আওয়ামী লীগের ইতিকথা

6
Print Friendly, PDF & Email

ঋত্বিক তারিক, ঢাকা:
উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ইতিহাসের নানা ঘাত-প্রতিঘাত আর চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে রক্তস্নাত ৭ দশকেরও বেশি পথ মাড়িয়ে দলটি পার করেছে ২০টি সম্মেলন। এ দীর্ঘ পথে সংগ্রামী এ দলটির অবদানেই এসেছে ছেষট্টির ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান আর ৭১ এর রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। এ ভুখণ্ড পেয়েছে স্বাধীন একটি দেশ- কষ্টার্জিত লাল সবুজের পতাকা।

পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি ও শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। যা পরে স্বাধীন দেশে- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

তারপর দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম সম্মেলনে টানা ১২ বছর দলটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ ১২ বছরে ৪টি সম্মেলনের দুটিতে সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খাস ভাসানী ও আবদুল রশিদ তর্কবাগীশ।
১৯৬৬ সালে ছয় দফার দাবিতে উত্তাল বাংলা। ইতিহাসের মোড় ঘোরানো সেই কালে ৬ষ্ঠ, ৬৮ সালে ৭ম এবং ৭০ এর ৮ম সম্মেলনে সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ সময় সাধারণ সম্পাদকের হাল ধরেন তাজউদ্দীন আহমদ। তাদের হাত ধরেই আওয়ামী লীগ ৭১ এ মুক্তিমুখীন জনতাকে পথ দেখায়।

৭২ এর নবম সম্মেলনে সভাপতি হন বঙ্গবন্ধু, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। ৭৪ এ বঙ্গবন্ধু দলের সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। একই সালে ১০ম সম্মেলনে সভাপতি হন এএইচএম কামারুজ্জামান এবং সাধরণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

৭৫ এ বাঙালির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর অমন অমানিশারকালে ৭৭ সালের ১১তম সম্মেলনে হাল ধরেন সৈয়দা জোহারা তাজউদ্দীন।
৭৮ এ ১২তম সম্মেলনে সভাপতি হন আবদুল মালেক উকিল ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক।

৮১ তে দেশে ফিরে ১৩তম সম্মেলনে দলের ক্রান্তিকালে সভাপতির দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সেই থেকে আজও তিনি শক্ত হাতে আওয়ামী লীগকে দিচ্ছেন নেতৃত্ব। সেবারের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আবদুর রাজ্জাক। ৮৭তে ১৪তম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

১৫ ও ১৬তম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। ২০০২ সালে ১৭তম সম্মেলনে আবদুল জলিল, ২০০৯ এবং ১২তে এ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

আর সবশেষ ২০১৬ সালের ২০তম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের।