মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর সেই ‘দায় মোচন’

21
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
৩ বলে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে না পারা বেঙ্গালোরের সেই জুটিই এবার দিল্লি জয় করে দেখালেন। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেদিন পারেননি মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। রোববার আর নির্ঘুম রাত আসতে দিলেন না দুজনে। তাতে টি-টুয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে নবম ম্যাচে এসে মিলল প্রথম জয়ের দেখা।

অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে রোহিত শর্মার দলকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ শুরু করেছে মাহমুদউল্লাহর দল। অপরাজিত ৬০ রান করেন মুশফিকুর রহিম জয়ে নোঙর ফেলেই মাঠ ছেড়েছেন।

সাড়ে তিন বছর। সাড়ে তিন বছর আগের এক বেদনার স্মৃতি।

বেঙ্গালুরুতে সেদিন জয়ের খুব কাছে গিয়েও হারের স্মৃতি দুঃসহ যন্ত্রণা দিয়েছে বহুদিন। ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ওই ম্যাচের কথা চাইলেও ভুলতে পারবে না বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে যখন আরেকবার টি-টুয়েন্টির লড়াই, ঘুরে-ফিরেই আসছিল সাড়ে তিন বছর আগের ওই হারের প্রসঙ্গ।

৩ বলে ২ রান করতে না পারার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়ায় ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সহজাতভাবেই দুঃখ বোধ ঝরে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠে, ‘হ্যাঁ, ভারতের সঙ্গে আমরা খুব কাছে গিয়ে কিছু ম্যাচ হেরেছি। সামনে সুযোগ আসলে আর ভুল করতে চাই না।’

সেই ভুলটা এদিন করেননি অধিনায়ক। ম্যাচ জিতিয়ে যখন মাঠ ছাড়েন, নামের পাশে এক চারে ৪ বলে অপরাজিত ৭ রানের ইনিংস। ছোট, কিন্তু কার্যকরী।

তবে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে কাজের কাজটা করেছেন আসলে মুশফিক। ৮ চার ও এক ছক্কায় ৪৩ বলে অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস। বেঙ্গালোর দুঃস্বপ্নের পর বহুবারই ঘুরেফিরে এসেছে না পারার বেদনা। মুশি বারবার বলেছেন আরেকবার সুযোগ পেলে কাজে লাগাবেন। দিল্লির ম্যাচের পর মুশির মন থেকে একটা পাথর সরে যাবে নিশ্চিতভাবেই!

দারুণ এই জয়ের জন্য অবশ্য অভিষিক্ত নাঈম শেখের ২৬, সৌম্য সরকারের ৩৯ রানও কম মূল্যের নয়। তাদের লড়াইয়েই তো পথে ছিল বাংলাদেশ। বোলিংয়ে তরুণ আফিফ, অনভিজ্ঞ আমিনুল, অভিজ্ঞ শফিউল, কাকে ছেড়ে কার কথা বলা যায়! এই ম্যাচে আসলে আলাদা করে নয়, জ্বলেছে পুরো দলই। আর তাতেই আলোকিত লাল-সবুজের বাংলাদেশ।