সালতামামি ২০১৯: যাদের আসন শূন্য আজি

13
Print Friendly, PDF & Email

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
বিদায় নিচ্ছে জীবন থেকে কেটে যাওয়া আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে বরণ করে নিতে হবে। নতুনকে বরণের সাথে থাকবে নতুন প্রত্যাশা নতুন প্রতিজ্ঞা। ২০১৯ নানান ঘটনাবহুল বছর। দিয়েছে যত, কেড়ে নিয়েছেও অনেক। এই বছর বিনোদন জগত থেকে শুরু করে রাজনীতির অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হারিয়েছি আমরা। ২০১৯ সালে রাজনীতি অঙ্গনে হারানোর মিছিলটা এবার অনেক চওড়া। প্রিয়জনদের কাঁদিয়ে চলে গেছেন তারা, তবে রেখে গেছেন তাদের অমর কৃতিত্ব।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম:
বছরের শুরুতেই ৩ জানুয়ারি রাজনীতি অঙ্গনের বড় নেতা সৈয়দ আশরাফকে হারিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ৬ জানুয়ারি ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫০ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আশরাফুল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন।
১৯৭৫ সালে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আশরাফুলের বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামকে হত্যা করার পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান। তারপর থেকেই সৈয়দ আশরাফ লন্ডনে বসবাস শুরু করেন।
১৯৯৬ এ দেশে ফিরে আসেন সৈয়দ আশরাফ। ১৯৯৬ সালেই তিনি ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এসময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রীসভা গঠিত হলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পুনরায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বরত ছিলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।

আশরাফুন্নেছা মোশারফ:
এ বছরের জানুয়ারিতে সবাইকে ছেড়ে চলে যান আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং নারী সংরক্ষিত আসনে মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য আশরাফুন্নেছা মোশারফ। ১৮ জানুয়ারি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আশরাফুন্নেছা মোশাররফ ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০০৯ সালে মহিলা সংরক্ষিত আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হন।

খন্দকার আবদুল বাতেন:
২১ জানুয়ারি বিদায় নিয়েছেন আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনীতিবিদ খন্দকার আবদুল বাতেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭২ বছর বয়সে মারা যান।
আবদুল বাতেন ১৯৪৬ সালের ১৭ মে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার কোনড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আবদুল বাতেন টাঙ্গাইল তার নিজের নামে ‘বাতেন বাহিনী’ নামে একটি গেরিলা বাহিনী গঠন করেন। তার ‘বাতেন বাহিনী’ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, পাবনা ও ঢাকার কিছু এলাকায় যুদ্ধে অংশ নেয়।
আবদুল বাতেন ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতির সাথে জড়িত হন। ১৯৬৭-৬৮ মেয়াদে তিনি সরকারী সাদাত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে (জাসদ) যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে নাগরপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকে পুনরায় আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নুরুল আলম চৌধুরী:
মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও কুটনীতিক নুরুল আলম চৌধুরী ২৭ জানুয়ারি ৭৩ বছর বয়সে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪৫ সালের মে মাসের ২১ তারিখে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের গোপালঘাটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগদানের পরিবর্তে বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে রাজনীতিতে যোগদান করেন। ১৯৭৩ সালে ২৭ বছর বয়সে তিনি চট্টগ্রাম-৪ এর সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন প্রথম জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য। ১৯৯৭ সালে তিনি রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১০ সালে তিনি ওমানে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন।

তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক:
জানুয়ারির শেষ দিন চলে যান রাজনীতিবিদ তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। ৩১ জানুয়ারি রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়। ১৯৬৬ সালে তিনি ঈশ্বরদী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ১৯৬৮ সালে রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসেন। ১৯৬৯ সালে তিনি অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্বে আসেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক কারণে ১৯৮৭ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৮৮ সালের জুন পর্যন্ত আত্মগোপনে থাকেন। ১৯৯০ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থনের দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে প্রথম রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরই মধ্যে তাজুল ফারুক রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এএসএম শাহজাহান:
ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখে পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এএসএম শাহজাহান। একজন বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের ১৫তম মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ১৫ জুলাই গঠিত বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

মঞ্জুর আহমেদ বাচ্চু মিয়া:
ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখ মৃত্যুবরণ করেন মঞ্জুর আহমেদ বাচ্চু মিয়া। তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৩১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

শাহ আলমগীর:
ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহ আলমগীর। তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। প্রথম আলো প্রকাশের সময় থেকেই তিনি পত্রিকাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যুগ্ম বার্তা-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর তিনি টেলিভিশনে কাজ শুরু করেন। তিনি চ্যানেল আই এর প্রধান বার্তা সম্পাদক, একুশে টেলিভিশনের বার্তা প্রধান, যমুনা টেলিভিশনে পরিচালক (বার্তা) এবং মাছরাঙা টেলিভিশনে বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পলান সরকার:
মার্চে আমরা হারিয়েছি একুশে পদকে ভূষিত একজন সমাজকর্মীকে। মার্চের ১ তারিখ রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার বাউশার নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন পলান সরকার।
১৯৯০ সাল থেকে বাউসা হারুন অর রসিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবছর যারা মেধাতালিকায় প্রথম দশটি স্থান অর্জন করতো তাদের বই উপহার দিতেন পলান সরকার। এরপর অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও তার কাছে বইয়ের আবদার করলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি তাদেরও বই দেবেন, তবে তা ফেরত দিতে হবে। এরপর গ্রামের মানুষও তার কাছে বই চাইতে শুরু করে। এভাবেই গড়ে ওঠে বই পড়া আন্দোলনের ভিত। ১৯৯২ সালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় পলান সরকারকে হাঁটার অভ্যাস করতে হয়। তখনই তার মাথায় এক অভিনব চিন্তা আসে। তিনি কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। মাইলের পর মাইল হেঁটে একেকদিন একেক গ্রামে বই পৌঁছে দিতেন। বাড়ি বাড়ি কড়া নেড়ে আগের সপ্তাহের বই ফেরত নিয়ে নতুন বই পড়তে দেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘বইওয়ালা দাদুভাই’ হিসেবে।

শেখ আবদুল আজিজ:
শেখ আবদুল আজিজ একজন রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী। তিনি বাংলাদেশের যোগাযোগ, কৃষি, তথ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের মধ্যে সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি। তিনি ৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।

ব্যারিস্টার আমিনুল হক:
ব্যারিস্টার আমিনুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী। তিনি ২১ এপ্রিল তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি রাজশাহী-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রীসভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মাহফুজ উল্লাহ:
একজন লেখক, সাংবাদিক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশবিদ মাহফুজ উল্লাহ। তিনি প্রথম বাংলাদেশে পরিবেশ সাংবাদিকতার সূচনা করেন। মাহফুজ উল্লাহ ২৭ এপ্রিল ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় ১০টা ৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।
মাহফুজ উল্লাহ ১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গোপালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মাহফুজ উল্লাহ বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৫০-এর অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। যার মধ্যে বেশ কিছু পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সংগ্রহীত আছে।

মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন:
বীর প্রতীক সম্মাননা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ২ মে মৃত্যুবরণ করেন। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের চৌহদ্দী গ্রামে। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চাকরি করতেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে।

লায়লা নূর:
১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনে যোগদান করা ভাষা সৈনিক, শিক্ষাবিদ লায়না নূর ৩১ মে কুমিল্লার সিডিপ্যাথ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

রুশেমা বেগম:
শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন রুশেমা বেগম। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৯ জুলাই তিনি ৮৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ:
এ বছরেই আমরা হারিয়েছি রাজনীতি অঙ্গনের আলোচিত ব্যক্তিত্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে। ২৬ জুন তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ৪ জুলাই তাকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। তিনি ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথম, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা টানেলে দ্বিতীয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে তৃতীয় এবং রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে চতুর্থ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবার পর ১৬ জুলাই তাকে রংপুরের পল্লী নিবাসের লিচুবাগানে তার বাবার কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
১৯৩০ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি জন্ম নেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। পৈতৃক নিবাস ভারতের কোচবিহারে। পিতা মকবুল হোসেন ছিলেন আদালতের পেশকার। পিতার চাকরির সুবাদেই বাংলাদেশের রংপুরে তাদের বসতভিটা। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা এরশাদ ৫২ সালে কমিশন লাভ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল এবং উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে পদোন্নতি পান।
সেনা অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হবার কিছুদিন পরই এরশাদ সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৮১ সালে ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হবার পর দেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে এরশাদের আনাগোনা শুরু হয়। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে হটিয়ে দখল করেন রাষ্ট্র ক্ষমতা। পরের বছরের ১১ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করেন প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে। ১৯৮৬ সালে গঠন করেন জাতীয় পার্টি। এ দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে ৫ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত অংশ নিলেও নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আন্দোলনের মুখে এক বছরের মাথায় সংসদ বাতিল করতে বাধ্য হন এরশাদ। ১৯৮৮ সালে আবারো আয়োজন করেন সাধারণ নির্বাচনের। ওই নির্বাচনও বয়কট করে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল। সবশেষ সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতাচ্যুত হন এরশাদ। ক্ষমতা হারানোর পর গ্রেফতার হন তিনি। ৯১ ও ৯৬’র নির্বাচনে জেল থেকেই ৫টি আসনে ভোটে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন এরশাদ। ৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হন। ১৯৯৯ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে যুক্ত হলেও পরে বেরিয়ে যান। ততদিনে জাতীয় পার্টি ৩ ভাগে খণ্ডিত।
আদালতের সাজার কারণে ২০০১’র নির্বাচনে এরশাদ অংশ নিতে না পারলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ১৪টি আসনে জয়ী হয়। ২০০৮-এ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে গিয়ে নির্বাচনে করে ২৭টি আসনে নির্বাচিত হন এরশাদের প্রার্থীরা। মন্ত্রী হন তার ভাই জিএম কাদের। ২০১৪ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে নানা নাটকীয়তার জন্ম দেন এরশাদ। ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে সিএমএইচে ভর্তি হন। স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি। এমপি হিসেবে শপথ নেন এরশাদও। হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। মন্ত্রী হন দলের তিন নেতা। আর দল ভাঙ্গেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর কাজী জাফর আহমদ।
সবশেষ ২০১৮’র একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিজেই নেতৃত্ব দেন দলকে। আসল বিরোধী দল হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার আসনে আসীন হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

মংছেন চীং মংছিন:
এ বছর আমরা হারিয়েছি আরেকজন গবেষক, সাংবাদিককে। মংছেন চীং মংছিন, যিনি সাহিত্যিক গবেষণায় অবদানের জন্য ২০১৬ সালে একুশে পদক লাভ করেছিলেন। ৭ সেপ্টেম্বর ৫৮ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ড. নঈম চৌধুরী:
এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর একজন প্রখ্যাত জীবপ্রযুক্তিবিদকে হারিয়েছি আমরা। যিনি বাংলাদেশ জাতীয় জীবপ্রযুক্তি পলিসি উন্নয়নে অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এর সাবেক চেয়ারম্যান।

কফিল উদ্দিন সোনার:
২৫ অক্টোবর ৭৫ বছর বয়সে নওগাঁর আরজি নওগাঁ মহল্লার নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন রাজনীতিবিদ কফিল উদ্দিন সোনার। জাতীয় পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। তিনি একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সাদেক হোসেন খোকা:
এ বছর রাজনীতি অঙ্গনে মৃত্যুর মিছিলের লাইন ছিলো দীর্ঘ। রাজনীতি অঙ্গনের প্রিয় মুখ সাদেক হোসেন খোকা ৪ নভেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ৭ নভেম্বর তাকে জুরাইন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের রাজধানী অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ মেয়র।
১৯৫২ সালের ১২ মে তারিখ ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন খোকা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে এম.এ. সম্পন্ন করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
স্বাধীনতার পর তিনি ফুটবল নিয়ে কাজ করেন। তিনি ঢাকা মহানগর ফুটবল সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং তাঁর দল সরকার গঠন করলে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন।
২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন খোকা। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি।

মইন উদ্দীন খান বাদল:
এ বছরের নভেম্বরে চলে গেলেন আরো একজন মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। নভেম্বরের ৭ তারিখ ভারতের বেঙ্গালুরুতে নারায়ণ হৃদ্‌রোগ ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন মইন উদ্দীন খান বাদল।
তিনি জাসদের একাংশের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাদল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন মইন উদ্দীন খান।

ইকবাল হোসেন:
মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ ইকবাল হোসেন ৬ ডিসেম্বর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ:
এ বছরেই বিদায় নিলেন সমাজকর্মী এবং বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি সংগঠন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ। ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত ৮টা ২৮ মিনিটে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের তৃণমূলের মানুষের সেবা করতে গিয়ে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন ফজলে হাসান আবেদ। মাত্র এক লাখ কর্মী নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর ১১টি দেশের ১২০ মিলিয়ন মানুষকে বিভিন্ন সেবা দিয়ে চলেছে ব্র্যাক। বেসরকারি উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া ফজলে হাসান আবেদ সমাজকর্মের জন্য স্যার উপাধি পাওয়া ছাড়াও বিশ্বের বহু সম্মানিত পুরস্কার পেয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানিত করেছেন।
৮৩ বছর বয়সে চলতি বছর স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। তাকে প্রতিষ্ঠানটির ইমেরিটাস চেয়ার নির্বাচিত করা হয়। ১৯৭২ সালে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করার পর তা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাবনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ব্রিটেনের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেভাল আর্কিটেকচারে ভর্তি হয়েছিলেন। সেটা বাদ দিয়ে তিনি লন্ডনের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেটসে ভর্তি হন। ১৯৬২ সালে তিনি তার প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন।
সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অসামান্য ভূমিকার জন্য তিনি ১৯৮০ র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার, স্প্যানিশ অর্ডার অব সিভিল মেরিট, ২০১৪ লিও তলস্তয় আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পদক, জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থার মাহবুবুল হক পুরস্কার, গেটস ফাউন্ডেশনের বিশ্ব স্বাস্থ্য পুরস্কার এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের নোবেল বলে খ্যাত ইয়াইদান পুরস্কার লাভ করেছেন। এছাড়া ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো নোমা পুরস্কার, ২০১১ সালে ওয়াইজ প্রাইজ অব এডুকেশন, ২০১৫ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি পুরস্কার অর্জন করেন। সর্বশেষ চলতি বছর তিনি সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সাউথ এশিয়ান ডায়াসপোরা অ্যাওয়ার্ড, শিক্ষায় ভূমিকা রাখায় ইয়াডান পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী:
এ বছরের ২২ ডিসেম্বর ৮২ বছর বয়সে মাহমুদুল আমিন চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯৮৭ থেকে ২০০২ পর্যন্ত দীর্ঘ কাল বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে তিনি ১৯৬৩ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত তিনি আইনপেশায় নিযুক্ত ছিলেন।