শর্ত সাপেক্ষে বোলিং কোচ হতে চান সুজন

12

স্পোর্টস করসপন্ডেন্টঃ
বিশ্বকাপের পরে আর বাংলাদেশেই ফেরেননি টাইগারদের সাবেক বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। এরপর থেকেই নতুন বোলিং কোচের খোঁজে ছিলো বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড)। ২৭ জুলাই সাবেক প্রোটিয়া বোলার ও বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টকে নতুন বোলিং কোচ হিসাবে নিয়োগ দিয়েছিল বিসিবি। চুক্তি ছিল দুই বছরের। তবে এর আগেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ল্যাঙ্গেভেল্ট অধ্যায়।

শোনা যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং কোচের ভূমিকায় আসতে পারেন চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট। এজন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশের বোলিং কোচের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি। বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে তারা মেনে নিয়েছে সেটা। বিসিবি পরিচালক ও খুলনা টাইগার্স দলের পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এটা বড় ধাক্কা হবে কিনা।

চট্টগ্রামে খুলনা টাইগার্সের অনুশীলনের পর সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সে (চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট) যে কাজ করবে না জানিয়েছে, নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। আর তার সাথে আমাদের কাজ খুব বেশি দিন হয়নি। খুব যে বড় একটা ধাক্কা তা আমি বিশ্বাস করি না। চার্ল নতুন কিছু নিয়ে এসছিলো যা আমাদের বোলার রা আয়ত্ব করার চেষ্টা করেছে এতদিনে। আমার মনে হয় বিসিবি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বোলিং কোচ আনবে। তাই গ্যাপ টা ওভাবে থাকবে না। দলের হেড কোচ আছে, বাকি কোচিং স্টাফ আছে। পেশাদার ক্রিকেটে একটা কোচ আসে, আবার চলে যায়। কখনো কেউ অনেক দিন থাকে, কেউ আবার দ্রুত চলে যায়। এতে হারানোর কিছু নেই। আমি মনে করি আমাদের ক্রিকেটাররা অনেক ম্যাচিউর এখন। তবে হ্যা, আমাদের ডেফিনেটলি একটা কোচ লাগবে, আশা করি বিসিবি দ্রুত আনবে সেই কোচ।’

চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের সঙ্গে বিসিবির  চুক্তি ছিল ২ বছরের। গত ২১ আগস্ট টাইগারদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করা শুরু করেছিলেন ল্যাঙ্গেভেল্ট। কয়েক মাস পরেই চার্লের চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ও বিসিবির তা মেনে নেওয়ায় ক্রিকেট ফ্রেন্ডশিপ দেখছেন সুজন।

‘প্রত্যেকটা কন্ট্রাক্টেই এরকম থাকে। কোনটা লং টার্ম হয়, ২ বছর। আবার ১ বছরেরও হয়। দুই পক্ষেরই এখানে সুযোগ থাকে সমস্যা হলে টার্মিনেট করার। আমরাও পছন্দ না হলে ওকে টার্মিনেট করতে চাইতে পারতাম। এরকম টার্মস, এন্ড ক্লজ কিন্তু থাকেই। আর যদি এমন হয় দক্ষিণ আফ্রিকা দল থেকে ওকে ডেকেছে সেটা মনে হয় আমাদের বিসিবি আমলে এনেছে। ক্রিকেট ফ্রেন্ডশিপের ব্যাপার আছে। যদিও আমি সবসময় লং টার্মের দায়িত্বের পক্ষে। একটা দল গোছানোর ব্যাপার থাকে।’

এর আগেও বিভিন্ন মেয়াদে টাইগারদের কোচের ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। আগ্রহ আছে আবার কোচ হবার। তবে এবার লম্বা সময়ের জন্য চান দায়িত্ব।

‘সুযোগ পেলে তো সবাইই করতে চায়। আমার নিজেরও আগ্রহ রয়েছে, আমার পেশাই তো কোচিং। কিন্তু এর আগে যা হয়েছে দুই বার আমি দলের হেড কোচ হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছি। যদিও সেটা বলাই ছিল একটা টাইম বিং এর জন্য। কিন্তু তারপরেও যখন বাদ পড়ি খারাপ লাগে। আমি এর আগেও বলেছিলাম হয়তো লং টার্মের জন্য করতে পারলে ভাল হয়। শর্ট টার্মের জন্য, একটা ট্যুরের জন্য কাজ করতে চাই না। ফিলোসপির ব্যাপার থাকে। ফিলোসপি নিয়ে কাজ করতে একটু সময় লাগে। আবার এটাও দেখতে হবে ক্রিকেটাররা আমাদের লোকাল ক্রিকেটারদের সেভাবে গ্রহণ করে কিনা।’

বিসিবি সভাপতির মতে লোকাল কোচরা স্কিলে পিছিয়ে আছে। এতে দ্বিমত পোষণ করেছেন সুজন, বললেন দেশিরা সুযোগ পাচ্ছে না।

‘আমি জানি না পাপন ভাই এটা কেনো বলেছে। কিন্তু আমি মনে করি না আমরা স্কিলের দিক দিয়ে পিছিয়ে আছি। ক্রিকেট টেকনিকের একটা খেলা। এখন কাভার ড্রাইভ বা স্কয়ার ড্রাইভ যখন মারবে সবাই কিন্তু একই টেকনিকে মারবে। এটা হতে পারে যে উনি বোঝাতে চেয়েছেন আমরা হয়তো কাগজে কলমে পিছিয়ে আছি। স্কিলের দিক থেকে আমি মনে করি না আমরা কেউ পিছিয়ে আছি। আমরা সবাই যারা আছি সুযোগ পাচ্ছি না।’