মেহেদীর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ঢাকার জয়

15
Print Friendly, PDF & Email

হাসান হাবিবঃ
চলতি বিপিএলে ব্যাটসম্যান, পেসারদের চলছে রাজত্ব। স্রোতের বিপরীতে সাগরিকায় আজ ঢাকা প্লাটুন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। ব্যাটে-বলে তার দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে ৫ উইকেটে হারায় ঢাকা প্লাটুন। পাঁচ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এলো মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বাধীন দল।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় ঢাকা, ইনিংসের প্রথম ওভারেই রবিউল ইসলাম রবির শিকার হয়ে কোন রান না করেই ফেরেন এনামুল হক বিজয়। সুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম পর্বে প্রথমবার ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ ধীরে খেলেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবালও। তবে বিজয়ের বিদায়ের পর তামিমকে একপাশে রেখে ৪৭ বলে ৮৩ রানের জুটিতে রীতিমত ঝড় তোলেন মেহেদী হাসান। আল আমিন হোসেনের শিকার হওয়ার আগে ২৯ বলে ২ চার ৭ ছক্কায় করেন ৫৯ রান। সবচেয়ে বেশি ঝড় তোলেন রবিউল ইসলাম রবির করা পঞ্চম ওভারে।

টানা ৪ ছক্কার সাথে ১ চারে ওই ওভারে নেন ২৬ রান যদিও ফিরতে পারতেন ওই ওভারের প্রথম বলেই। একটু কঠিন ফিরতি ক্যাচ দিলে সেটি লুফে নিতে পারেননি রবি তখন মেহেদীর রান ছিল ১০ বলে ১৩! জয়ের পথ অনেকটাই মসৃণ করে দিয়ে যান মেহদী কিন্তু সেতিকেই কঠিন করে ফেলেন পরের ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে তামিমের ৪০ বলে খেলা ৩৪ রানের ইনিংসটি ছিল দৃষ্টিকটুই। মেহেদীর বিদায়ের পর পরপর দুই বলে আসিফ আলি ও জাকের আলিকে ফেরান মুজিব উর রহমান। দুজনেই ফেরেন খালি হাতে, এরপর মুমিনুলকে নিয়ে ৩৩ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়েন তামিম।

সৌম্য সরকারের বলে ডেভিড মালানের হাতে ক্যাচ দিয়ে তামিম ফিরে গেলে ভাঙে জুটি। এরপর শহীদ আফ্রিদির ক্যামিও ইনিংসে কঠিন হয়ে যাওয়া ম্যাচ ১ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জিতে নেয় ঢাকা প্লাটুন। ১৫ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন আফ্রিদি, সঙ্গী মুমিনুল খেলেন ২৬ বলে ২৮ রানের ইনিংস। কুমিল্লার মুজিব উর রহমান দুটি ও রবিউল ইসলাম, আল আমিন হোসেন ও সৌম্য সরকার নেন একটি করে উইকেট।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের। ৩৩ রান তুলতেই বিদায় নেন সৌম্য সরকা ও সাব্বির রহমান রুম্মন। ১০ রান করা ওপেনার সৌম্যকে বোল্ড করার পর ৭ বল খেলা সাব্বিরকেও খালি হাতে ফেরান অফ স্পিনার মেহেদী হাসান। চলতি বিপিএলে পেসারদের রাজত্বের মধ্যে মেহদী হাসান দেখালেন স্পিন ভেলকি। চার ওভারের স্পেলে মাত্র ৯ রান খরচায় তুলে নেন উইকেট দুটি।

দলীয় ৩৯ রানে ফিরতে পারতেন শেষ পর্যন্ত ৯৬ রানে অপরাজিত থাকা লঙ্কান ব্যাটসম্যান ভানুকা রাজাপাকশে। ওয়াহাব রিয়াজের করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারের পঞ্চম ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন ভানুকা। ২০ রান করে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে পৌঁছেও যান। ততক্ষণে মাঠের আম্পায়ার চেক করে দেখেন অন দ্যা লাইনে থাকায় বলটি নো হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলি রাব্বিও চলে আসেন ক্রিজে, নো বল নিশ্চিত হওয়ায় ফিরিয়ে ড্রেসিং রুম থেকেই ফিরিয়ে আনা হয় ভানুকাকে। এ নিয়ে অবশ্য মাঠে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা প্লাটুনের ক্রিকেটাররা।

জীবন পেয়ে দলের বিপর্যয়ে ঢাল হয়ে এলেন ভানুকা রাজাপাকশে। মাঝে ডেভিড মালানও সময়ের দাবি মেটাতে না পেরে ফেরেন ১৭ বলে ৯ রান করে। ১০ ওভারে ৬০ রান করা কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স শেষ ১০ ওভারে ভানুকার ব্যাটে চড়ে তোলে ১০০ রান। ইয়াসির আলি রাব্বিকে নিয়ে অবিচ্ছেদ্য জুটিতে ৬৩ বলে যোগ করেন ১০৩ রান। ৪১ বলে ফিফটিতে পৌঁছানো রাজাপাকশে শেষদিকে তোলেন ঝড়, পরের ২৪ বলে করেন ৪৬ রান! ৬৫ বলে ৪ চার ৭ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৯৬ রানে, সঙ্গী ইয়াসির আলি ২৭ করেন ২৭ বলে ৩০* রান। কুমিল্লা পায় ৩ উইকেটে ১৬০ রানের পুঁজি।

মেহেদী হাসানের দুই উইকেট ছাড়া একটি উইকেট পান পাকিস্তানি লেগ স্পিনার শাদাব খান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১৬০/৩ (২০), রাজাপাকশে ৯৬*, সৌম্য ১০, সাব্বির ০, মালান ৯, রাব্বি ৩০*; মেহেদী ৪-০-৯-২, শাদাব ৪-০-৩২-১।

ঢাকা প্লাটুন ১৬১/৫ (১৯.৫), তামিম ৩৪, বিজয় ০, মেহেদী ৫৯, আসিফ ০, জাকের ০, মুমিনুল ২৮*, আফ্রিদি ২৬*; রবি ৪-০-৪৪-১, মুজিব ৪-১-২২-২, আল আমিন ৪-০-২৯-১, সৌম্য ৩.৫-০-২৯-১।

ফলাফলঃ ঢাকা প্লাটুন ১ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ মেহেদী হাসান (ঢাকা প্লাটুন)।