মুশফিকের দাপুটে ইনিংসে খুলনার জয়

9
Print Friendly, PDF & Email

হাসান হাবিবঃ
চলতি বিপিএলের শুরু থেকেই প্রতি ম্যাচে হচ্ছে রান, চট্টগ্রাম পর্বে সে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলো বেশ ভালোভাবে। এমনিতেই সাগরপাড়ের এই স্টেডিয়ামটি কখনোই হতাশ করেনা বিপিএল দর্শকদের, এবার প্রথম ম্যাচেই এলো এখনো পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। শোয়েব মালিকের দুর্দান্ত ইনিংসের জবাবে মুশফিকুর রহিমের আরও দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে ১৮৯ রান তাড়া করে রাজশাহী রয়্যালসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দেয় খুলনা টাইগার্স।

শোয়েব মালিকের ৮৭ রানে ভর করে রাজশাহী রয়্যালস ১৯০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় খুলনা টাইগার্সকে। অথচ এতবড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা হয়েছে বেশ বাজেই, কোন রানের খাতা খোলার আগেই আন্দ্রে রাসেলের শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৫ রানে বিদায় নেন রহমানউল্লাহ গুরবাজও। এরপর রাইলি রুশোকে নিয়ে ৭২ রানের জুটিতে প্রাথমিক জবাব দেন মুশফিকুর রহিম। জুটিতে রুশোর অবদান ৪২ রান।

৩৫ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৪২ রান করে কামরুল ইসলাম রাব্বির শিকার হন রুশো। তার বিদায়ের পরও মাত্র ১১.৪ ওভারে ১০০ রান তুলে ফেলে খুলনা। রানের চাকা ঘোরানোর কাজটা শামসুর রহমান শুভকে নিয়ে বেশ দারুণভাবেই করেন মুশফিকুর রহিম। খুলনা কাপ্তান শুভকে নিয়ে যোগ করেন ৬১ রান। আর তাতেই দল পেয়ে যায় জয়ের ভিত্তি, ততক্ষণে ফিফটিতে পৌঁছে যান মুশফিক। ৩০ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ফিফটি স্পর্শ করেন এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান।

২০ বলে ২৯ রান করে শুভ ফিরে গেলে, রবি রাইলিঙ্ককে নিয়ে বাকি পথ অনায়েসেই পাড়ি দিতে পারতেন মুশফিক। তবে ব্যক্তিগত ৯৬ রানে সেঞ্চুরি হাঁকানোর তাড়নায় ছক্কা হাকাতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অনে। সেঞ্চুরি পেতে বাউন্ডারি হাঁকানোর বিকল্পও ছিলনা অবশ্য মুশফিকের হাতে, দলের জয়ের জন্য লাগে মাত্র ২, তার সেঞ্চুরি ছুঁতে ৪! মুশফিক ৫১ বলে ৯ চার ৪ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। খুলনা ম্যাচ জিতে ৫ উইকেটে, ফ্রাইলিঙ্ক অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে।

রাজশীর হয়ে রাসেলের শিকার সর্বোচ্চ দুটি উইকেট। একটি করে শিকার কামরুল ইসলাম রাব্বি, আফিফ হোসেন ও শোয়েব মালিক।

চট্টগ্রামের উইকেট এমনিতেই ব্যাটসম্যানদের জন্য স্বর্গ বলা যায়। তবে এরপরও ‘টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার’ তত্ব থেকে বের হতে পারেনি খুলনা টাইগার্স। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২৬ রানেই বিদায় নেন ওপেনার হযরতউল্লাহ জাজাই ও লিটন কুমার দাস। এরপর আফিফ হোসেনকে নিয়ে ৪০ রানের জুটিতে শোয়েব মালিক প্রথম প্রতিরোধ গড়েন। ১৭ বলে ২ ছক্কায় ১৯ রান করে আফিফ ফিরে যান শহিদুল ইসলামের বলে।

পরের গল্পে কেবলই মালিক-বোপারা যদিও নায়কের ভূমিকায় শোয়েব মালিকই। দুজনে মিলে জুটিতে যোগ করেন ১০৬ রান। দুই অঙ্কের রানে পৌছানোর আগে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়েছিলেন মালিক। তবে সে ক্যাচ নিতে পারেননি মুশফিক। ৩৮ বলে ফিফটিতে পৌঁছানো মালিক সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ফিরেছেন ৮৭ রান করে।

যেভাবে খেলছিলেন মনে হচ্ছিল এবারের বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরিটি তার হাত ধরেই আসবে কিন্তু স্বদেশী মোহাম্মদ আমিরের ১৯ তম ওভারে শর্ট বলে ব্যাটে-বলে ঠিকমত সংযোগ করাতে না পেরে ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্তের হাতে। ৫০ বলে ৮ চার ৪ ছক্কায় ৮৭ রানের ইনিংসটি সাজান মালিক। মালিক আউট হওয়ার সুবাধে টুর্নামেন্টে প্রথমবার ব্যাট হাতে ক্রিজে নামেন আন্দ্রে রাসেল।

৬ বলের ছোট্ট ইনিংসে ১ চার ১ ছক্কায় ১৩ রানে থাকেন অপরাজিত, অন্যদিকে রবি বোপারার ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৪০ রান, ২৫ বলের ইনিংসে ছিল ২ চার ২ ছক্কা। ৪ উইকেটে তোলা রাজশাহীর ১৮৯ রানই এখনো পর্যন্ত এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ৩৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে খুলনার সেরা বোলার আমির, একটি করে শিকার রবি ফ্রাইলিঙ্ক ও শহিদুলের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

রাজশাহী রয়্যালস ১৮৯/৪ (২০) লিটন ১৯, জাজাই ১, আফিফ ১৯, মালিক ৮৭, বোপারা ৪০*, রাসেল ১৩*; আমির ৪-০-৩৬-২, ফ্রাইলিঙ্ক ৪-০-২৯-১, শহিদুল ৪-০-৩৫-১।

খুলনা টাইগার্স ১৯২/৫ (১৯.৪), শান্ত ০, রহমানউল্লাহ ৭, রুশো ৪২, মুশফিক ৯৬, শুভ ২৯, ফ্রাইলিঙ্ক ১৪*, বিপ্লব ০*; রাসেল ৪-০-৪১-২, রাব্বি ২-০-১৮-১, আফিফ ৩-০-২৪-১, বোপারা ২.৪-০-৩২-১।

ফলাফলঃ খুলনা টাইগার্স ২ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ মুশফিকুর রহিম (খুলনা টাইগার্স)।