব:  বছরের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলো গুজব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছিলো সরকারের অন্যতম বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের কাটা মাথা লাগবে। আর এই গুজবকে কাজে লাগিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ছেলে ধরা’ সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

ছেলে ধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলো রাজধানীর বাড্ডার তসলিমা বেগম রেনু নিহতের ঘটনা। রেনুর ১১ বছরের এক ছেলে ও চার বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। আড়াই বছর আগে তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিলো। আর এই বিচ্ছেদেরর পর থেকেই মানুষিক সমস্যায় ভুগছিলেন।  ঘটনার দিন রেনু বাড্ডার ওই স্কুলে গিয়েছিলেন তার ছেলে ভর্তি করতে। কিন্তু মানুষিক সমস্যার কারণে তার আচারণ কিছুটা অস্বাভাবিক থাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয় স্কুলের অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হলে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান রেনু।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা: বরগুনার রিফাত এবং নুসরাত হত্যার পর বছরের আরেক আলোচিত হত্যার ঘটনা ঘটে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে। সেদিন  রোববার (৬ অক্টোবর) মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। এ ঘটনাও অন্যসব ঘটনার মতো ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রথমে শিবির কর্মী এবং পরে হলের সিসিটিভি ফুটেজ ডিলেট করে দেওয়া হয়। আর এই ফুটেজ উদ্ধার এবং প্রকাশের দাবিতে ঘটনার প্রথম দিন থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিলো আবরারের সহপাঠিরা।

সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে হলের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়, হল প্রভোষ্ট, শিক্ষক এবং ঘটনাস্থলে যাওয়া ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে। প্রায় ৪ ঘন্টার জিম্মি করে রাখার পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ফুটেজ প্রকাশে বাধ্য করে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার পর থেকে প্রথমে ক্যাম্পাসে আন্দোলন, পরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা । এতে বুয়েট কার্যত অচল যায়। তবুও দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষার্থীরা।

আবরার হত্যা, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধসহ ১৫ দফা দাবিতে বুয়েট প্রশাসনকে সময় বেঁধে দেয় শিক্ষার্থীরা। যা এর মধ্যেই বাস্তবায়ন করেছে বিশ্ব বিদ্যালয় প্রশাসন। আবরার হত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে বিচারের প্রক্রিয়ায় থাকা আসামীদের প্রত্যেককে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে বুয়েট প্রশাসন। 

শুদ্ধি অভিযান, জেলে তিন কাউন্সিলর:  চলতি বছরের চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান ছিলো বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চমক। বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাবের আড়ালে চলা ক্যাসিনো খেলা চালানো হতো এসব ক্লাবে। আর একটি সিন্ডিকেট এতোটাই সুরক্ষিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছিলো ভিনদেশি এই খেলা। যা ধরা ছোয়ার বাহিরে ছিলো দীর্ঘদিন। আর এই খেলা পরিচালনার জন্য দেশের প্রায় শতাধিক নেপালি নাগরিকদের আনা হয়েছিলো উচ্চ বেতন দিয়ে। আবার অনেকে পেতেন আয়ের ২০ শতাংশ। প্রতি রাতে ক্যাসিনো থেকে আয় হতো কোটি টাকারও বেশি। ক্লাব পড়ায় ক্যাসিনো খেলা চালানো ১৭ টি ক্লাবের নাম একে একে বেড়িয়ে আসে। ক্যাসিনো চালানো এবং মাসে মাসে টাকা নেওয়ার অভিযোগে শতাধিক আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, কাউন্সিলর, পুলিশ, সাংবাদিক, ব্যবসায়িসহ বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেকের নাম উঠে আসে। একে একে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহনগরের সভাপতি, বিসিবির পরিচালক, কাউন্সিলসহ ৩০ জনসহ অনেককে।

তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের তিন কাউন্সিলর গ্রেফতারের বিষয়টি ছিলো আরো বড় চমক। রাজধানী ঢাকার গুলশান, টিকাটুলি এবং হবিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান, ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও যুবলীগের ঢাকা উত্তরর মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজিব এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জুকে অস্ত্র এবং মাদকসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। অস্ত্র ও মাদক মামলায় বর্তমানে এই তিন কাউন্সিলর কারাগারে রয়েছেন। 

ডাকসু ভিপি নুরের ওপর হামলা: বছরের শেষ পর্যয়ে এসে হামলা, মামলা পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নতুন মাত্রা পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীদের ওপর হামলার ঘটনা। তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা। গত ২২ ডিসেম্বর রোববার বেলা পৌণে ১টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নিয়েছিলো। ডাকসু ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে নুরের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করা হয়। এছাড়াও বাইরে থেকেও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল ছুঁড়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী এ হামলায় অংশ নেয়। এই ঘটনায় নুরুসহ প্রায় ২৪ জন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেয়। এরমধ্যে ৬ জনের অবস্থা বেশি গুরুতর হওয়ায় তারা এখনো ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরই মধ্যে এই ঘটনায় পাল্টা-পাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ৩ নেতাকে।