কুমিল্লার জয়, রংপুরের হারের হ্যাটট্রিক

9

স্পোর্টস করসপন্ডেন্টঃ
সাগরপাড়ের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট ব্যাটসম্যানদের দিচ্ছে দুহাত ভরে। যদিও এবারের বিপিএলে ঢাকার প্রথম পর্বও শেষ হয়েছে রান উৎসবে। আজ রংপুরের দেওয়া ১৮২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটে জিতে নেয় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স, বৃথা যায় মোহাম্মদ শেহজাদের ঝড়ো ইনিংস। এই দিয়ে হারের হ্যাটট্রিক করলো রংপুর।

আসরের ১১ তম ম্যাচে আজ (১৮ ডিসেম্বর) টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার তত্ব থেকে বের হয়ে আসে রংপুর রেঞ্জার্স। আগে ব্যাট করে মোহাম্মদ শেহজাদের ঝড়ো ৬১ রানের ইনিংসে ভর করে বড় ১৮১ রানের বড় সংগ্রহ পায় যদিও সম্ভাবনা জেগেছিল আরও বড় সংগ্রহের।

আগের ম্যাচে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা নাইম শেখকে নিয়ে ৪.২ ওভার স্থায়ী জুটিতেই তুলে নেন ৪৯ রান, নাইম শেখের অবদান মাত্র ৮ রান! রান আউটে কাটা পড়ে নাইম ফিরলে ভাঙে জুটি।

নাইম ফিরলেও টম অ্যাবেলকে নিয়ে ঝড়ো গতিতে যোগ করেন আরও ৩৭ রান। শেহজাদ ঝড়ে পাওয়ার প্লেতে এবারের বিপিএলের এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তোলে রংপুর রেঞ্জার্স। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে নাইমের উইকেট হারিয়ে রংপুর স্কোরবোর্ডে যোগ করে ৬৮ রান, ততক্ষণে ফিফটির দেখা পেয়ে যান মোহাম্মদ শেহজাদ। মাত্র ২১ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ফিফটিতে পৌঁছানো শেহজাদ থামেন ২৭ বলে ৭ চার ৪ ছক্কায় ৬১ রানে। দলীয় ৮৬ রানে সানজামুলের শিকার হয়ে শেহজাদ ফেরেন দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে।

শেহজাদ ফিরলে কিছুটা বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর, দ্রুতই ফেরেন ড্রাফটের বাইরে থেকে অন্তর্ভূক্ত হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা অলরাউন্ডার আল আমিন জুনিয়র। ক্রিজে টিকেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি টম অ্যাবেল, সৌম্য সরকারের বলে আউট হন ২৫ বলে ২৫ রান করে। মাঝে মোহাম্মদ নবি খেলেন ২০ বলে ২৬ রানের ইনিংস।

তবে দলের সংগ্রহ বড় করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে লুইস গ্রেগরি, খেলেন ১২ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ২১ রানের ছোট্ট ক্যামিও। ইনিংসের শুরুর মত শেষদিকেও হানা দেয় রান আউট, মোট তিন রান আউটে ৮ উইকেটে ১৮১ রানে থামে রংপুর। নাদিফ চৌধুরী ও আরাফাত সানির ব্যাট থেকেও আসে সমান ১৫ রান করে।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের হয়ে সর্বোচ্চ দুই উইকেট নিয়ে সেরা বোলার আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমান, একটি করে শিকার করেন সানজামুল ইসলাম, আল আমিন হোসেন ও সৌম্য সরকার।

১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বেশ ভালো শুরু পায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সও। লঙ্কান ভানুকা রাজাপাকশে-সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬১ রান। ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে রাজাপাকশে মোহাম্মদ নবির বলে ফিরলে ভাঙে জুটি। আউট হওয়ার আগে মাত্র ১৫ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৩২ রান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আল আমিনকে টানা চার মেরে রানের ঝড় ইনিংসের ইঙ্গিত দেন সৌম্য সরকার। তবে বেশ ভুগেছেন তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া পেসার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধের বলে। শুরুর ঝড় ধরে রাখতে পারেননি শেষ পর্যন্ত, মন্থর হয়ে যাওয়া ইনিংসে ফিরেছেন মুগ্ধের বলে। ৩৪ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় থামেন ৪১ রানেই।

ততক্ষণে অবশ্য স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ৯০ রান, ১২ ওভারেই ১০০ পার করে ওয়ারিয়র্স। ডেভিড মালানকে নিয়ে সৌম্য-রাজাপাকশের গড়ে দেওয়া ভিত্তিকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন সাব্বির রহমান রুম্মন। দুজনে মিলে জুটিতে যোগ করেন ৫৬ রান। শেষ চার ওভারে ৪৬ রান প্রয়োজন এমন সমীকরণ মেলাতে গিয়ে ১৭ তম ওভারের পঞ্চম বলে মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে সাব্বির ফিরেন ১ রানের জন্য ফিফটির আক্ষেপ নিয়ে। আউট হওয়ার আগে ৪০ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৪৯ রান করেন সাব্বির।

ক্রিজে আসা দাসুন শানাকাকে নিয়ে ডেভিড মালান বাকি পথ পাড়ি দেন অনায়েসেই। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ২২, শেষ ওভারে ১১! টম অ্যাবেলের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন যদিও মাঝে শানাকা আউট হয়ে কিছুটা রোমাঞ্চ জাগানোর ঈঙ্গিত দেন তবে শেষ রক্ষা হয়নি রংপুরের। অ্যাবেলকে চার মেরে ২ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স।

মালান অপরাজিত থাকেন ২৪ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় ৪২ রানে, শানাকার ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ১২ রান। রংপুরের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ নবি, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, মুস্তাফিজুর রহমান ও টম অ্যাবেল।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

রংপুর রেঞ্জার্স ১৮১/৮ (২০), শেহজাদ ৬১, নাইম ৮, অ্যাবেল ২৫, আল আমিন ১, নবি ২৬, গ্রেগরি ২১, নাদিফ ১৫, জহুরুল ০, সানি ১৫*, মুস্তাফিজ ১*; মুজিব ৪-০-২৫-২, সানজামুল ৪-০-৩৮-১, আল আমিন ৪-০-৪৫-১, সৌম্য ২-০-১৬-১।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১৮২/৪ (১৯.৪), রাজাপাকশে ৩২, সৌম্য ৪১, সাব্বির ৪৯, মালান ৪২*, শানাকা ১২, রাব্বি ০*; নবি ৪-০-২৫-১, মুগ্ধ ৪-০-২৬-১, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৫-১, অ্যাবেল ২.৪-০-২১-১।

ফলাফলঃ কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ২ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ী।