বাংলাদেশের ‘মান ভাঙাতে’ ভারতের তোড়জোড়

10
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক:
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা অবনতি হয়েছে। এমন অবস্থায় আগামী মার্চে ঢাকা সফরের কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ঢাকার সঙ্গে দিল্লি সুসম্পর্ক গড়েও তোলার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ভারতের কলকাতার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে গত কয়েক বছরে ভারতের যে মন কষাকষি চলছিল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে তা আরও বেড়েছে।

নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে এক কাতারে রেখে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিতর্কিত মন্তব্য ও গত নভেম্বরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কলকাতা সফরে কেন্দ্রের কোনো প্রতিনিধির না থাকার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের অসন্তুষ্টি তীব্র হয়েছে।

অপরদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশের দুই হাইভোল্টেজ মন্ত্রী ও একটি সরকারি প্রতিনিধি দলের ভারত সফর বাতিল করে ঢাকা। যা দেশটির প্রতি মিত্ররাষ্ট্রের অভিমান প্রকাশের দিকটি স্পষ্ট করে তোলে।

এই অবস্থায় প্রতিবেশীদের মধ্যে একমাত্র ভরসাযোগ্য রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের চলতি নেতিবাচক অবস্থা কাটাতে বাড়তি পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছে দিল্লি। আর এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাংলাদেশ সফর সবচেয়ে প্রধান বিষয়।

হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বে এনেও বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইতিবাচক বার্তা দিতে চেষ্টা করছে মোদী সরকার। বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হিসেবে আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন হর্ষবর্ধন। ঢাকায় শুধু ভারতীয় হাইকমিশনারের দায়িত্বই সামলাননি তিনি, বাংলাদেশে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তাও রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উৎসবে তাকে নিয়ে তথ্যচিত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকল্প এবং অনুষ্ঠানে জড়িয়ে রয়েছে ভারত। সূত্রের খবর, হর্ষবর্ধন আগামী জানুয়ারির শেষে দায়িত্ব পাওয়ার পরই এই অনুষ্ঠানগুলোকে সফল করার কাজে হাত দেবেন। ঢাকা সফর করবেন তিনি। এই উৎসবকে সামনে এনে নতুন পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে বিভিন্নস্তরে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথা ভাবছে ভারত। চেষ্টা করছে মান-অভিমানের মেঘ কাটাতে।

গত অক্টোবরে দিল্লি সফরে গিয়ে শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা। পাশাপাশি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের নেতাসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। সেই তালিকায় রয়েছেন- ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, ইউনেস্কোর সাবেক মহাসচিব ইরিনা বুকোভা ও আরব লীগের সাবেক মহাসচিব আমর মুসা।

আমন্ত্রণের তালিকায় আরও রয়েছেন- ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, বিজেপির প্রবীণ নেতা এল কে আডবাণী, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রমুখ।