‘মন্ত্রীর বাইরে’ সাধারণ সম্পাদক খুঁজছে আওয়ামী লীগ!

185
Print Friendly, PDF & Email

ঋত্বিক তারিক, ঢাকা:
আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে দলের দায়িত্ব পালনে মন্ত্রীর বাইরে একজন সাধারণ সম্পাদক খোঁজা হচ্ছে বলে দলে জোর আলোচনা রয়েছে। দলীয় প্রধান এবার দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মন্ত্রীর বাইরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ‘শুধু দল করবেন’ এমন কাউকে বেছে নেবেন বলেও আলোচনা রয়েছে। আর মন্ত্রী থেকে কেউ দলের সাধারণ সম্পাদক হলে তাকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তেই হবে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দলের সাধারণ সম্পাদক যেন মন্ত্রীর বাইরের কেউ হন- দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। কারণ দলের সাধারণ সম্পাদক যিনি হবেন তাকে দলের অনেক সাংগঠনিক বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। এছাড়া আগামী বছর মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তাই সাধারণ সম্পাদক যে-ই হবেন তাকে তিনি মন্ত্রিত্ব দিতে চাচ্ছেন না।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের একাধিকবার হুঁশিয়ার করে বলেছেন, দল না থাকলে সরকার থাকবে না। তাই দলকে শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দলীয়প্রধান দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাই এবার দলের জন্য যিনি সর্বোচ্চ সময় দিতে পারবেন তাকেই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করতে চান শেখ হাসিনা। দলের অন্য নেতারা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও দলের সাধারণ সম্পাদককে এবার মন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হবে না। সেক্ষেত্রে মন্ত্রিপর্যায় থেকে কাউকে সাধারণ সম্পাদক করতে হলে তাকেও ছাড়তে হবে মন্ত্রিত্ব। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার দলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বেশি।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন, দলের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে দলীয় প্রধানের পর্যবেক্ষণ সঠিক। কারণ সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিতে হলে এমনটাই হওয়া প্রয়োজন। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাই হলেন দলের জন্য বর্তমান সময়ে অপরিহার্য। তিনি বর্তমান সময়ে দলের জন্য যে চিন্তা করবেন তা অবশ্যই ভেবে-চিন্তেই করবেন, যা হবে দলের জন্য যুগান্তকারী।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, গত ২২ দিনে ২৮টি জেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু গত ৩ বছরে আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলনগুলো কেন হলো না- এমন প্রশ্নও আছে দলের মধ্যে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ব্যর্থ নন। তার অনেক সফলতা রয়েছে। তবে মন্ত্রিত্বের বাইরে কাউকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে তিনি দলের জন্য আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারতেন। সার্বক্ষণিকভাবে দলের জন্য চিন্তা করা তার জন্য সুবিধা হতো। কারণ একজন ব্যক্তির পক্ষে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘মন্ত্রী’ ও দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘সাধারণ সম্পাদক’ একইসঙ্গে পালন করা কঠিন।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলছেন, দলে আলোচনা রয়েছে যে, ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশের রাজনৈতিক দলে যারা মন্ত্রিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আছেন তাদের দলের সাধারণ সম্পাদকের মতো দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয় না। কারণ একইসঙ্গে মন্ত্রিত্ব ও দলের সাধারণ সম্পাদকদের দায়িত্ব পালন করা একজন মানুষের জন্য অনেক কঠিন ব্যাপার হয়ে যায়। এ জন্যই দলীয় সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রিত্বের বাইরে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন শেখ হাসিনা। তা ছাড়া, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতায় থাকায় মন্ত্রীর বাইরে কাউকে দায়িত্ব দিলে দলের জন্যই তা ভালো হবে বলে তারা মনে করেন। কেন্দ্রীয় নেতারা আরও বলছেন, ক্ষমতা ছেড়ে দলীয় দায়িত্ব পালনকেই বেছে নিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও সেই বিষয়টি করা হলে তার দলের জন্য বেশ ভালো সিদ্ধান্ত হবে বলেই তারা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো মন্ত্রীকে যদি দলের সাধারণ সম্পাদক অথবা মন্ত্রিত্ব- এ দুটির একটি বেছে নিতে বলা হয় তবে অনেকেই হয়তো মন্ত্রিত্ব বেছে নেবেন। তবে বর্তমান সময়ে দলের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারেন এমন একজনকেই অনেক বেশি প্রয়োজন।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, দলের ভবিষ্যৎ সাধারণ সম্পাদক কাকে করা যায় দলীয়ভাবেও এমন একটি মূল্যায়ন করিয়েছেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা। এক ডজন কেন্দ্রীয় নেতার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া দলীয়ভাবেও কাকে দলের ভবিষ্যৎ সাধারণ সম্পাদক করা যায় এ ধরনের একটি মূল্যায়ন এরইমধ্যে শেখ হাসিনা হাতে নিয়ে রেখেছেন। এর মধ্যে দলের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর নেতা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্যও রয়েছেন। সরকারি সংস্থা এবং নিজের মূল্যায়ন– এ দুটি নিয়ে গবেষণা করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

এদিকে দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের আসন্ন ২১তম সম্মেলনে গঠনতন্ত্রের বড় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তেমন কোনো সংযোজন-বিয়োজন নয়, শুধু সময়োপযোগী করে এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরইমধ্যে এ খসড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমাও দিয়েছে সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত গঠনতন্ত্র পরিবর্তন বিষয়ক উপ-কমিটি।