শানাকা ঝড়ের পর বোলারদের তোপে কুমিল্লার বড় জয়

8
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে দাসুন শানাকার ঝড়ো ইনিংসে প্রত্যাশার চাইতে বড় সংগ্রহই পায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। আর বোলারদের দাপটে ১৭৪ রানের লক্ষ্য পাহাড়সম হয়ে পড়ে রংপুর রেঞ্জার্সের ব্যাটসম্যানদের জন্য। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় মাত্র ৬৮ রানে। কুমিল্লা টুর্নামেন্ট শুরু করে ১০৫ রানের বড় জয়ে।

মিরপুরের উইকেটে এমনিতেই ১৭০ এর বেশি তাড়া করা বেশ কঠিন লক্ষ্যই। আর শুরুটা যদি হয় ভঙ্গুর তবে সে পথ পাড়ি দিতে প্রতিপক্ষের দাসুন শানাকার ভূমিকা নিতে হত রংপুর রেঞ্জার্সের ব্যাটসম্যানদের একজনকে। কিন্তু সেটা তো হয়ইনি উলটো অসহায় আত্মসমর্পণ। স্বদেশি মুজিব উর রহমানের বলে ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদকে দিয়ে সাজঘরে ফেরার মিছিল শুরু, ৫০ রান তুলতেই বিদায় নেয় রংপুরের ৫ ব্যাটসম্যান।

একে একে বিদায় নেন নাইম শেখ, জহুরুল ইসলাম অমি, ফজলে রাব্বি, লুইস গ্রেগরি, মোহাম্মদ নবিরা। এরপর লোয়ার মিডল অর্ডার টিকেছে মাত্র ১৪ ওভার। চোটে পড়ে নামতে পারেননি জাকির হাসান। সর্বোচ্চ ১৭ রান আসে নাইম শেখের ব্যাট থেকে। এছাড়া ১৩ রান করেন মোহাম্মদ শেহজাদ, ১১ রান আসে মোহাম্মদ নবির ব্যাট থেকে।

কুমিল্লার বোলিং আক্রমণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল ম্যাচ জয়ে, তিনটি উইকেট নেন আল আমিন হোসেন। দুটি করে সানজামুল ইসলাম ও সৌম্য সরকার। একটি করে শিকার আবু হায়দার ও মুজিব উর রহমানের।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে কুমিল্লার শুরুটাও ছিল অনেকটা রংপুর রেঞ্জার্সের মতই। ইনিংসের প্রথম বলেই মোহাম্মদ নবির বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মিডল অর্ডার থেকে হুট করে ওপেনার বনে যাওয়া ইয়াসির আলি রাব্বি। ৪৩ রানে ৩ উইকেট ও ৮৯ রানেই হারায় ৬ উইকেট। এরপরের গল্পটা কেবলই শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান দাসুন শানাকার। অধিনায়কোচিত এক ইনিংসে দলকে এনে দেন বড় পুঁজি। ১৫.৪ ওভারে ১০০ তে পৌঁছানো কুমিল্লা ইনিংস শেষ করে ৭ উইকেটে ১৭৩ রানে।

মিরপুরে অনেকটা ছক্কা বৃষ্টি নামিয়ে শানাকা খেলেন ৩১ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস। ইনিংসে ছক্কা ছিল ৯ টি, চার ৩ টি। যার মধ্যে ১৯ তম ওভারে মুস্তাফিজকে হাঁকান টানা চার ছক্কা, বল হারিয়েছে দুটি। শেষ ওভারে জুনায়েদ খানকে হাঁকান আরও তিনটি। এছাড়া কুমিল্লার হয়ে ২৬ রান করে সৌম্য সরকার, ২৫ রান আসে ডেভিড মালানের ব্যাট থেকে।

রংপুরের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজ, সঞ্জিত সাহা ও লুইস গ্রেগরি, একটি শিকার অধিনায়ক মোহাম্মদ নবির।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১৭৩/৭ (২০), রাব্বি ০, রাজাপাকশে ১৫, সৌম্য ২৬, মালান ২৫, সাব্বির ১৯, শানাকা ৭৫*, অঙ্কন ২, রনি ৬, সানজামুল ০*; নবি ৩-০-১৪-১, জুনায়েদ ৪-০-৪৭-০, সঞ্জিত ৪-০-২৬-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৭-২, তাসকিন ২-০-২৩-২, গ্রেগরি ৩-০-২৫-২।

রংপুর রেঞ্জার্স ৬৮/১০ (১৪), শেহজাদ ১৩, নাইম ১৭, জহুরুল ৫, রাব্বি ১, গ্রেগরি ০, নবি ১১, সঞ্জিত ০, জুনায়েদ ৩, তাসকিন ১, মুস্তাফিজ ৮*, জাকির (অ্যাবসেন্ট হার্ট); মুজিব ৩-০-৭-১, রনি ২-০-১৯-১, আল আমিন ৩-০-১৪-৩, সৌম্য ২-০-১২-২, সানজামুল ২-০-৪-২।

ফলাফলঃ কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১০৫ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ দাসুন শানাকা (কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স)।