দেশের সর্বপ্রথম জগতি রেল স্টেশন: জনবল সংকটে কার্যক্রম ব্যাহত

15
Print Friendly, PDF & Email

কুষ্টিয়া থেকে করসপন্ডেন্ট:
কুষ্টিয়া শহরতলীর জগতি এলাকায় জগতি রেল স্টেশনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দেশের সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশনটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। জনবল সংকটে স্বাভবিক কার্যক্রম চলছে না বলে জানান স্টেশন মাস্টার।

দেখা গেছে, দোতলা স্টেশন ভবনটির ছাদে জন্মেছে প্রচুর আগাছা। এছাড়া পুরো ভবনটিতে ধরেছে ফাটল। এছাড়া বিশাল আয়তনের ওভারহেড পানির ট্যাংকটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত। যাত্রী ছাউনীটিও ব্যবহার অযোগ্য। স্টেশনটিতে নেই কোনো নিরাপত্তা কর্মী। এছাড়া নিরাপত্তা বেষ্টনি না থাকায় উন্মুক্ত স্টেশনটির পুরো এলাকাই গো-চারণভূমি। বাতির অভাবে রাতের বেলায় নেমে আসে অন্ধকার ও নির্জন-ভূতুড়ে পরিবেশ। জগতি রেলওয়ে স্টেশন ডিঙ্গিয়ে কুষ্টিয়া-পোড়াদহ-খুলনা ও কুষ্টিয়া-গোয়ালন্দ-রাজশাহী রুটে আন্তঃনগরসহ মেইল ও শাটল ট্রেন চলাচল করে। এই স্টেশনে স্টপেজ শুধু মেইল ও শাটল ট্রেনের। ট্রেন আসার পূর্ব মুহূর্তে কেবল স্টেশন মাস্টারের ছোটো কামরার কার্যালয়টি খোলা হয় এবং ট্রেন ছাড়ার পর পরই স্টেশন মাস্টারের অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্টেশনটিতে নিয়োজিত আছেন একজন সহকারী স্টেশন মাস্টার, একজন গেটম্যান ও একজন পয়েসম্যান।

জগতি স্টেশনের সহকারী স্টেশন-মাস্টার ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘জরাজীর্ণ স্টেশন ভবন ও প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। লোকবলের অভাবে জগতি স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ বৃহৎ কাপড় হাটের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, জগতি এলাকায় দেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশনটির এ বেহালদশা কোনোভাবেই কাম্য নয়। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্টেশনটির আধুনিকায়নসহ যাত্রী সেবার মান উন্নয়নের দাবিও জানান তিনি।

পোড়াদহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অন্নদা প্রসাদ মোহন্ত বলেন, ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করা আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য। দেশের প্রথম “জগতি রেলওয়ে স্টেশনটিকে” শিগিগর আধুনিক মডেল স্টেশনে রূপান্তরিত করে এর হারানো গৌরব-ঐতিহ্য রক্ষার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশীস্থ বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আহছান উল্যা ভূঞা জানান, স্টেশন ভবনটির বর্তমান অবস্থা তার জানা নেই। তবে এ স্টেশনটির সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য রক্ষা করা হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর কলকাতার রাণাঘাট থেকে জগতি পর্যন্ত ৫৩.১১ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ চালু হয়। পরবর্তীতে ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর গোয়ালন্দ পর্যন্ত আরো ৭৫ কিলোমিটার রেলপথ সম্প্রসারিত হয়।