খালেদার মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভে নাশকতার আশঙ্কায় সতর্ক র‌্যাব-পুলিশ

10
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট ঢাকা:
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ-মিছিল কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এরই অংশ হিসেবে রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে থেকে রাস্তায় নামছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। কর্মসূচিকে ঘিরে নাশকতা এড়াতে রাজধানীতে র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই রাজধানীর প্রত্যেক থানায় ওয়ার্ডে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা যায়। তারা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিস, আশপাশের সকল স্থাপনায় নাশকতা ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা করছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। গত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার দুপুরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে উচ্চ আদালত এবং রাস্তা অবরোধের পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই গোয়েন্দারা গতকাল শনিবার রাতে এক প্রতিবেদনে এমন আভাস দেন।

গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, বিএনপির এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ঢাকায় প্রায় ৩ হাজার লোকের সমাগম ঘটতে পারে। এর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতকাল বিজয়নগর মাহতাব সেন্টারে বিএনপির এক শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ঢাকা ও তার আশপাশের বিএনপির হেভিওয়েট নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার লোকের সমাগমের দায়িত্ব দেয়া হয় তেজগাঁও এলাকার শীর্ষ এক নেতা ও রমনা মতিঝিল এলাকার শীর্ষ বিএনপি নেতার উপর। এ সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নয়াপল্টনে অবস্থান এবং বিক্ষোভের পাশাপাশি বিজয়নগর, পল্টন ও নয়াপল্টনে নাশকতাও ঘটাতে পারে।

গোয়েন্দা সূত্র আরও বলেছে, বিক্ষোভে রাজধানীতে প্রায় ৪ হাজার লোকের সমাগম করবে বিএনপি। খালেদা জিয়ার জামিনের ক্ষেত্রে শো ডাউনের মাধ্যমে সরকারকে জানান দিবে তারা। এমনটাই হাই কমান্ড থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এসব বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তথ্য পেয়ে সরকারও হার্ডলাইনে রয়েছে। গতকাল শনিবার রাতেই ভিআইপি রোড ও মন্ত্রিপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শাহবাগ, পল্টন, প্রেসক্লাব, দোয়েল চত্বর, কাকরাইল, মৎসভবন মোড়, হাইকোটের সকল প্রবেশ পথে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে স্ট্রাইকিং ফোর্স, জলকামান, এপিসি, রায়টকার ও দমকল বাহিনীর ইউনিট।

এছাড়া থাকছে র‌্যাবের সাঁজোয়া যান, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ভিআইপি রোডের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ চৌকি বসিয়ে তল্লাশি করবে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি যদি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে তাতে পুলিশ কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করবে না। কিন্তু এ কর্মসূচির অজুহাতে তারা যদি জনগণের জানমালের ক্ষতি বা নাশকতার পথ বেছে নেয় তাহলে তা বরদাস্ত করা হবে না। সেখানে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা নাশকতা অথবা বিক্ষোভ মিছিল থেকে ভাঙচুর অবরোধ চলবে না। কোন রকমের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় এবং অন্যান্য মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়া ওই সময়ে রাজধানীর দেশের বিভাগীয় শহরে মশাল মিছিল বের করে বিএনপি নেতাকমী ওসমর্থকগন।