রানবন্যার ম্যাচে শেষ হাসি চট্টগ্রামের

6
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস করসপন্ডেন্টঃ
বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব শুরুর আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স কোচ জানিয়েছিলেন ঘরের মাঠের সবকটি ম্যাচেই জিততে চান। প্রথম ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে সহজ লক্ষ্যটা একটু কঠিন করে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনকে পাহাড়সম লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়। লড়াই করেও প্লাটুন ব্যাটসম্যানরা পারেনি কঠিন বাঁধা পেরোতে। ১৬ রানে হারিয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স তুলে নেয় ঘরের মাঠে টানা দ্বিতীয় জয়।

চলতি বিপিএলের রান উৎসব যেন থামছেই না। পারফেক্ট টি-টোয়েন্টি আমেজেই রান করছে দলগুলো। বড় সংগ্রহ করেও হারতে হচ্ছে নিয়মিত, আগের দিন রাজশাহীর দেওয়া ১৮৯ রান তাড়া করে জিতেছে খুলনা টাইগার্স। আজ (১৮ ডিসেম্বর) দিনের প্রথম খেলায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সও রংপুরের দেওয়া ১৮৩ রান তাড়া করে জিতে নেয়। দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ঘরের মাঠের দর্শকদের বিনোদিত করে ঢাকা প্লাটুনের জন্য ছুঁড়ে দেয় ২২২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য, যা এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

রান তাড়ায় কম যায়নি ঢাকাও, বিপিএল ইতিহাসের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার দিনে তারা তোলে ২০৫ রান। শুরুতেই ওপেনার এনামুল হক বিজয়কে (১) হারিয়ে হোঁচট খায় চট্টগ্রাম পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ঢাকা প্লাটুন। তামিম ইকবালের অসুস্থতায় টুর্নামেন্টে প্রথমবার খেলতে নামা মুমিনুল নামেন ওপেন করতে, বিজয়ের বিদায়ের পর করেছেন হাল ধরার চেষ্টা। জাকের আলিকে নিয়ে যোগ করেন ৪০ রান। ১৯ বলে সমান দুটি করে চার-ছক্কায় ২৭ রান করে মুক্তার আলির বলে লং অনে ইমরুল কায়েসের হাতে ধরা পড়েন জাকের আলি।

স্রোতের বিপরীতে লড়াইটা চালান গায়ে টেস্ট ব্যাটসম্যান তকমা লেগে যাওয়া মুমিনুল হক। পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার আগে ৩৫ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় খেলেন ৫২ রানের ইনিংস। ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থ শহীদ আফ্রিদি (৯)। শেষদিকে থিসারা পেরেরা-মাশরাফির ৮ বলে ২৬ রানের জুটিতে কিছুটা রোমাঞ্চ জাগে, নাসির হোসেনকে মারেন টানা তিন ছক্কার পাশাপাশি এক ছক্কা। ৪ ওভারে ৬০ রান দিয়ে বিপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে খরুচে বোলারের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসেন নাসির হোসেন।

আর সে রোমাঞ্চ টেনে নেন থিসারা পেরেরা, যোগ্য সঙ্গের অভাবে বৃথা যায় তার ২৭ বলে ৩ চার ৪ ছক্কায় ৪৭ রানের ইনিংসটি। বল-রানের কঠিন সমীকরণকে টেনে আনেন ৬ বলে ২১ রানে। কিন্তু আগের ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হওয়া বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানা টপকাতে দেননি এই সমীকরণ। শেষ ওভারে নিতে পারে মাত্র ৪ রান, উল্টো শেষ বলে থিসারা পেরেরা আউট হলে ঢাকা প্লাটুনকে হতে হয় অলআউট। ২০৫ রানে থেমে ম্যাচ হারে ১৬ রানে। রান বন্যার এমন ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান খরচে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে চট্টগ্রামের সেরা বোলার মেহেদী হাসান রানাই। ৪২ রান খরচায় তিন উইকেট তুলে নেন মুক্তার আলিও, দুটি করে শিকার নাসির হোসেন ও কেসরিক উইলিয়ামসের।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই প্লাটুন বোলারদের উপর চড়াও হয় চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা। অভিষেক ফার্নান্দো-লেন্ডল সিমন্স ঝড়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে তুলে ফেলেন ১ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান, যা চলতি বিপিএলের পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ২৮ বলে ৫১ রান, ১৩ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৬ রান করে ফার্নান্দো ফিরলে ভাঙে জুটি। ফার্নান্দো ঝড় থামলেও ফর্মে থাকা ইমরুল কায়েসকে নিয়ে তান্ডব চালিয়ে যান লেন্ডল সিমন্স। কায়েসকে নিয়ে যোগ করেন আরও ৫০ রান।

মাশরাফি, মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদদের উইকেটের চারপাশে খেলে ফিফটিতে পৌঁছান ২৪ বলে, যা চলতি বিপিএলের তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি। ৯.৫ ওভারের ১০০ পার হয় চট্টগ্রামের দলীয় সংগ্রহ। টানা ২ ম্যাচে রান আউটে কাটা পড়া সিমন্স ফেরেন ৩৬ বলে ৫ চার ৪ ছক্কায় ৫৭ রান করে। সিমন্স যেখানে থামেন সেখান থেকেই শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ। ইমরুলকে নিয়ে যোগ করেন মাত্র ২৭ বলে ৬২ রান। ইমরুল ফেরেন অভিষিক্ত প্লাটুন পেসার সালাউদ্দিন শাকিলকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। খেলেন ২৪ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৪০ রানের ইনিংস।

ইনিংসের শুরুর দিকে পায়ে চোট পাওয়া রিয়াদ যেন কায়েসের বিদায়ের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। সিমন্সের সমান ২৪ বলেই ফিফটিতে পৌঁছানো রিয়াদ ফেরেন দলীয় ১৯১ রানে ৫৯ রান করে। ২৮ বলের ইনিংসে ছিল ৫ টি চার ও ৪ টি ছক্কা, খেলেছেন দুর্দান্ত সব পুল শট। শেষদিকে চ্যাডউইক ওয়ালটন-নুরুল হাসানের ব্যাটে ঠিকই ২০০ পার করে চট্টগ্রাম। ১৮.৪ ওভারে ২০০ পার করা চট্টগ্রাম ৪ উইকেটে ২২১ রানের বড় সংগ্রহ, যা এবারের আসরের সর্বোচ্চতো বটেই সবমিলিয়ে বিপিএলের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

১৮ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ২৭ রানে ওয়ালটন, ৪ বলে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন নুরুল হাসান। ঢাকা প্লাটুনের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝড় বয়ে যায় মেহেদী হাসানের উপর দিয়ে, ২ ওভারেই খরচ করেন ৩৩ রান। দুই উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ৪ ওভারে দেন ৫৫ রান, ৩ ওভারেই মাশরাফির খরচ ৪২। হাসান মাহমুদ ছাড়া একটি উইকেট পান সালাউদ্দিন শাকিল।

বিপিএল ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান (দুই ইনিংস মিলিয়ে)

৪২৬ (৪০)- চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স বনাম ঢাকা প্লাটুন, আজ
৪২২ (৪০)- বরিশাল বার্নার্স বনাম দুরন্ত রাজশাহী, ২০১৩
৪০৬ (৪০)- চিটাগং ভাইকিংস বনাম খুলনা টাইটান্স, ২০১৯

তিন ম্যাচই হয়েছে চট্টগ্রামে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ২২১/৪ (২০), সিমন্স ৫৭, ফার্নান্দো ২৬, ইমরুল ৪০, মাহমুদউল্লাহ ৫৯, ওয়ালটন ২৭*, সোহান ৭*; শাকিল ৩-০-২৭-১, হাসান ৪-০-৫৫-২।

ঢাকা প্লাটুন ২০৫/১০ (২০), মুমিনুল ৫২, বিজয় ১, জাকের ২৭, ইভান্স ১৭, আসিফ ১৫, পেরেরা ৪৭, আফ্রিদি ৯, মাশরাফি ২৩, মেহেদী ২, হাসান ০, শাকিল ০*; রানা ৪-০-২৩-৩, নাসির ৪-০-৬০-২, মুক্তার ৪-০-৪২-৩, উইলিয়ামস ৪-০-৪৮-২।

ফলাফলঃ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১৬ রানে জয়ী।