মিরপুরে অধিনায়ক শানাকার ‘ছক্কা বৃষ্টি’

8

স্পোর্টস করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
এমনিতেই এবারের বিপিএলে খুব একটা সরব নয় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স, শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত কোন স্পন্সর পার্টনার না পাওয়া যাওয়ায় পুরোপুরি বিসিবির তত্বাবধনের দল এই একটিই। প্লেয়ার ড্রাফটে দলে নেওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিলনা কোন বড় তারকা, তবে জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার সৌম্য-সাব্বিরের থাকা কিছুটা আশা তৈরি করেছিল ভক্ত সমর্থকদের মনে। তবে সৌম্য-সাব্বিররা ব্যর্থ হলেও নিজেদের ১ম ম্যাচে লঙ্কান শানাকার ঝড়ো এক ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন মিডল অর্ডার থেকে হুট করে ওপেনার বনে যাওয়া ইয়াসির আলি রাব্বি। মোহাম্মদ নবির অফ স্পিনে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান, এরপর ভানুকা রাজাপাকশেকে নিয়ে কিছুটা লড়াই করেন সৌম্য সরকার। ৩০ বলের জুটিতে দুজনে তোলেন ৪১ রান, সঞ্জিত সাহার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে রাজাপাকশে (১৫) ফিরলে ভাঙে জুটি।

মুস্তাফিজের বলে এরপর দ্রুত ফিরে যান ১৮ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ২৬ রান করা সৌম্য সরকারও। সৌম্যের বিদায়ে ৪৭ রানে ৩ উইকেট হারানো কুমিল্লাকে পথ দেখাচ্ছিলেন ডেভিড মালান ও সাব্বির রহমান। কিন্তু সঞ্জিত সাহা আবারও আঘাত হানলে বেশি দূর এগোয়নি দুজনের জুটি (৩৮), ২৩ বলে ২৫ রান করে সঞ্জিতের বলে স্টাম্পিং হন ডেভিড মালান। এরপর ১৭ বলে তিন চারে ১৯ রান করা সাব্বিরকে সঞ্জিত সাহার ক্যাচে পরিণত করেন মুস্তাফিজ।

মাত্র ২ রান করে ফেরেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও, লুইস গ্রেগরির বলে বোল্ড হলে ৮৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। ১০০ রানে পৌঁছাতে ১৫.৪ ওভার খেলা কুমিল্লা শানাকার দুর্দান্ত এক ইনিংসে পায় ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানের সংগ্রহ পায়। ১০০ থেকে ১৫০ তে পৌঁছাতে কুমিল্লার লাগে মাত্র ২০ বল। ২৩ বলে ফিফটিতে পৌঁছানো লঙ্কান এই ব্যাটসম্যান খেলেন ৩১ বলে ৩ চার ও ৯ ছক্কায় অপরাজিত ৭৫ রানের অসাধারণ ইনিংস।

যার মধ্যে ১৯ তম ওভারে মুস্তাফিজকে হাঁকিয়েছেন টানা চার ছক্কা, বল হারিয়েছে দুটি। শেষ ওভারে জুনায়েদ খানকে হাঁকান আরও তিনটি।

প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১২ রান খরচায় দুই উইকেট শিকার করা মুস্তাফিজ নিজের চতুর্থ ওভারে খরচ করেন ২৫ রান। রংপুরের হয়ে মুস্তাফিজ ছাড়াও দুটি করে উইকেট নেন সঞ্জিত সাহা ও লুইস গ্রেগরি, একটি শিকার অধিনায়ক মোহাম্মদ নবির।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১৭৩/৭ (২০), রাব্বি ০, রাজাপাকশে ১৫, সৌম্য ২৬, মালান ২৫, সাব্বির ১৯, শানাকা ৭৫*, অঙ্কন ২, রনি ৬, সানজামুল ০*; নবি ৩-০-১৪-১, জুনায়েদ ৪-০-৪৭-০, সঞ্জিত ৪-০-২৬-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৭-২, তাসকিন ২-০-২৩-২, গ্রেগরি ৩-০-২৫-২।