রানবন্যার ম্যাচে পার্থক্য গড়লেন বোলার রানা

10
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস করসপন্ডেন্টঃ
চট্টগ্রামের টপ অর্ডারকে থামানো যেন প্রতিপক্ষ বোলারদের যেন কষ্টসাধ্য কাজে পরিণত হয়ে পড়েছে। ওপেনার লেন্ডল সিমন্স ব্যর্থ হলেও অভিষেক ফার্নান্দো, ইমরুল কায়েস, চ্যাডউইক ওয়ালটনের ব্যাটে চড়ে আগের ম্যাচেই নিজেদের গড়া আসরের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডকে করে দিয়েছে অতীত, ২৩৮ রানের পাহাড়সম সংগ্রহে বিপিএল ইতিহাসেরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে বসে। রানের পাহাড় টপকাতে গিয়ে লড়াই করেও ব্যর্থ কুমিল্লা, রান বন্যার ম্যাচে হেরেছে মাত্র ১৬ রানে।

রেকর্ড গড়ে জিততে হবে এমন লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা চট্টগ্রাম পেসার মেহেদী রানার তোপে খেই হারিয়ে বসে কুমিল্লার টপ অর্ডার। ৩২ রানে তিন উইকেট হারায় কুমিল্লা যার তিনটিই রানার শিকার। আগের দুই ম্যাচের ফর্ম টেনে নিতে পারেননি সৌম্য (১৫), টুর্নামেন্টে আরেক দফায় ব্যর্থ সাব্বির রহমানও (৫), ৬ রানের বেশি করতে পারেননি লঙ্কান রাজপাকশে। এরপর পাশার দান উল্টে দিয়ে ম্যাচের মোড় নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার জোর চেষ্টা করেন ডেভিড মালান ও দাসুন শানাকা।

মাঝে ইয়াসির আলির ১৭ বলে ২১ রানের ইনিংস। রাব্বির বিদায়ে ভাঙে মালানের সাথে তার ৫৮ রানের জুটি। মালান ঝড়ে শুরুর বিপর্যয় কাটানো কুমিল্লা ১১.১ ওভারেই পার করে ১০০ রান। ২৬ বলে ফিফটিতে পৌঁছানোর পর হয়ে যান আরও আক্রমণাত্মক, শানাকার যোগ্য সঙ্গে চট্টগ্রামকে দেন বেশ ভালো জবাব। ২৬ বলে ৬২ রানের জুটি গড়েন কাপ্তান শানাকার সাথে। কিন্তু দুই ওভারের প্রথম স্পেলে ৩ রানে ৩ উইকেট শিকার করা রানার শিকার হয়ে ডেভিড মালান ফিরে গেলে ফিকে হয়ে যায় কুমিল্লার স্বপ্ন।

আউট হওয়ার আগে করেন ৩৮ বলে ৭ চার ৫ ছক্কায় ৮৪ রান। ২১ বলে ৩৭ রান করে ব্যর্থ চেষ্টা করেন দাসুন শানাকা, শেষদিকে ১০ বলে ২৮ রানে রোমাঞ্চ জাগান আবু হায়দার রনি। মেহেদী রানার শেষ ওভারে ২২ রান নিয়ে বোলিং ফিগারই নষ্ট করে দেন।

২৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে চট্টগ্রামের সেরা বোলার রানাই। চট্টগ্রাম থামে ৭ উইকেটে ২২২ রানে, দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে রান হয় ৪৬০! যা বিপিএল ইতিহাসের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড, আগের ম্যাচেই ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে ম্যাচে ওঠে ৪২৬ রান। সবধরণের প্রতিযোগিতামূলক টি-টোয়েন্টিতে এটি ১২ তম সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড! একটি করে উইকেট শিকার করেন রুবেল হোসেন, কেসরিক উইলিয়ামস ও মুক্তার আলি।

আগে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের দুই ওপেনার শুরু থেকেই তেড়েফুঁড়ে খেলেন। তবে ১০ রানের বেশি করতে পারেননি লেন্ডল সিমন্স, ৪৯ বলে ৮৫ রানের জুটিতে সিমন্সের বিদায়কে অনুভবই করতে দেননি ইমরুল কায়েস ও আভিষ্কা ফার্নান্দো। কুমিল্লার বোলারদের অসহায় করে ২৭ বলে সমান তিনটি করে চার-ছক্কায় ৪৮ রান করে ফেরেন ফার্নান্দো। ৯.৫ ওভারে ১০০ পার করা চট্টগ্রামের রানের গতি বাড়ানোর কাজটা বেশ দুর্দান্তভাবে সামলান কায়েস-ওয়ালটন।

৩৫ বলে ফিফটি করা ইমরুল কায়েস ৪১ বলে ৯ চার ১ ছক্কায় ৬২ রান করে ফেরেন তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে। কায়েসের বিদায়ের পর ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন নাসির হোসেন (৩)। নাসির যখন সাজঘরে ফেরেন তখন ইনিংসের বাকি ৩৪ বল, আর এই ৩৪ বলেই নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে সাগরপাড়ের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টর্নেডো নামান ক্যারিবিয়ান ওয়ালটন। শেষ ৩৪ বলে অবিচ্ছেদ্য জুটিতে যোগ করেন ৯৯ রান, শেষ ৫ ওভারে ৯২, শেষ দুই ওভারে ৫৪!

সবচেয়ে বেশি ঝড় সহ্য করতে হয় কুমিল্লা পেসার আবু হায়দারকে। ২ ওভারে খরচ করেন ৩৮ রান, শেষ ওভারে দেন ২৫। ১৮.৪ ওভারের ২০০ পার করা চট্টগ্রাম শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলে আগের ম্যাচেই নিজেদের গড়া টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড (২২১)। সাথে পেছনে ফেলেন বিপিএল ইতিহাসেরই আগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহকে (খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ২৩৭)। ২ রানের জন্য টপকাতে পারেনি সর্বোচ্চ সংগ্রহের (২৩৯) রেকর্ড।

২২ বলে ফিফটিতে পৌঁছানো চ্যাডউইক ওয়ালটন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৫ চার ৬ ছক্কায় ৭১ রানে, যোগ্য সঙ্গ দেওয়া সোহানও খেলেন ১৫ বলে সমান দুটি করে চার-ছক্কায় ২৯ রানের ক্যামিও। কুমিল্লার ওয়ারিয়র্সের হয়ে দুই উইকেট নিয়ে সেরা বোলার সৌম্য সরকার, একটি করে উইকেট শিকার দাসুন শানাকা ও মুজিব উর রহমানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ২৩৮/৪ (২০), সিমন্স ১০, ফার্নান্দো ৪৮, ইমরুল ৬২, ওয়ালটন ৭১*, নাসির ৩, নুরুল ২৯*; মুজিব ৪-০-৩১-১, সৌম্য ৩-০-৪৪-২, শানাকা ৪-০-৪৭-১।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ২২২/৭ (২০), রাজাপাকশে ৬, সৌম্য ১৫, সাব্বির ৫, মালান ৮৪, রাব্বি ২১, শানাকা ৩৭, অঙ্কন ১৩, সুমন ৮*, রনি ২৮*; রুবেল ৪-০-৩০-১, রানা ৪-১-২৮-৪, উইলিয়ামস ৪-০-৫১-১, মুক্তার ৪-০-৫৫-১।

ফলাফলঃ কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১৬ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ চ্যাডউইক ওয়ালটন (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)।