স্বপদে থেকে ব্যর্থতার কথা বলা আত্মপ্রবঞ্চনা: তথ্যমন্ত্রী

11
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালকদার যে কথাগুলো বলেছেন, আমি মনে করি একথাগুলো বলার আগে পদত্যাগ করা প্রয়োজন ছিল। কারণ তিনি তার যে সমস্ত ব্যর্থতার কথা বলেছেন, এগুলো স্বপদে থেকে বললে আত্মপ্রবঞ্চনা হয়।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়কালে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

মাহবুব তালুকদারের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার নিয়ে মন্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের অর্থাৎ আওয়ামী লীগের দাবির প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার অনেক সংস্কার হয়েছে। বাংলাদেশে আজকে যে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, তা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার দাবি ছিল। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা হয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াতে অনেক সংস্কার হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি যুগের প্রয়োজনে যে কোনো সময় হতে পারে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একসময় আমাদের দেশে হাত তুলে ভোট দেয়া হতো। পরে সেই ভোট ব্যালটের মাধ্যমে এবং সেই সাথে এখন ইভিএম মেশিনে দেয়া হচ্ছে। এগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারের একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যে কমিশনের স্বাভাবিক অবস্থান নষ্ট হবে কি না-সে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, আমি মনে করি না এতে কমিশনের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়। কারণ মাহবুব তালুকদার সাহেব বিভিন্ন সময় এ ধরণের কথা বলে আলোচনায় থেকেছেন, তিনি এ ধরণের দ্বিমত পোষণ করে আলোচনা থাকার চেষ্টা করেছেন, সেটিই প্রতীয়মান হয়।’

বিএনপির অভিযোগ গৎবাঁধাঃ
নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না জেনেও আমরা বিএনপি প্রার্থীতা ঘোষণা করবে-বিএনপি মহাসচিবের এ বক্তব্যের প্রতি সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণার জন্য তাদেরকে স্বাগত জানাই। আমরা সরকার গঠন করার পর বাংলাদেশে অতীতে যে সমস্ত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়েছে, সবগুলো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। সেগুলো যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ না হতো তাহলে আমরা বেশ কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজিত হতাম না। এবং বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে জয়ী হতো না। এই নির্বাচনও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে বলে আমার বিশ্বাস। নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সেই কারণে দেখা গেছে যে, অনেক নির্বাচনে আমরা পরাজিত হয়েছি।’

‘সুতরাং বিএনপির অভিযোগগুলো গৎবাঁধা ও বরাবরের অভিযোগ’, বলেন ড. হাছান।

ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নিজের সাথে প্রতারণাঃ
‘ঐক্যফ্রন্ট ৩০ তারিখে কালো দিবস পালন করবে এবং সরকারের পদত্যাগ ও জাতীয় সরকার গঠনের দাবিতে দৃশ্যমান কর্মসূচি নেবে’- এ বিষয়ের প্রতি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল এবং অনেকেই বিজয়ী হয়েছেন, এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণও করেছেন, সমস্ত সুযোগ সুবিধাও তারা পাচ্ছেন। সুতরাং যে নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করে অনেকক্ষেত্রে জয়লাভ করেছেন, সেই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসলে নিজের বিবেকের সাথেই তারা প্রতারণা করছেন বলে প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশে যদি গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন না হতো, অনেকেই যেটি চেয়েছিল, তাহলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকতো না। বরং ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রাকে সংঘত করেছে, অব্যাহত রেখেছে।’

বিএনপি’র আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুললে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা তো গত নির্বাচনের আগে থেকেই আন্দোলনের মধ্যে আছে। বেগম খালেদা জিয়া ২০১৫ সালে যে অবরোধ ডেকেছিলেন, সেই অবরোধ কিন্তু এখনও প্রত্যাহার করেননি। তারা আন্দোলনের মধ্যেই আছেন। তাদের আন্দোলনের নমূনা আমরা দেখেছি। তাদের পূর্ণশক্তি-সমর্থন সম্পর্কে জনগণ জানে। তারা এ ধরণের ফাঁকা আওয়াজ সবসময় করে আসছে। এটিও ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া অন্য কিছু নয়।’