‘কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ বলা গর্হিত এবং রাষ্ট্রবিরোধী

5
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে দৈনিক ‘সংগ্রাম’ নিজেদের প্রতিবেদনে ‘শহীদ’ বলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এটা অবশ্যই গর্হিত এবং রাষ্ট্রবিরোধী সংবাদ। আমরা এই সংবাদ প্রত্যাখ্যান করি, এটি কোনওভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এমন সংবাদের তীব্র বিরোধিতা করছি। দৈনিক সংগ্রামকে এর দায় নিতে হবে এবং জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্পেন সফররত তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ দেশে ফিরলেই সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। স্পেন থেকে তিনি দেশে ফিরলে করণীয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। আমি এবং মন্ত্রী মহোদয় একসাথে অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া জানাবো।

নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন হারানো রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত এ জাতীয় দৈনিকে আজকের (শুক্রবার) প্রকাশিত পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘শহীদ কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী আজ’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘আজ ১২ ডিসেম্বর শহীদ কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী। ২০১৩ সালের এই দিনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করে সরকার। জাতিসংঘের মহাসচিব থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকার সংগঠনের অনুরোধ উপেক্ষা করেই ফাঁসি কার্যকর করা হয়…।’’

দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত প্রতিবেদন এরই মধ্যে জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে বিস্তর সমালোচনা। এই প্রতিবেদনকে ধৃষ্টতা বলেও আখ্যায়িত করেছেন অনেকে।

তরুণ সাংবাদিক দীপন নন্দীর স্ট্যাটাস থেকে নেয়া

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথম ফাঁসি কার্যকর করা হয় রাজাকার কাদের মোল্লার। কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জল্লাদ শাজাহান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল সেদিন ফাঁসি কার্যকর করে।

এর আগে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধে রাজাকার কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২। রায়ের পর সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সেদিন বিকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে জড়ো হতে থাকে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শাহবাগ চত্বরে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ।

গণদাবির মুখে সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনালস) সংশোধন বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনের ফলে ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার সুযোগ তৈরি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রাণদণ্ড পায় একাত্তরের এই ঘাতক।

মিরপুরের কসাইখ্যাত দণ্ডপ্রাপ্ত সেই কাদের মোল্লাকে ৬ বছর পরও ‘শহীদ’ বলার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির আর সাবেক ছাত্রসংঘের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম।