বাংলা নাটকই শ্রেষ্ঠ: চলচ্চিত্রের অনুষ্ঠানে বললেন প্রধানমন্ত্রী

10

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
‘অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশের নাটক বেশি জীবনঘনিষ্ট’-জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসে টেলিভিশন নাটক নিয়ে এমন মন্তব্যই করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ সরকার চলচ্চিত্র শিল্পে গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ চলচ্চিত্রের বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রতি বছরই ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রদান করেন। রবিবার (৮ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিকাল চারটায় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ-এর স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। শুরুতেই বিগত দুই বছরে চলচ্চিত্রের চার গুণী ব্যক্তিত্ব এ টি এম শামসুজ্জামান, সুজাতা, প্রবীর মিত্র ও আলমগীরকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর একে একে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

পুরস্কার প্রদান শেষে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কথায় কথায় এক পর্যায়ে বাংলা চলচ্চিত্র দেখা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নিজেও খুব বেশি সিনেমা দেখার সুযোগ পাই না। কিন্তু যখন আমি বিদেশে যাই, তখন বিমানে বসে সিনেমা দেখি। বাংলা বইগুলো (সিনেমা) খুঁজে খুঁজে দেখি। আমার এতো ভালো লাগে, এতো চমৎকার চমৎকার সিনেমাগুলো করা হয় আমার ভীষণ ভালো লাগে। এ জন্য চলচ্চিত্রের মানুষদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতে আরো সুন্দর সুন্দর চলচ্চিত্র হোক, সেটাই আমি চাই।

এরপর কথা বলেন বাংলা নাটক নিয়েও। তিনি বলেন, এমনিতে তো সময় পাই না, ফাইল দেখতে দেখতে কিংবা নথি পড়তে পড়তেই দিন কেটে যায়। তবে মাঝে মাঝে টেলিভিশনে নাটক দেখি। কাউকে বদনাম করতে চাই না, অন্য জায়গার টেলিভিশন নাটকে যেমন শাড়ি-গয়নার কমপিটিশন, কিংবা সংসারের খুনসুঁটিপনা দেখি সে তুলনায় আমাদের নাটকগুলো অসাধারণ। আমাদের প্রত্যেকটা নাটকের ভেতর এতো জীবনধর্মী স্পর্শ রয়েছে, যার থেকে অনেক কিছু জানা যায়, শেখা যায়, অনেক কিছু বোঝা যায়। কাজেই সেদিক থেকে বলবো আমাদেরগুলো সব থেকে শ্রেষ্ঠ।

প্রধানমন্ত্রীর এমন কথায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত দর্শকের মধ্যে তুমুল কড়তালি পড়ে। প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষ করে সন্ধ্যা ৭টায় তিনি অংশ নিবেন শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু বিপিএল-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে।