খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গাছিরা

16

দক্ষিণ-পশ্চিম করসপন্ডেন্ট:
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর, কুষ্টিয়াসহ ১০ জেলায় গাছিদের নিরলস পরিশ্রম জানান দিচ্ছে- শীত দরজায় কড়া নাড়ছে। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা এক গাছ থেকে আরেক গাছে উঠে রস সংগ্রহের প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ করছেন। কয়েক হাজার গাছির সারা বছরের রুজি-রুটি নির্ভর করে এ পেশার উপর। এরইমধ্যে খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই।

প্রায় বিলুপ্ত হতে যাওয়া খেজুর গাছ নিয়ে যখন গাছিরা যখন ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নানা প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে গাছ কিনে তা ইটভাটায় বিক্রির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তবে খেজুরগাছ সংকটের কারণে এ বছরও চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করেছেন সংগ্রহকারীরা।

সরেজমিনে বাগেরহাটের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এক সময় খ্যাতি থাকলেও কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস ও গুড়। কয়েক বছর আগেও এই এলাকার প্রতিটি বাড়িতে, খেতের আইলের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুরগাছ। কোনো পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে এগুলো বেড়ে উঠতো। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো গুড়। অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এলাকার চাহিদা পূরণ করে বাড়তি গুড় সরবরাহ করা হতো দেশের বিভিন্নস্থানে।

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, লবণ পানির আগ্রাসন ও জ্বালানি হিসেবে ইট ও টালি পোড়ানোর কাজে অবাধে খেজুর গাছ ব্যবহারের ফলে মারাত্মকভাবে কমে যায় খেজুরগাছ। বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা ক্ষেত-খামারের পাশে, এমনকী রাস্তাঘাটের পাশেও দেখা মেলে না খেজুরগাছের। অনেকটাই বিলুপ্তির পথে পরিবেশবান্ধব গুরুত্বপূর্ণ এ গাছ।

একসময় রস সংগ্রহ করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করলেও বেশিরভাগই ছেড়ে দিয়েছেন এ পেশা। দু’একজন এখনো ধরে রেখেছেন। রস সংগ্রহকারী (গাছি) ফজলু শেখ, কাদের শেখ, রহমান ফকির জানান, তিন-চার দিন হচ্ছে রস সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে এখনো রস বেশি মিলছে না। শীত বাড়লে রসের পরিমাণও বাড়বে।